সুন্দরবনে ৪৩ জেলে অপহৃত

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

সুন্দরবনে ৪৩ জেলে অপহৃত

বরগুনা প্রতিনিধি ৬:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০১৭

print
সুন্দরবনে ৪৩ জেলে অপহৃত

সুন্দরবনের পশ্চিমজোনের কচিখালী ও নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় জেলেদের ট্রলারে হানা দিয়ে ৪৩ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার রাত ১১ টা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত জেলে ৪০ ট্রলারে ডাকাতি করে দস্যুরা। এসময় দস্যুরা ৩টি ট্রলারসহ ৪৩ জন জেলেকে অপহরণ করে।

দস্যুরা ফোন নাম্বার দিয়ে জেলে প্রতি মুক্তিপণ হিসেবে ২ লাখ টাকা দাবি করেছেন।

এসময় ওইসব ট্রলার থেকে ফিরে আসা ৮ জেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা হলেন— শাহ আলম কালু, মো. রফিক, সোলায়মান, মো. কবির, আব্দুর রহিম, মো. মুসা, নয়ন ও শাহিন মিয়া।

এসব জেলেরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের নারিকেলবাড়িয়া ও কচিখালী এলাকায় সারিবদ্ধভাবে ট্রলার অপেক্ষা করছিল। এসময় একটি ট্রলারে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের সশস্ত্র দস্যু ওইসব ট্রলারে হানা দেয়। এসময় তারা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে মারধর করে।

ফিরে আসা জেলেরা জানান, পরে অস্ত্রের মুখে জেলেদের দস্যুদের ট্রলারে তোলা হয়। ট্রলারের ভেতর অন্তত ৩৫ জন জেলেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে।

অপহৃত জেলের মধ্যে সেলিম ফরাজী মালিকানা এফবি রনি ট্রলারের জেলে সোহরাব, হায়দারের মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে হায়দার ও হানিফা, ফিরোজ বিশ্বাসের মালিকানা এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে আবদুল হকের নাম জানা গেছে। তাদের সবার বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার কালিয়ারখাল, রুহিতা, পদ্মা ও চরলাঠিমারা গ্রামে।

ফিরে আসা জেলে কালু মিয়ার বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, দস্যুরা কমপক্ষে ১৫ জন প্রধান মাঝি এবং ২৮ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

তিনি জানান, অপহরণের সময় এক দস্যু বলেন ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম খরচ করে তারা সাগরে নেমেছেন। জেলে প্রতি ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাদের ছাড়া হবে না।

এসময় এক দস্যু মোবাইল নাম্বার দেন। নাম্বারটি হলো- ০১৭৪২৮৮৫৩৩৯। তবে কোন বাহিনী এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানাতে পারেনি ফিরে আসা জেলেরা।

কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের অপারেশন অফিসার লে. মাহমুদ জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্যরা টহলে রয়েছে। কিন্তু ট্রলার মালিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কোনো মাঝি বা ট্রলার উদ্ধার করা যায়নি।

কেবিএ/জেআই/এসবি

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad