নোম্যান্সল্যান্ডে দু’বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

নোম্যান্সল্যান্ডে দু’বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা

শিশির কুমার সরকার, বেনাপোল ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

নোম্যান্সল্যান্ডে দু’বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মিলনমেলা

‘একই আকাশ, একই বাতাস, দু’বাংলার মানুষের ভাষাও এক’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে দু‘বাংলার মানুষ পৃথক মঞ্চে গাইলেন বাংলা ভাষার জয়গান। নেতারা হাতে হাত রেখে ঊর্ধ্বে তুলে ধরলেন বাংলাকে।

আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই বারবার ছুটে আসি দু‘দেশের বাঙালি বাংলাভাষী মানুষের পাশে। দীর্ঘ ৪ বার দু‘দেশের বাংলা ভাষা প্রেমী মানুষ নোম্যান্সল্যান্ডে শেখ মুজিব একুশে মঞ্চে অনুষ্ঠান করত। কিন্তু অনিবার্য কারণে এ বার দু‘চেকপোস্টে পৃথক স্টেজে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সীমান্তের কঁড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা জানাতে বেনাপোল-পেট্টাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে বেলা সাড়ে ১১ টায় যৌথভাবে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য ও স্থানীয় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন।

এবার ভারতের ৫০ জন ও বাংলাদেশের ৫০ জন নির্দিষ্ট কার্ডধারী মানুষ নোম্যান্সল্যান্ডে ও এপার ওপার ষ্টেজে আসা যাওয়া করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু ইতিপূর্বে ৪ বছর নো-ম্যান্সল্যান্ডে একই স্টেজে অনুষ্ঠান হওয়ায় সেখানে যাতায়াত সুবিধা ছিল ব্যাপক।

বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ একই মঞ্চে বাংলা ভাষায় গান ও কবিতা আবৃত্তি করত। কিন্তু এবার সে সুযোগ ছিল সীমিত। ভারতের অতিথিরা বাংলাদেশের স্টেজে আসার সময় মিষ্টি নিয়ে আসেন। অনুরূপ ভারতের স্টেজে যাওয়ার সময় বাংলাদেশিরা মিষ্টি নিয়ে যান।

শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও স্থানীয় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার নেয়ামুল হক, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান, বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা, ভারতের বনগাঁ পৌর সভার মেয়র শ্রী শংকর আঢ্য, উত্তর ২৪ পরগণার মেন্টর জেলা পরিষদের গোপাল শেঠ প্রমুখ।

বেনাপোল চেকপোস্ট মিলন মেলার অনুষ্ঠানে ৭ জন গুণি ব্যক্তিকে মৈত্রী পদক প্রদান করা হয়। মৈত্রী পদকপ্রাপ্তরা হলেন দৈনিক কালের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ফখরে আলম, ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কবি মুক্তি বসু, সমাজ সেবক কার্তিক দত্ত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজগর মিয়া, মিনহাজ উদ্দিন, শিক্ষাবিদ শান্তি পদ বিশ্বাস ও বৃক্ষ প্রেমিক আব্দুল ওয়াহেদ সরদার।

উভয় দেশের বক্তারা বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা। এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জড়ো হয়েছিলেন ২ সীমান্তে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ।

উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। দু’দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রঙের ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দু’বাংলার মানুষের এ মিলন মেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের আমেজ সৃষ্টি হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, পাকিস্তানী সরকার ঘোষণা করেছিল উর্দু হবে বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য সংগ্রাম করায় আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। যুদ্ধের সময় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। আমরা এক ও অভিন্ন। কাজের সুবিধার্থে এক স্টেজের পরিবর্তে পৃথক পৃথক স্টেজে অনুষ্ঠান হলেও আমাদের আত্মা রয়েছে এক। বিশ্বের যেখানে বাংলাভাষী মানুষ বিপদে পড়বে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, আপনারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। ভাষা আর স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগের নজির পৃথিবীতে অন্য কোন দেশে নেই। এ জন্য আপনারা গর্বিত জাতি।

তিনি বলেন, ভাষার টানে আমরা বাংলাদেশে ছুটে এসেছি একুশ উদযাপন করতে। দু’বাংলার মানুষের মিলন মেলার মধ্যদিয়ে দু’দেশের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে। আমার এসেছি আত্মার টানে। বাংলায় কথা বলি তাই বার বার ছুটে আসি। দেশ বিভক্তি হলেও ভাষার পরিবর্তন হয়নি। আমরা ওপারে থাকলেও শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ সকল ভাষা সৈনিকের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল।

এসকেএস/পিএসএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও