হোটেল বয় থেকে যুবলীগ নেতা জাকিরের অবৈধ সম্পদের পাহাড়
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২২ আষাঢ় ১৪২৭

হোটেল বয় থেকে যুবলীগ নেতা জাকিরের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

হোটেল বয় থেকে যুবলীগ নেতা জাকিরের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বস্তিতে বাস করা জাকির হোসেন অভাবের তাড়ানায় এক সময হোটেল বয়ের কাজ করতেন। পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের আর্শীবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

আর এতেই খুলে যায় কপাল। হোটেল বয় থেকে যুবলীগ নেতা হওয়া জাকির রীতিমত অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটের ঘনিষ্ট সহযোগী জাকির হোসেনের ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

বুধবার ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আরো সম্পদ অনুসন্ধান চলমান আছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

দুদকের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের সময় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া তথ্যমতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চলতি, সঞ্চয়ী ও এফডিআর হিসাবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা আছে।  অথচ ২০১৮-১৯ কর বর্ষে জাকির আয়কর নথিতে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার সর্বমোট ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্জনের সুনির্দিষ্ট কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।

এজাহারে আরো বলা হয়, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা থেকে জাকিরের অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য দুদকের হাতে আছে। মামলার তদন্তের সময় প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে সেগুলো আমলে নেওয়া হবে। জাকিরের নামে কেনা আরও সম্পদের তথ্য দুদকের হাতে থাকলেও এখন পর্যন্ত সে সংক্রান্ত নথি হাতে পায়নি সংস্থাটি।

জাকিরের আরও সম্পদের তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে। যেগুলোর বিষয়ে দুদক তদন্ত চলমান রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- রাজধানীর পুরানা পল্টন ও বিজয়নগরে তার তিনটি বাড়ি আছে।  রাজধানীর শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, বিজয়নগর ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ফ্ল্যাট আছে ২৮টি। গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আছে ১০০ কাঠা জমি। কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের যে ভবনটিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন ওই ভবনের চতুর্থ তলাও জাকিরের কেনা। সেখানেই প্রথম সম্রাট তার অফিস করতেন। পরে ওই ভবনের অন্য তলাগুলোও দখলে নেওয়া হয়।

জাকির হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য।  ১৯৭৪ সালে বাস্তুহারা জাকিরের পরিবার বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে। ঢাকায় তাদের ঠিকানা হয় ডেমরার চনপাড়া বস্তি।  ওই বস্তিতে বেড়ে ওঠেন জাকির।

১৯৯১ সালের দিকে জাকির কাকরাইল এলাকায় পায়েল নামে একটি রেস্টুরেন্টে দৈনিক ৩০ টাকা বেতনে গ্লাস বয়ের কাজ নেন। এক বছর পর গ্লাস বয়ের কাজ ছেড়ে মাসে দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের তৃতীয় তলায় ‘টনি ফিল্ম’প্রতিষ্ঠানের পিয়ন হিসেবে।

ওই সময় আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাকর্মীদের নিয়মিত আড্ডা ছিল কাকরাইলের ফরিদপুর ম্যানসনের নিচে ‘হোটেল ম্যারাডোনা’কে কেন্দ্র করে। সেখানেই ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে পরিচয় হয় জাকিরের। এরপর তারা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন। সম্রাট যাদের দিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসা চালাতেন তাদের মধ্যে জাকির অন্যতম।

এফএ/এআরই

 

: আরও পড়ুন

আরও