জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য, সন্দেহের তালিকায় প্রেমিকও

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য, সন্দেহের তালিকায় প্রেমিকও

প্রীতম সাহা সুদীপ ২:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য, সন্দেহের তালিকায় প্রেমিকও

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন ধারণা নিয়েই তদন্ত কাজ চলছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, যেখান থেকে রুম্পার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখানে পাশাপাশি লাগোয়া তিনটি ভবন রয়েছে। এর একটি হলো আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স নামের ১২ তলা ভবন। আর বাকি দুটি আবাসিক ভবনের একটি তিনতলা, অন্যটি পাঁচতলা।

পুলিশ ওই তিনটি ভবনের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার কোনো চিত্র দেখা যায়নি। এ ছাড়া রুম্পার মোবাইল ফোনটি পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড হওয়ায় সেখান থেকেও কোনো তথ্য বের করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

ছাদের কার্নিশে জুতার ছাপ নিয়ে রহস্য

ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গিয়ে তিন ভবনের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু আয়েশা কমপ্লেক্সের ১২ তলার ছাদে একটি জুতার ছাপ দেখতে পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ওই ছাদে কোনো রেলিং নেই, এক পাশ একটু ঢালু। সেখানেই জুতার ছাপটি পাওয়া গেছে। লাশের সঙ্গে পড়ে থাকা জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার জন্যও সিআইডি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার দিনগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির প্রধান গেটের সামনে বিকট শব্দে রুম্পার লাশ পড়ে। লাশটি যেখানে পড়েছিল সেটি ছিল আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছন দিক। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভবনের ছাদ থেকেই রুম্পা নিচে পড়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় রমনা থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) ছায়া তদন্ত করছে।

ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার শামসুল আরেফিন বলেন, আয়েশা কমপ্লেক্সের ১২ তলার ছাদে একটি জুতার ছাপ পাওয়া গেছে। লাশের সঙ্গে পড়ে থাকা জুতার সাথে ওই ছাপের মিল আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছে সিআইডি।

সন্দেহের তালিকায় রয়েছে রুম্পার প্রেমিকও

এদিকে, রুম্পার স্বজন ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন, রুম্পা হত্যার সঙ্গে তার প্রেমিক সৈকত জড়িত থাকতে পারে। বেশ কিছু দিন ধরে সৈকতের সঙ্গে রুম্পার সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় রুম্পাকে এড়িয়ে চলছিল সৈকত।

রুম্পার চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যার পর রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়, এটা নিশ্চিত। তদন্ত চলছে, দেখা যাক কী হয়। আমার ভাতিজির সঙ্গে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি ছেলের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। তাদের ভেতরে ঝামেলা চলছিল বলে আমরা শুনেছি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে ওই ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমরা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এই বিষয়ে খোঁজখবর নেবে।

তিনি আরো বলেন, রুম্পা ওই এলাকায় একটি বাড়িতে টিউশনি করতে গিয়েছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যার দিকে নিজ বাসার নিচে আসে রুম্পা। এর পর বাসায় ফোন করে চাচাতো ভাইকে বাসার নিচে স্যান্ডেল নিয়ে যেতে বলে। পরে হিল স্যান্ডেল খুলে সেই স্যান্ডেল পড়ে রুম্পা। এর পর চাচাতো ভাইয়ের কাছে কানের দুল, ঘড়ি, হিল জুতা ও টাকাসহ ব্যাগ দিয়ে দেয়। বলে এগুলো ওপরে নিয়ে যা, আমার আসতে দেরি হবে।

রুম্পার চাচা প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি রুম্পার আত্মহত্যা করার ইচ্ছা থাকতো, তাহলে সে কেন বাসায় এসে আবার বেরিয়ে গেল। আত্মহত্যার পরিকল্পনা হলে তো আমাদের বাড়ির ছাদই আছে। ওখানে যাবে কেন? নাকি কোনো ঝামেলা ছিল, তাই এগুলো রেখে গিয়েছিল? এসব ভাল করে তদন্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, রুম্পার ছেলেবন্ধু সৈকতের বিরুদ্ধে আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে এটি হত্যাকাণ্ড এমন আশঙ্কা করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, রুম্পার লাশ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রুম্পা ওই এলাকায় থাকতেন না। তিনি থাকতেন শান্তিবাগে। সুতরাং প্রাথমিকভাবে আমরা এমনটাই ধরে নিয়েছি যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই আমরা আমাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

পিএসএস/আরপি

আরও পড়ুন...
রুম্পার মৃত্যু: উত্তাল স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
রুম্পার মৃত্যুরহস্য এখনও জটে

 

আইন ও অপরাধ: আরও পড়ুন

আরও