সুমীকে মাসে লাখ টাকা দিতেন শাহাবুদ্দীন নাগরী

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | ১৫ বৈশাখ ১৪২৪

সুমীকে মাসে লাখ টাকা দিতেন শাহাবুদ্দীন নাগরী

এ এইচ এম ফারুক ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৭

print
সুমীকে মাসে লাখ টাকা দিতেন শাহাবুদ্দীন নাগরী

নুরানী আক্তার সুমীর (৩৫) সাথে দীর্ঘ তিন বছর ধরে ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী। নিহত ব্যবসায়ী কাজী নুরুল ইসলামকে পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন সুমী। গত এক বছর ধরে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টে ৫ম তলায় থাকতেন তারা। এই অ্যাপার্টমেন্টেই নিজ শয়নকক্ষে গত ১৩ এপ্রিল নুরুল ইসলামকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

রহস্যজনক সেই মৃত্যুর মামলায় ৬২ বছর বয়স্ক কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী এখন পুলিশ রিমান্ডে। ২০১৫ সালে সচিব পদমর্যাদায় এনবিআরের মেম্বার পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এই গীতিকার।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সুমীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরেই কাজী নুরুল ইসলামের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে শাহাবুদ্দীন নাগরীর। নুরুল ইসলামের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতিতে শাহাবুদ্দীন নাগরী সুমীর সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরই মাঝে শাহাবুদ্দীন নাগরী ওই পরিবারকে মাসে প্রায় লাখ টাকা করে দিতেন। নুরুল ইসলাম এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন বলেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন হত্যার দায়ে গ্রেফতার হওয়া নুরানী আক্তার সুমী ও শাহাবুদ্দীন নাগরী।

নিউমার্কেট থানায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে থাকা আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা এসব তথ্য স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক বাবু কুমার স্বর্ণকারও পরিবর্তন ডটকমকে জানান, নিহত নুরুল ইসলামের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই প্রায় প্রতিদিন বা রাতে শাহাবুদ্দীন নাগরী বাসায় আসতেন। মাঝেমধ্যে সপ্তাহে দুই একদিন বাদ গেলেও টানা প্রায় এক বছর এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাসায় এসে তিনি দীর্ঘ সময় থাকতেন।

বাবু কুমার স্বর্ণকার আরো জানান, বাসাটির ভাড়া ২৭ হাজার, সার্ভিস চার্জ চার হাজার এবং বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ব্যক্তিগত গাড়ীর ড্রাইভারের বেতন ১৫ হাজার টাকা। এছাড়াও তাদের মাসের খরচ নুন্যতম ৩০ হাজার টাকার মতো ছিলো।

এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে সুমী ও নুরুল ইসলামের পরিবারের এই সম্পূর্ণ খরচ বহন করতেন শাহাবুদ্দীন নাগরী। জিজ্ঞাসাবাদে তারা উভয়েই এ তথ্য স্বীকার করেছেন বলেও জানা গেছে।

নিউমার্কেট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এখনো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আজ রিমান্ডের তৃতীয় দিন। রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য জানা যাবে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুমীর স্বামী কাজী নুরুল ইসলাম বেকার ছিলেন। তার কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য ছিলো না। তার উপর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যান। ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থাপক বাবু কুমার স্বর্ণকারও এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মতলুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ১৭০/১৭১ নম্বর ডম-ইনো অ্যাপার্টমেন্টে ৫ম তলায় ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে তার নিজ বেডরুমের ফ্লোর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল নিহত ব্যবসায়ীর বোন শাহানা রহমান কাজল বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী নুরানী আক্তার সুমী (৩৫), স্ত্রীর বন্ধু মো. শাহাবুদ্দীন নাগরীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে নিহতের স্ত্রী সুমী ও শাহাবুদ্দীন নাগরীকে গ্রেফতার করা হয়। একই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গাড়িচালক মো. সেলিম হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

বর্তমানে শাহাবুদ্দীন নাগরী, সুমি ও তার গাড়িচালক সেলিম নিউমার্কেট থানায় ৫ দিনের রিমান্ডে আছেন।

শাহাবুদ্দীন নাগরী দেশের একজন পরিচিত কবি ও সাহিত্যিক। ১৯৯০-এর দশকে পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখে বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে সমাদর লাভ করেন।

এএফ/এএসটি

নিহতের স্ত্রীকে গাড়ি দিয়েছিলেন ‘বয়ফ্রেন্ড’ শাহাবুদ্দীন নাগরী!

print
 

আলোচিত সংবাদ