জামিন জালিয়াতি: ক্ষমা চাইলেন সিনিয়র জেল সুপার

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

জামিন জালিয়াতি: ক্ষমা চাইলেন সিনিয়র জেল সুপার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

print
জামিন জালিয়াতি: ক্ষমা চাইলেন সিনিয়র জেল সুপার

ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার এক আসামির কারামুক্তির ঘটনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

সোমবার ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে পরে আদেশ দিবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে এদিন ওই মামলায় পালিয়ে যাওয়া আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এর আগে  গত ১০ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক আট আসামির সাতজনকে ওইদিন কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করেন। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি মিজান মাতুব্বরকে আদালতে হাজির না করলে ঢাকা কেন্দ্রীয়  কারাগারের জেলারকে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।

জেল সুপার তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ আগস্ট ঢাকার চার নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ৪৩০ নম্বর স্মারকমূলে আদালতের পত্রবাহক তৈয়বের মাধ্যমে আসামি মিজানের জামিনামা ও রিলিজ আদেশ পায় জেল কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট আদালত হতে ফোন দিয়ে মিজানকে আদালতে হাজির না করার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ওইদিন জানতে পারেন যে আদালত থেকে মিজানের জামিন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি ফোরকান মিয়া বলেন, তাদের ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনো ছাড়পত্র কারাগারে যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষ কোনো জামিনের ছাড়পত্র পেলে তাদের যাচাই করা উচিত ছিল যা তারা করেননি। তাই এখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২ মে মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন স্টাফ রোড এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচ হতে শিশু আবীরকে (৮) তাদের প্রাইভেটকার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় অপহকরণকারীরা। এরপর অপহরণকারী ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে একাধিক ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং নগদ ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে অপহরণকারীরা শিশু আবীরকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ঘটনায় আবীরের মামা এনায়েত উল্লাহ বাদি হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করলে র‍্যাব ৫ আসামিকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসামি মিজান, রেজাউল ও নজরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এমআই/এএসটি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad