রাতে ৮ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

রাতে ৮ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৮

print
রাতে ৮ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

মঙ্গলবার রাতে আট জেলায় র‍্যাব ও পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়জন মাদক চোরাকারবারী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় দুজন এবং ফেনী, রংপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, কুমিল্লা ও লালমনিরহাটে একজন করে নিহত হয়। এসময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবর্তন ডটকমের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত।

কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে মাদক ব্যবসায়ী ফটিক ওরফে গাফফার (৩৭) এবং ভেড়ামারায় লিটন শেখ (৪০) নিহত হয়েছেন।

পুলিশের দাবি, পৃথক এ ঘটনায় তাদের ৮ সদস্য আহত হয়েছেন। দুই ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার লাহিনী পাড়ার গড়াই নদীর পাড় সংলগ্ন ব্রিজের নিচে ও ভেড়ামারা হাওয়াখালী ইটভাটার কাছে এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’  ঘটনা ঘটে।

কুমারখালী থানার ওসি আব্দুল খালেক জানান, মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য অবস্থানের খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের একটি টহল দল অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে একজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তি শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী ফটিক ওরফে গাফফার। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।

নিহত ফটিক ওরফে গাফফার কুমারখালী উপজলার এলেঙ্গীপাড়া গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে।

এদিকে, ভেড়ামারা মডেল থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, হাওয়াখালী ইটভাটার কাছে মাদক বেচাকেনা করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের টহল দল সেখানে অভিযান চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সবাই পালিয়ে গেলেও মাদক ব্যবসায়ী লিটন শেখ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত লিটন শেখ উপজেলার নওদাপাড়া এলাকার মৃত গোলবার শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চোরাকারবারীর মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

পুলিশ দুই মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।


ফেনী

ফেনী সদর উপজেলার দাউদপুল এলাকায় র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে মো. ফারুক (৩৫) নামে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনীস্থ র‍্যাব-৭ এর কোম্পানি অধিনায়ক সাফায়াত জামিল ফাহিম।

নিহত ফারুক চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার অলি আহমদের ছেলে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে র‍্যাব ফেনী ক্যাম্পের একটি দল দাউদপুল এলাকায় অভিযান চালায়।

এসময় মাদক ব্যবসায়ী মো. ফারুকের নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম থেকে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকা যাওয়ার পথে ফেনীর দাউদপুল এলাকায় পৌঁছালে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়।


রংপুর

রংপুরে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহীন নিহত হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের সিরাজুলের ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শাহীন এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালিসহ বিভিন্ন থানায় ১০ থেকে ১৫টি মামলা রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তারুল আলম জানান, রংপুর নগরীর হাজিরহাট ব্রিজের কাছে রাত আড়াইটায় এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলভার এবং এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শাহীনের মৃতদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।


গাইবান্ধা

গাইবান্ধার পশাবাড়িতে র‍্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে রাজু মিয়া (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি পলাশবাড়ি উপজেলার রায়গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে।

র‍্যাব জানিয়েছে, রাত দেড়টায় নিজ গ্রাম থেকে একটি সংঘবদ্ধ দল মাদক পাচারের জন্য বাইরে যাচ্ছিল। তারা বিশ্রামগাছি এলাকায় পৌঁছালে র‍্যাবের টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় র‍্যাব সদস্যদের উপর গুলি চালালে র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

পরে অন্যরা পালিয়ে গেলেও একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে র‍্যাব সদস্যরা একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন ও ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। গোলাগুলিতে র‍্যাবের দুজন সদস্য আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় র‍্যাব ক্যাম্পের এএসপি হাবিবুর রহমান।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আফতাফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি সাজেদুর রহমানসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের ৩ ঘণ্টার মাথায় আফতাফুল নিহত হন।

পুলিশের দাবি মাদক উদ্ধারে যাওয়ার সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই মাদক ব্যবসায়ী মারা যান।

বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার পারুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আফতাফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পীরগঞ্জ থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে রওনা হয়। রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ পুলিশের উদ্ধার টিমটি পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও সড়কের ভাতারমারী ফার্মে পৌঁছলে  মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের এই বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আফতাফুল ইসলাম নিহত হন।

তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারুয়া গ্রামের ভেলসা মোহাম্মদের ছেলে।

এসময় মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে আহত হয় বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম সাজেদুর রহমান ও উপ পরিদর্শক খায়রুজ্জামান। তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তি একজন মাদক ব্যবসায়ী। মাদক সংক্রান্ত ১৫টি মামলাসহ প্রায় ২০ মামলার আসামি তিনি।

জামালপুর

জামালপুরে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত এক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে জামালপুর শহরতলীর ছনকান্দা মাদ্রাসা বালুঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ভোরে বালুঘাট এলাকায় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে ওই মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়।  এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসিমুল ইসলামসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম হেরোইন, একটি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা

পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং নয় মামলার আসামি নুরুল ইসলাম ওরফে ইছা (৩৫) নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে মহানগরীর টিক্কারচর ব্রিজ সংলগ্ন গোমতী বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইছা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গাজীপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। এ নিয়ে কুমিল্লায় গত দুইদিনে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলো।

 পুলিশ জানায়, নুরুল ইসলাম ইছা একজন চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশের বিশেষ অভিযানে মঙ্গলবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে তার সহযোগীদের আটক এবং মাদক উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। গভীর রাতের এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, ‘শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইছার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ বস্তা ফেনসিডিল। আনুমানিক ৬/৭ ’শ বোতল হতে পারে।’

ইমন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে কোতয়ালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম ইছাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে চানপুর ব্রিজ এলাকার জঙ্গলে মাদক লুকিয়ে রাখার তথ্য দেয়। পরে রাতে ইছাকে নিয়ে অভিযানে গেলে তার সহযোগিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে তাকে ছিনিয়ের নেয়ার চেষ্টার চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে সেখান থেকে ইছাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় সে। বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিনসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া রাত আড়াইটায় পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘ইছা একজন চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন যাবত সে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে এলাকায় মাদকের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল।’ তার লাশ বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে জানান তিনি। 

লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের গুলিতে নুরে আলম এশার (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চর কুলাঘাট এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের জন্য কয়েকজন ঘোরাফেরা করছিল। এসময় টহলরত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পুলিশকে আঘাত করে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ গুলি করলে ঘটনাস্থলেই মাদক ব্যবসায়ী নুরে আলম এশার নিহত হন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন ও একটি রামদা উদ্ধার করে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এশার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত নুরে আলম এশার কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার যগুরতল গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।

তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ সুপার। 

এএল/

 
.




আলোচিত সংবাদ