‘বিকাশে পাঁচশ টাকা দাও, ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দিয়ে দেব’

ঢাকা, শনিবার, ২৪ জুন ২০১৭ | ১০ আষাঢ় ১৪২৪

‘বিকাশে পাঁচশ টাকা দাও, ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দিয়ে দেব’

যশোর প্রতিনিধি ৯:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৭

print
‘বিকাশে পাঁচশ টাকা দাও, ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দিয়ে দেব’

শিক্ষকের স্ত্রীর পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব পেয়েছেন যশোর পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান। এলাকায় ভেরিফিকেশনে না গিয়ে উল্টো তিনি ওই শিক্ষকের কাছে ফোন করে বিকাশে ৫০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি বলেন ‘বিকাশে পাঁচশ টাকা পাঠিয়ে দাও ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দিয়ে দেব।’

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই প্রতিবেদক সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে এসআই সাইদুর রহমানের কাছে ফোন করেন। প্রতিবেদকের কাছেও তিনি ৫০০ টাকার সঙ্গে ১০ টাকার বিকাশ খরচও দাবি করেন। এ সময় তিনি বলেন, পাঁচশ টাকা বিকাশে দিয়ে দিলে তিনি ২/১ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে দেবেন। এভাবে তিনি সবার কাছ থেকেই টাকা আদায় করেন বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয় দিলে বলেন, আগে পরিচয় দিবেন না। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তো এমনিতেই করে দিই।

মণিরামপুরের বাসিন্দা ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমার স্ত্রীর পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি কয়েকদিন আগে। পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব পেয়েছেন যশোর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আমার ফোনে কল করেন। এ সময় তিনি আমাকে বলেন, বিকাশের মাধ্যমে আমার নাম্বারে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। রিপোর্ট দিয়ে দেব। টাকা না দিলে কিন্তু রিপোর্ট হবে না। আমি বলি, এলাকায় এসে খোঁজখবর নেন। আমার কোনো সমস্যা আছে কিনা। আমি কেন টাকা দেব? কিন্তু আমার কথা তিনি শোনেননি। পুলিশের ঘুষ দাবির বিষয়ে আমি স্থানীয় সাংবাদিকের জানিয়েছি। কিন্তু ভয় পাচ্ছি। আমাদের আবার কোনো সমস্যা হবে না তো। পরিবারের লোকজন বলছে পাঁচশ টাকা দিয়ে দাও, ঝামেলার দরকার নেই। কিন্তু আমি একজন শিক্ষক হয়ে এভাবে কেন ঘুষ দেব। এর আগে মেয়ের পাসপোর্ট করতে গিয়েও ঘুষ দিয়েছি পুলিশকে।’

ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে এসআই সাইদুর রহমানের কাছে ফোন দেন পরিবর্তন ডটকমের যশোর প্রতিনিধি। সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে একজন ভুক্তভোগী হিসেবে ফোন দিলে তিনি আবারও ঘুষ দাবি করেন। এলাকায় আসবেন না জানতে চাইলে বলেন, যাওয়া লাগবে না টাকা দিলেই হবে। বিকাশে দিলেই হবে জিজ্ঞেস করলে বলেন, সন্দেহ হলে কাল অফিসে আসো।

একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে এসআই সাইদুর বলেন, পরিচয় গোপন করলেন কেন। সাংবাদিকদের কাজ তো করে দিই। পুলিশ সাংবাদিকের সুসম্পর্ক থাকা দরকার। শুধু শুধু লেখার দরকার নেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ যশোরে টাকা ছাড়া পাসপোর্ট আবেদনে পুলিশ ভেরিফিকশনের কাজ হয় না।

অভয়নগরের একজন সাংবাদিক জানান, কয়েকদিন আগেও আমার পরিচিত একাধিক লোকের কাছ থেকে ভেরিফিকেশনের নামে বিকাশে টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত এভাবে টাকা নিয়ে অফিসে বসে ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

চৌগাছার একজন ভুক্তভোগী জানান, ডিএসবি অফিস থেকে ফোন করে জানানো হয়, পাঁচশ টাকা ও নাগরিক সনদপত্র নিয়ে অফিসে দেখা করো। পরে তিনি অফিসে এসে টাকা ও নাগরিক সনদপত্র জমা দিয়ে রিপোর্ট পেয়েছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর ডিএসবি অফিসার ইনচার্জ তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি একমাসও হয়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো না। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইআর/এসএফ/এমডি 

print
 

আলোচিত সংবাদ