আওলাদের 'ভুয়া পরোয়ানায়' জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

আওলাদের 'ভুয়া পরোয়ানায়' জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

পরিবর্তন প্রতিবেদক: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

আওলাদের 'ভুয়া পরোয়ানায়' জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় কারাগারে আটক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আওলাদ হোসেনকে আগামী ১৫ জানুয়ারি হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে ভুয়া পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শেরপুরের পরোয়ানা যাচাই সাপেক্ষে তাকে জামিন দিতে ওই আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জামিনের পর শেরপুর কারাগার থেকে মুক্তি দিতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে যদি অন্য কোনো পরোয়ানা আসে সেটার সঠিকতাও যাচাই করতে বলেছেন উচ্চ আদালত।

আওলাদ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। সঙ্গে ছিলেন এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, যদি ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আওলাদ বাইরে থাকেন তাহলে তিনি নিজেই হাইকোর্টে আসবেন আর যদি কারাগারে থাকেন তাহলেও তাকে হাজির করতে হবে।

আশুলিয়ার মির্জানগরের টাকসুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. আওলাদ হোসেন। চাকরি করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃষি বিভাগের প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে। ৩০ অক্টোবর হঠাৎ তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার থেকে পরোয়ানা আছে বলে জানানো হয়।

সেদিন আওলাদকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন করা হয়। আদালত তার নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ নথিপত্র কক্সবাজারের আদালতে পৌঁছার পর আওলাদের জামিন আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ নভেম্বর কক্সবাজার আদালত বলেন, ওই মামলায় আওলাদ নামে কোনো আসামি নেই। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি এই আদালত থেকে ইস্যু হয়নি। ওই পরোয়ানা সৃজন করা হয়েছে। তাকে মুক্তি দেওয়া হোক।

এরপর মুক্তিনামাটা যখন ঢাকা জেলখানায় পৌঁছলো তখন ঢাকা কারাগার বলল তার বিরুদ্ধে রাজশাহীর একটি মামলা রয়েছে এবং তাকে রাজশাহী পাঠানো হবে। রাজশাহী কোর্টে যখন তার জামিন চাইলো তখন রাজশাহী কোর্ট বলল এই নামে কোনো আসামি নেই এ মামলায়। এবং আওলাদ হোসেনের নামে এই আদালত কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেনি। তখন তাকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলার পর কারাগার থেকে জানানো হয় তার বিরুদ্ধে বাগেরহাটে আরও একটি মামলা আছে। সেখানে তাকে পাঠানো হবে এবং সেখানে তাকে পাঠানো হলো।

এরপর গত ১ ডিসেম্বর বাগেরহাট আদালতে জামিন চাইলে আদালত বলেন, আওলাদ হোসেন নামে এ মামলায় কোনো আসামি নেই এবং তার নামে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা এখান থেকে জারি করা হয়নি। ওইদিন বাগেরহাটের আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। এ আদেশের পর তার বিরুদ্ধে আবার শেরপুর একটা মামলায় ওয়ারেন্টের বিষয়ে জানানো হয়। এমন করে একাধিক জেলা ঘুরে এখন তিনি শেরপুর কারাগারে আছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার স্ত্রী।

ওএস/পিএসএস

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও