এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৬ চৈত্র ১৪২৬

এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

নড়াইল প্রতিনিধি ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

এক লাখ মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ

প্রতিবছরের মতো এবারও এক লাখ মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্বরণ করলো নড়াইলবাসী।

এ বছর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করা হয়। একই সাথে ভাষা দিবসের ৬৯তম বার্ষিকীতে ৬৯টি ফানুস ওড়ানো হয়।

একুশের আলো ২০২০ নড়াইলের আয়োজনে শুক্রবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের কুরিরডোব মাঠে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি নড়াইল জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস,  সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার কুন্ডু।

এছাড়া একুশের আলো ২০২০ উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কচি খন্দকার সহ কমিটির সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কয়েকশত স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নেমে পড়েন প্রদীপ জ্বালানোর কাছে। একে একে জ্বলে ওঠে কুড়িরডোবের প্রায় ৬ একর বিশিষ্ট বিশাল মাঠ জুড়ে মঙ্গল প্রদীপ। প্রদীপের আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে  পুরো মাঠটি।

প্রদীপের আলোতে শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলা বর্ণমালা ও বিভিন্ন আল্পনা ফুঁটে ওঠে।

নড়াইলের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ অন্যান্য সংগঠনের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ সহ দেশাত্মোবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ঘন্টাব্যাপী নান্দনিক এ অনুষ্ঠানটি নড়াইল এবং বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার দর্শক উপভোগ করেন । 

একুশের আলো উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব নাট্য অভিনেতা কচি খন্দকার বলেন, ‘ ১৯৯৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি নড়াইলে ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এ আয়োজন সফল করতে  ১ মাস পূর্ব থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও শ্রমিকরা কাজ শুরু করে।

তিন শতাধিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মাঠের চারপাশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা করেন।  সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে অন্ধকার থেকে সমাজকে আলোকিত করতেই আমাদের এই আয়োজন। লাখো প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে মাঠ থেকে যেমন অন্ধকার ভেদ করে আলোকিত হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনি আমাদের সমাজ থেকে সব কুসংস্কার ও অন্ধকার থেকে আলোকিত হয়ে উঠবে এবং দেশব্যাপী একুশের চেতনায় জাগ্রত হয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিবছর আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি।’

এএস/পিএসএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও