ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান কাদেরের জামিন
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান কাদেরের জামিন

আদালত প্রতিবেদক ৭:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান কাদেরের জামিন

১১শ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা চার মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিক এমএ কাদেরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে জামিনের আদেশ দেন। এই চার মামলায় জামিন হওয়ায় এমএ কাদেরের মুক্তিতে বাঁধা আর বাধা নেই।

আসামির পক্ষে হযরত আলী জামিন চেয়ে বলেন, ‘তিনি একজন দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ১৬ হাজার কর্মচারী তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তিনি কারাগারে থাকলে এগুলো চলবে কেমন করে। তাছাড়া আমরা টাকা নিয়েছি, টাকা তো দিচ্ছি। তিনি অসুস্থ। জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না। এগুলো প্রতিষ্ঠান রেখে চলে যাবেন না।’ যে কোনো শর্তে তার জামিন প্রার্থণা করেন আইনজীবীরা।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, ‘রপ্তানি করবে এমন কাগজ দিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তোলে আসামি। কিন্তু রপ্তানি করেনি, কিছু করেনি। বরং টাকাগুলো আত্মসাৎ করে বিদেশ পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। জামিন পেলে আসামি পলাতক হবেন। তার জামিনের ঘোর বিরোধীতা করছি।’ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন।

দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘আসামির জামিনের আর বাধা নেই। আমরা জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

আদালত সূত্র জানায়, মেসার্স ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটের নামে রপ্তানি ঋণ সুবিধা গ্রহণ করে ৬৮ কোট ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার ১২০ টাকা; লেক্সকো লিমিটেডের নামে ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ টাকা; মেসার্স রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেডের নামে ৪৫৪ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ টাকা এবং মেসার্ম ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের নামে ৫০০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯৯ টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে তা স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান এমএ কাদের। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এ অভিযোগে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজার থানায় এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রতিটি মামলায় এমএ কাদেরসহ ১৬ থেকে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বছর ৩০ জানুয়ারি অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তের জন্য রাজধানীর কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে তাকে ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় এমএ কাদেরসহ ১৭ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় মানিলন্ডারিং আইনে পৃথক তিনটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

মামলার এজাহারে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ এবং রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের নামে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। এমএ কাদের ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান।

মামলায় জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা, চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। আব্দুল আজিজ সম্পর্কে এমএ কাদেরের ভাই। তিনি রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান। ওই মামলায় ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার পণ্য বিদেশে এক্সপোর্টের মাধ্যমে ওই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে বলা হয়।

এমআই/এইচকে

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও