সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা

নড়াইল প্রতিনিধি ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে হত্যা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বদর খন্দকারকে (৪০) নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লোহাগড়া-নড়াইল সড়কের টি চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন বদর। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ধারালো অস্ত্রের কোপে বদরের বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। ডান হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন যায়। দুই পায়েরই হাটুর নিচ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দা, মুঠোফোন, একটি খালি কালো ব্যাগ ও দুটি স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বদর খন্দকার লোহাগড়া ইউনিয়নের চরবগজুড়ি গ্রামের ময়ের আলীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য ছিলেন। এছাড়া বিগত মেয়াদে তিনি লোহাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বদর খন্দকার কালনায় নিজের ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেলে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুবৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেপরোয়াভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় তিনি মারা যান।

লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুমনা খানম জানান, ধারালো অস্ত্রের কোপে তার বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল পড়ে যায়। ডান হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন। দুই পায়েরই হাটুর নিচ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে এ হামলা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দা, মুঠোফোন, একটি খালি কালো ব্যাগ ও দুটি স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল শিকদারের সাথে বদর খন্দকারের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। এর জের ধরেই তার ওপর এ হামলা হয়েছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এএস/পিএসএস

 

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও