সিপিবির সমাবেশে হামলা: ১৯ বছর পর রায় আজ

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

সিপিবির সমাবেশে হামলা: ১৯ বছর পর রায় আজ

আদালত প্রতিবেদক ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০

সিপিবির সমাবেশে হামলা: ১৯ বছর পর রায় আজ

ফাইল ছবি

সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলার বর্ষপূর্তির দিনে দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ মামলার ঘোষণা করা হবে। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করবেন। গত বছর ১ ডিসেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এ তারিখ ঠিক করা হয়।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু বলেন, সাক্ষী এবং আসামিদের গরহাজিরের কারণে মামলাটির বিচাকাজ বিলম্বিত হয়েছিল। অবশেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে চলে এসেছে। রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি। ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবেন।

রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা সম্পর্কে আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যাশা করি, পলাতক এবং আটক সব আসামির মৃত্যুদণ্ড হবে।

মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, মামলাটিতে প্রথম চূড়ান্ত প্রতিবেদন হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার তদন্তে গিয়ে চার্জশিট হয়। মামলার ১৪ জন আসামির মধ্যে একজনের কথিত একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রয়েছে। অন্য কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই। তাই শুধু ওই একজনের স্বীকারোক্তি দিয়ে আসামিদের দণ্ড  হওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে ১ ডিসেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ বিচারক রবিউল আলম আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৪৬ জন বিভিন্ন সময়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির সমাবেশ চলাকালে বোমা হামলায় পাঁচজন নিহত ও অনেকে আহত হন।

নিহতরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার হিমাংশুমণ্ডল, খুলনার রূপসা উপজেলার আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার আবুল হাসেম, মাদারীপুরের মুক্তার হোসেন ও খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস।

এ ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা করেন। এর দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন।

এর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে যোগসূত্র পেয়ে ২০০৫ সালে আবার মামলার তদন্ত শুরু হয়। ওই হামলায় মামলা হওয়ার পর ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ জন আসামি চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন- হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, হুজির সদস্য মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মো. মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিরাজ ও নূর ইসলাম।

আসামিদের মধ্যে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। আর শেষের সাত জন পলাতক। কারাগারে থাকা আসামিরা সবাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি।

এমআই/আরপি

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও