এসআই মিন্টুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জাহিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

এসআই মিন্টুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জাহিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

আদালত প্রতিবেদক ৪:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

এসআই মিন্টুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, জাহিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে ব্যবসায়ী জনির প্রাণহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তৎকালীন পল্লবী থানার এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদসহ পাঁচজনের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা।

বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে যুক্তিতর্কে উপস্থাপনের সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী মশিউর রহমান এবং আবু তৈয়ব এ সাজা দাবি করেন।

পাশাপাশি তারা দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

বাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিপক্ষে ফারুক আহাম্মদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে এদিন তা শেষ হয়নি। আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার অবশিষ্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

মামলাটিতে এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও পুলিশের সোর্স মিন্টু কারাগারে আছেন। একই থানার এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাশেদ ও সুমন জামিনে ছিলেন।

বুধবার এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও সুমন আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এসআই রাশেদুল ইসলাম জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু তৈয়ব এ তথ্য জানান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেক নামের এক ব্যক্তির ছেলের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় নিহত জনি ও তার ভাই মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকে। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পু্লশিকে ফোন করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধরে থানায় নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে।

পরে থানায় নিয়ে জনিকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে জনিকে মারার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এই মামলায় এসআই জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এমআই/এসবি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও