খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাহার
Back to Top

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাহার

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২০

খালেদা জিয়ার জামিন প্রত্যাহার

মানহানির অভিযোগে নড়াইলে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া স্থায়ী (নিয়মিত) জামিন প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জামিন বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর অবকাশের এক সপ্তাহ পর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মবীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারানুম রাবেয়া।

এর আগে সকালে ওই মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এক বছরের স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট।

এরপর দুপুরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারানুম রাবেয়া আদালতকে জানান, এ মামলায় খালেদা জিয়া ২০২১ সাল পর্যন্ত জামিনে আছেন। আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি করতে চাই।

তখন আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে আগের জারি করা রুল শুনানি করতে নিজেদের রায় প্রত্যাহার করেন। আদালত বলেন, আমরা এ রুলের ওপর উভয়পক্ষকে শুনবো।

এরপর আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি করতে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সামিরা তারানুম রাবেয়া জানান, নড়াইলের মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে স্থায়ী জামিন দেওয়ার সময় আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) আদালতে উপস্থিত ছিলাম না। তাই পরে আমরা আদালতকে বলি, এই মামলায় খালেদা জিয়া ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত জামিনে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষের কাছে এই মামলার নথি নেই। আমরা রুল শুনানি করতে চাই। তখন আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে জামিন প্রত্যাহার করেন এবং তার জামিনের বিষয়ে জারি করা রুল পুনরায় শুনানির জন্য দিন ধার্য করে দেন। তাই তার জামিনের বিষয়ে পুনরায় রুল শুনানি হবে।

এদিন সকালে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। ওই সমাবেশে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।’

খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য সে সময় বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেন নড়াইলের জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ইমাম। পরে তিনি ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরও একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

ওএস/এসবি

আরও পড়ুন...
স্থায়ী জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও