যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৫ আশ্বিন ১৪২৪

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা

যশোর প্রতিনিধি ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০১৭

print
যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা

খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের যশোর-ঝিনাইদহ অংশে কয়েক মাস ধরে বেড়েছে যানবাহন চলাচলের অতিরিক্ত চাপ। এতে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী ওই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি দুটি ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত ও আরও অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যাত্রীরা দায়ী করছেন ‘চালকের বেপরোয়া গতিকে। আর পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, যানবাহনের ওভারলোড ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সামীখালিতে চিত্রা নদীর উপরের ব্রিজটি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ভেঙ্গে পড়ে। তিন মাসেও ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। ফলে যশোর-মাগুরা রুটের ভারি যানবাহন যশোর-ঝিনাইদহ হয়ে মাগুরায় যাচ্ছে। এতে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। যশোর পালবাড়ি থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পর্যন্ত যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি। কারণ যশোর থেকে চুয়াডাঙ্গা রুটের গাড়িও ওই একই সড়কের কালীগঞ্জ পর্যন্ত যায়। যানবাহনের চাপ বাড়লেও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের উন্নয়ন হয়নি। বেহাল সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে।

সর্বশেষ গত ১৮ মে যশোর থেকে ছেড়ে আসা শাপলা পরিবহনের একটি বাস ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বৈশাখী তেলপাম্প এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি কড়াই গাছে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নিহত ও আরও অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওই বাসের যাত্রী জিল্লুর রহমান অভিযোগ করেন, চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চুড়ামনকাঠি এলাকায় একবার দুর্ঘটনার শিকার হয়। যাত্রীরা চালক ধীরে চালানোর অনুরোধ করেছিল কিন্তু চালক যাত্রীদের কথা শোনেননি।

এর আগে গত ৯ মে যশোর ঝিনাইদহ মহাসড়কের সাতমাইল এলাকায় রূপসা পরিবহনের একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে রাস্তার পাশে গাছে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও আরও অন্তত ৪০ জন আহত হন। ওই বাসের যাত্রী তানভীর হোসেন অভিযোগ করেন, যশোর থেকেই চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাতমাইল এলাকায় পৌঁছালে মেট্রোপলিটন ও জিএম পরিবহনের দুটি বাস ওভারটেক করে। এসময় ওই দুই পরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় রূপসা পরিবহনের বাসটি। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, যশোর-মাগুরা রুটে সীমাখালি ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ে থাকায় ঝিনাইদহ রুটে ওভারলোড চলছে। তিনমাস হয়ে গেছে এখনও ব্রিজটি হয়নি। সপ্তাহ-খানেক হলো কাজ বন্ধ রয়েছে। ঝিনাইদহ রুটের রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। তারপর আবার ওভারলোড চলছে। এজন্য ওই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। চালক ইচ্ছা করলেই বেপরোয়া গাড়ি চালাতে পারে না। কারণ স্পিডে গাড়ি চালানোর রাস্তাই তো ভাল নেই। ওই রাস্তাটি বেশি চড়া নয়। অনেকটা সরু প্রকৃতির। ওই রোডে গাড়ি ওভারটেক করার সুযোগ থাকে না। তারপরও চালকদের খাম-খেয়ালিপনা যে একেবারেই নেই সেই কথা বলবো না। চালকদেরও দোষ ত্রুটি থাকে। 

যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত জেলার সড়ক-মহাসড়কের যানবাহনের ১৩১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। যানবাহনের ফিটনেসবিহীন, চালকের লাইসেন্স না থাকা ইত্যাদি কারণে ৫১৬টি মামলায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ২০৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। 

একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরিবহনের অধিকাংশের ফিটনেস বিহীন, চালকদের লাইসেন্স নেই। তবুও তারা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন সময়ে জরিমানা করা হয়েছে। 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের জরিমানাও করা হয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। 

ইআর/জেআই

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad