চেয়ারম্যানের গুলির পর রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

চেয়ারম্যানের গুলির পর রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৯:০৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭

print
চেয়ারম্যানের গুলির পর রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন হত্যাকাণ্ডে পাবেল নামে এক আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২০-২৫ জন এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে পালিয়ে যায় সকলে।

পাবেল ইউনিয়নের কালাপাহাড়িয়া গ্রামের মৃত. আজগর আলীর ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব উদ্দিন ১৬৪ ধারায় আসামি পাবেলের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এরআগে গত শুক্রবার বিকেলে পাবেলসহ ৩ জন আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল জেলা ডিবি। এদের মধ্যে ২ জন ডিবির হেফজতে রয়েছে।’

আসামি পাবেলের দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি’র এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন মোট ৫টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তার প্রথম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় আড়াইহাজারের খাকান্দা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির সিরাজী। চেয়ারম্যান হওয়ার পর আরো ৪টি হত্যা করেছে স্বপন। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডে স্বপন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় এসআই নাসির সিরাজীসহ পৃথক ৪টি হত্যায় স্বপন আসামি হয়নি। কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় হত্যা করায় এটি থেকে স্বপন নিজের নাম আড়াল করতে পারেনি।

তিনি আরো জানান, রুবেল হত্যাকাণ্ডের দিন চেয়ারম্যান স্বপনের ডাকে ৩০০-৪০০ লোক একত্রিত হয়। এরপর স্বপনের গুলিতে রুবেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ২০ থেকে ২৫ জন মিলে রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্যরা বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট করে।

নিহত রুবেলের বড়ভাই মামলার বাদী কামাল হোসেন জানান, তার বাবা রূপ মিয়া মেম্বার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হওয়ায় তাকে বার বার নির্যাতিত হতে হয়েছে। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে একাধিকবার তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। তার বাবা রূপ মিয়ার হাত কেটে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এরপরও তার বাবাকে হত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে রুবেলকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এপি/জেআই

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad