জেএমবির সিরিজ বোমা হামলায় দুজনের যাবজ্জীবন
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

জেএমবির সিরিজ বোমা হামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ২:৫১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

জেএমবির সিরিজ বোমা হামলায় দুজনের যাবজ্জীবন

ঝালকাঠিতে ২০০৫ সালে আলোচিত জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর পর দুইজনকে যাবজ্জাীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক শেখ. মো. তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝালকাঠির বিকনা গ্রামের মো. ইউনুস মল্লিকের ছেলে মো. জিয়াউর রহমান এবং বৈদারাপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে ফরিদ হোসেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি অতিরিক্ত কৌঁসুলি আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু মামলার বিবরণে জানান, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পর পর পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঝালকাঠি শহর। একই সময় বোমার বিস্ফোরণ ঘটে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালত চত্বর, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, আইনজীবী সমিতি, সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর ও বিকনা টেম্পোস্ট্যান্ডে।

এ ঘটনায় ঝালকাঠি থানার তৎকালীন ওসি মো. সোহরাব আলী বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আহত অবস্থায় আটক ফরিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০০৬ সালের ২২ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

জেএমবির সদস্য ঝালকাঠির বিকনা গ্রামের মো. জিয়াউর রহমান ও আহত অবস্থায় আটক রিকশাচালক ফরিদ হোসেনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়।

ঘটনার দুই বছর পর অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন আদালত থেকে জামিন লাভ করে। পরে অপর অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানও জামিনে মুক্তি লাভ করে।  যুক্তিতর্কের দিন আদালত তাদের জামিন বাতিল করে। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করে ওই রায় ঘোষণা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. নাসির উদ্দিন কবীর।

১৭ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনার আড়াই মাস পর ১৪ নভেম্বর জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় ঝালকাঠির দুই বিচারক সোহেল আহমেদ ও জগন্নাথ পাঁড়ে নিহত হন।

এ মামলায় ঝালকাঠির আদালতেই জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানসহ ৭ শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হয়।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ দেশের বিভিন্ন কারাগারে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এর প্রতিশোধ নিতে জেএমবি ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল মামলা পরিচালনাকারী তৎকালীন পিপি হায়দার হুসাইনকে গুলি করে হত্যা করে। রায় ঘোষণা উপলক্ষে আদালত চত্বর ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এইচআর

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও