‘প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

‘প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই’

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৭

print
‘প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা তার দায়িত্বে আর ফিরতে পারবেন না বলে মনে করেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল মতিন খসরু। বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আই টেলিভিশনে প্রচারিত ‘বিবিসি প্রবাহ’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে শুক্রবার বিবিসি বাংলা অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

.

মতিন খসরু বলেন, ‘বিচারক যদি কখনও বিতর্কিত হন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, ওনার সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে হয়। অন্যান্য বিচারপতিদের কাছে মাননীয় বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন- উনি রিজাইন (পদত্যাগ) করবেন।’

‘রিজাইন করার পরিবর্তে উনি একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে চলে গেলেন... আবার এসে চেয়ারে বসতে চাচ্ছেন। অন্য বিচারপতিরা বলেছেন, আমরা ওনার সাথে আর বসব না। ওনার আসার আর সুযোগ নাই। আমার মনে হয় এটা সুদূরপরাহত’ যোগ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, ‘কোটি কোটি, চার কোটি-পাঁচ কোটি পে-অর্ডার... ব্যাংকে পাঁচ কোটি দশ কোটি টাকার লেনদেন - এটা কোত্থেকে হলো?’

দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সময় চলে যায়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়ায় সরকারের চাপে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন- এমন অভিযোগের জবাবে মতিন খসরু বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের সঙ্গে এস কে সিনহার ছুটির কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ষোড়শ সংশোধনীর রায় প্রধান বিচারপতি একা দেননি।

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে নিজেকে সুস্থ দাবি করে প্রধান বিচারপতির দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২ অক্টোবর আপনি বললেন অসুস্থ লিখিতভাবে, এখন মুখে বলতেছেন সুস্থ। মানুষ কোনটাকে বিশ্বাস করবে?’

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এটা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে পারতেন। সেটাতেও সুপ্রিম কোর্টের জাজেরাই থাকতেন। কাউন্সিল হইলেই চিফ জাস্টিস কিন্তু ডিসপিউটেড হয়ে যেতেন। তিনি আর কোর্টে বসতে পারতেন না। এটুকু করলেই তো হয়ে যেতো।’

তবে এ বিষয়ে মতিন খসরু বলেন, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল বর্তমানে বিদ্যমান নেই এবং এটা নতুন আইনের মাধ্যমে করতে হবে।

প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের দালিলিক তথ্যাদি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের অন্য পাঁচজন বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এরআগে গত ১ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। পরে তার ছুটি আরো নয় দিন বাড়িয়ে ১০ নভেম্বর করা হয়েছে।

এই ছুটি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সারে আক্রান্ত, নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এজন্য তিনি একমাসের ছুটি চেয়েছেন।

ওই সময় প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদন সাংবাদিকদের দেখান আইনমন্ত্রী। এতে লেখা ছিল, ‘আমি ইতিপূর্বে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। বর্তমানে আমি শারীরিক জটিলতায় ভুগছি।’

এরপর ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধান বিচারপতি। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে রাজধানীর হেয়ার রোডের বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত।’

এমএসআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad