রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৮ আশ্বিন ১৪২৪

রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত

খুলনা প্রতিনিধি ১০:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

print
রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত

খুলনায় আদালত চত্বরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকার ও আলামতের মালিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মালখানায় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আদালতের সামনে খোলা জায়গায় বিভিন্ন মামলার আলামত হিসাবে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, মাইক্রোবাস, বাইসাইকেল, রিকশা, মাহিন্দ্র, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন মালামাল রাখা আছে।

মালখানা সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার পর বছর পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে অধিকাংশ বিচারাধীন মামলার আলামত নিষ্পত্তির আদেশ মালখানায় আসে না। এ কারণে পূরানো মামলার আলামতের সঙ্গে নতুন নতুন মামলার আলামত যুক্ত হয়ে দিন দিন মালখানায় জট বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এসব আলামত সংরক্ষণ করা কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে। রায় ঘোষণা হওয়ার পর আদালতে মামলার আলামত নিষ্পত্তির আদেশ চেয়ে তালিকাসহ বার বার আবেদন করেও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। গত তিন বছরে রায় ঘোষণা হওয়া অনেক মামলার আলামত নিষ্পত্তির আদেশ এখনো হাতে পায়নি মালখানা কর্তৃপক্ষ।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনার বিচারিক বিভিন্ন আদালতে রায় ঘোষণা হওয়া প্রায় পৌনে ৪ শত মামলার আলামত নিষ্পত্তির আদেশ মহানগর ও জেলা মালখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি। এরমধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৩২টি, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১এ ৬৬টি, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ ১৬টি, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এ ২০টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে ২২টি, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ এ ৮০টি, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৪ এ ৩০টি এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতে ৩৪টি উল্লেখযোগ্য।

মহানগর মালখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন মামলার আলামত রাখা হয় মহানগর মালখানায়। দীর্ঘ ১০/১৫ বছরের পূরানো মামলার আলামতও রয়েছে এ মালখানায়। এর মধ্যে অনেক মামলারই রায় ঘোষণা হয়ে গেছে। কিন্তু মামলার আলামত নিষ্পত্তির আদেশ না আসায় আলামত সেভাবেই পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে মহানগর আদালতের মালখানার ইনচার্জ (সিএসআই) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আদালতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মহানগরীর মামলাগুলোর আলামত সংশ্লিষ্ট থানা হেফাজতে রাখতে বলা হয়েছে। মামলার নিষ্পত্তির আদেশ আসলে সেগুলোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

অপরদিকে জেলা মালখানার ইনচার্জ (সিএসআই) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নতুন জজকোর্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ভবন নির্মাণ হলে সেখানে মালখানার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে। তখন আর মামলার আলামত রাখতে অসুবিধা হবে না।’

জেএইচ/এমএইচ/এসএফ

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad