এনএসআইয়ের সাবেক ডিজিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

এনএসআইয়ের সাবেক ডিজিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

হাইকোর্ট প্রতিবেদক ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

print
এনএসআইয়ের সাবেক ডিজিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি (মহাপরিচালক) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে কারাগারে পাঠনোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি আমির হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুই বিচারকের ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার এই আদেশ দেন।

প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষের) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ।

আদেশে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার দিকে ওয়াহিদুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশান থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

থানার বারিধারার ব্লক-জে, রোড-২/ডি এর ৩ নম্বর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে যে গণহত্যা ঘটেছিল, পাকিস্তান আর্মির সদস্য হিসেবে সেই ঘটনার সঙ্গে এই আসামির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, আসামি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তদন্ত কাজ এগুনো যাচ্ছে না। তাই তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।

আসামির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আসে তদন্ত সংস্থায়। সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শুরু করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৫০০ থেকে ৬০০ নিরস্ত্র বাঙালি ও সাঁওতালকে মেশিনগান দিয়ে হত্যার সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলেও জানান প্রসিকিউটর।

আসামি ওয়াহিদুল হকের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। ১৯৬৬ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে ১১ ক্যাভালরি রেজিমেন্ট কমিশনপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে বদলি সূত্রে ২৯ ক্যাভালরি রেজিমেন্টে যোগ দেন তিনি।

এরপর সেখান থেকে পাকিস্তানের মুলতান ক্যান্টনমেন্টে চলে আসেন। পরে ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে ২৯ ক্যাভালরি রেজিমেন্ট রংপুর সেনানিবাসে স্থানান্তরিত হয়।

১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই রেজিমেন্টের অ্যাডজুটেন্ট হিসেবে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলে বদলি হয়ে আবার তিনি পাকিস্তান (পশ্চিম পাকিস্তান) চলে যান। সেখানে তিনি ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করেন।

১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। সে সময় তাকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর দেওয়া হয়।

এরপর ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর ওয়াহিদুল হক বাংলাদেশ পুলিশের এএসপি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে কুমিল্লার এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১৯৮২ সালে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার। পরে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যযন্ত ঢাকা মেট্রো পলিটনে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার হিসেবে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এনএসআইর পরিচালক ছিলেন। পরে একই সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান।

১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি পাসপোর্ট অফিসের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০২ সাল তিনি পুনঃনিয়োগ পান। পরে ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এমএ/এসবি

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad