‘চৌর্যবৃত্তির’ তদন্ত ঝুলে আছে

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

‘চৌর্যবৃত্তির’ তদন্ত ঝুলে আছে

ওমর হায়দার ১২:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

print
‘চৌর্যবৃত্তির’ তদন্ত ঝুলে আছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের (ক্রিমিনোলজি) বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথভাবে করা একটি গবেষণা প্রবন্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠে সম্প্রতি। অভিযোগ উঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৬ সপ্তাহ পার হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

.

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমদ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার পর তদন্ত কমিটির মেম্বারদের সাথে বসতে সময় লাগে। অনেক সময় আমার সময় হয় না, অনেক সময় উনাদেরও সময় হয় না।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান এবং প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান দুই শিক্ষক মিলে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লেখেন। যা গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’-এর ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশ হয়। পরে ওই প্রবন্ধের বিরুদ্ধে ‘চৌর্যবৃত্তি’র অভিযোগ আনে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।

শিকাগো প্রেসের অভিযোগ, প্রবন্ধের সিংহভাগ নেওয়া হয়েছে প্রখ্যাত দার্শনিক মিশেল ফুকোর প্রবন্ধ ‘The Subject and Power’ থেকে। ১৯৮২ সালে তা শিকাগো জার্নালে প্রকাশিত হয়। এর প্রকাশক ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস। দুই শিক্ষকের প্রবন্ধের ৬২ শতাংশই নকল বলে অভিযোগ উঠে।

ওই দুই শিক্ষকের লেখা প্রবন্ধটির নাম হচ্ছে, ‘A New dimension of Colonialism and Pop Culture: A case study of the Cultural Imperialism’.

গবেষণায় ‘চৌর্যবৃত্তির’ অভিযোগ উঠায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিকাগো জার্নালের সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই অভিযোগ জানায়। শিকাগো জার্নাল জানায়, Critical Inquiry জার্নালের ১৯৮২ সালের অষ্টম ভলিউমের ৪ নম্বর সংখ্যায় মিশেল ফুকোর ওই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

শুধু মিশেল ফুকোই নয়, মার্কিন দার্শনিক অধ্যাপক এডওয়ার্ড সাঈদের একটি নিবন্ধ থেকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সামিয়া রহমান ও মাহফুজুল হক মারজান লেখা কপি করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।
সাঈদ একাডেমি অব প্যালেস্টাইন থেকে করা ওই অভিযোগ বলা হয়, এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ এর ‘টু ভিশন ইন হার্টনেস অব ডার্কনেস’, ‘কনসোলিডেটেড ভিশন’, এবং ‘ওভারলেপিং টেরোরিস্ট, ইন্টারউইন্ড হিস্টোরিস্ট’ আর্টিকেল থেকেও লেখা কপি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এই দুই শিক্ষকের লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার: এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ আর্টিকেলের ৮৯, ৯০ ও ৯১ পৃষ্ঠায় এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ এর ৫, ৬, ৬৬, ৬৭, ৬৮ এবং ১১৯ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে কপি করা হয়েছে।

শিক্ষকের এমন গবেষণা জালিয়াতি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হয় সর্বত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সামিয়া রহমান বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোরের ‘হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’-এর দায়িত্ব পালন করছেন।

গবেষণা তদন্ত প্রতিবেদন কখন শেষ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ৪ সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার নিয়ম। যেহেতু হয়নি, তাই সময় বাড়িয়েছি। কখন শেষ হবে এটা বলতে পারি না। তদন্তে একটু বেশি সময় লাগে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো দুইটা তদন্ত চলছে।’

ওএইচ/আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad