করোনা আতঙ্কের মাঝে ভাতার জন্য ব্যাংকে গণজমায়েত
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

করোনা আতঙ্কের মাঝে ভাতার জন্য ব্যাংকে গণজমায়েত

যশোর ব্যুরো ২:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

করোনা আতঙ্কের মাঝে ভাতার জন্য ব্যাংকে গণজমায়েত

গণজমায়েত নিষিদ্ধে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে সশস্ত্র বাহিনী। কিন্তু ভিন্নচিত্র যশোর শহরের জেলরোডের অগ্রণী ব্যাংকে। সেখানে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা নিতে আসা মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মত। ঘন্টার পর ঘন্টা এভাবে বয়স্ক মানুষগুলো ভাতার টাকার জন্য অপেক্ষায় আছেন।

অধিকাংশই কোন না কোন রোগে আক্রান্ত। আছে প্রতিবন্ধীরাও। তবুও ভাতার টাকা নিতে এসে নাস্তানাবুদ হচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার ও বুধবার ব্যাংক ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে দেরি হচ্ছে। এজন্য ভিড় বাড়ছে।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলার মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার জন। প্রতি তিন মাস অন্তর সোনালি, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ভাতার টাকা তোলার জন্য আসেন ভাতাভোগীরা। নিয়মানুযায়ী তারা প্রতি তিন মাসে বয়স্ক ও বিধবাভাতা এক হাজার ৫শ’ টাকা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে দুই হাজার ৫শ’ টাকা পেয়ে থাকেন।

যশোর সদর উপজেলা ও পৌরসভার কয়েক হাজার মানুষকে অগ্রণী ব্যাংকের জেলরোডের শেখহাটি শাখা থেকে ভাতার টাকা দেওয়া হয়।

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাতার টাকার জন্য ব্যাংকের সামনের সড়ক আর আশেপাশের দোকান ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ও বসে আছেন ভাতাভোগীরা। করোনভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু ব্যতিক্রম চিত্র এই ব্যাংকে। টাকা অপেক্ষায় থাকা বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের ভিড়ে ঝুঁকি বেড়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় আছে দূরদুরন্ত থেকে আসা মানুষগুলো।

আড়পাড়া থেকে আসা মহিউদ্দীন (৭০) বলেন, খুব সকালে এসেছি। বই জমা দিয়েছে। সাড়ে ১১টা বাজে। এখনো টাকা পাইনি। তাই দাঁড়িয়ে আছি।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর এক ব্যক্তি বলেন, আমার বাবা ঠিক মত বসতে পারে না। তাকে নিয়ে ব্যাংকে বয়স্ক ভাতার টাকা তুলতে এসেছি। সকাল ৯টায় বই জমা দিয়েছি। এখনো টাকা পাইনি। দেশে করোনা ভাইরাস আতংকে মানুষ ঘরের বাইরে বের হওয়া নিষেধ। অথচ এখানে শত শত বয়ষ্ক মানুষের ভিড়। এটা ঠিক হচ্ছে না। বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার ছিল।

ভাতা নিতে আসা প্রতিবন্ধী আসলাম হোসেন, খায়রুল ও সালাম হোসেন জানান, ভাতার টাকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একই সাথে করোনার ঝুঁকিতে আছি। সরকার ব্যাংকিং ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর শাখার মাধ্যমে ভাতার টাকা বিতরণ করলে এত দুর্ভোগ হতো না।

এ প্রসঙ্গে অগ্রণী ব্যাংক যশোর শেখহাটি শাখার ব্যবস্থাপক হয়রত আলী জানিয়েছেন, ঘন্টার পর ঘন্টা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে কথাটি সত্য। কিন্তু পার্যপ্ত জনবলের কারণে আমরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না। সরকার যদি মোবাইল বা স্থানীয় শাখার মাধ্যমে যদি ভাতা বিতারণ কার্যক্রম করেন তা হলে এসকল ভাতাগ্রহীতাদের কষ্ট কম হয়।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা বলেন, সরকার এসকল ভাতা ভুক্তভোগীদের কষ্ট দূর করতে মোবাইল ব্যাংকিং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএম) কার্যক্রম শুরু করেছে। যার ফলে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএম) সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেদের ইউনিয়ন থেকেই স্ব স্ব আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে খুব সহজেই টাকা তুলে নিতে পারবেন।

আইআর/জেডএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও