ভালোবাসা দিবস উদযাপনের রকমফের!

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

ভালোবাসা দিবস উদযাপনের রকমফের!

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ৮:২৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০

ভালোবাসা দিবস উদযাপনের রকমফের!

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও বসন্তবরণ। বিশেষ দিনে ভালবাসা প্রকাশের ভিন্নতা ছিল চোখে পড়ার মত। কেউ একটি গোলাপ পঞ্চাশ টাকায় কিনে প্রিয়জনের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেই ফুল পেয়ে বেজায় খুশি প্রিয়তমা। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের নানা রকম অনুসঙ্গ ছিল দিনব্যাপী। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে দিবসটি উদযাপনে নানা অনুষ্ঠানও হয়েছে। আবার ভালোবাসা দিবস উদযাপন বিরোধী কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। দিবসটিকে কে কিভাবে ধারণ করছেন সেটি নির্ভর করেছে তা প্রকাশের রকমফেরে।

পার্কে পার্কে চারা বিতরণ করলেন বৃক্ষপ্রেমিক:

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যশোরে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করলেন বৃক্ষপ্রেমী ওয়াহিদ সরদার। দিবসটিতে যশোরে বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে গাছের চারা বিতরণ করে গাছ ও প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দর্শনার্থীরাও তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

ওয়াহিদ সরদার যশোরে বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবে পরিচিত। তিনবছর ধরে সড়কের পাশে থাকা গাছ থেকে পেরেক ও ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করে চলেছেন তিনি।

পেশায় রাজমিস্ত্রি ওয়াহিদ সরদার তিনটি শাবল ও বাইসাইকেল নিয়ে প্রতিদিন যশোর সদর উপজেলার সাড়াপোল গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সাইকেলের সামনে একটি সাইনবোর্ড বাঁধা। তাতে গাছে পেরেক মারার ক্ষতির বিষয়ে সতর্কবার্তা লেখা থাকে।

ওয়াহিদ সরদার জানান, আজ ভালোবাসা দিবসে তিনি গাছের প্রতি ভালোবাসার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সকালে যশোর সামাজিক বনবিভাগের দপ্তরে গিয়ে তিনি তার ইচ্ছার কথা জানান। এসময় কর্তৃপক্ষ তাকে ১০০টি কাগজি লেবু, করমচা, উলোট কম্বল, পেয়ারা, বকুল ও জলপাই গাছের চারা দেয়। সেই চারা নিয়ে তিনি পৌর পার্কে আসেন এবং পার্কে আগত যুগলদের মধ্যে গাছের চারা বিতরণ করেন। অনেকে নিয়েছে আবার অনেকে নিতে চায়নি।

তিনি আরও বলেন, আজ যারা পার্কে এসেছে তারা একে অপরকে ভালোবাসে। তাদের গাছ দিলাম। তারা এ গাছ লাগিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পারবে। মানুষের মৃত্যু হলেও এ ভালোবাসা গাছরূপে স্মৃতি হয়ে থাকবে।

এদিকে গাছ পেয়ে উচ্ছ্বসিত পার্কে আসা যুগলরা জানান, ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের কাছ থেকে ফুল পেয়ে যতটা না আনন্দিত, গাছের চারা পেয়ে তারা আরও বেশি সন্তুষ্ট।

একটি গোলাপের দাম ৫০ টাকা !

ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের গদখালির চাষীরা এবার রেকর্ড দামে গোলাপ বিক্রি করেছেন। পাইকারী বাজারে দাম পেয়েছেন ২০ টাকা পর্যন্ত। উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশি। বসন্তবরণ ও ভালবাসা দিবসে গোলাপের বিকল্প পাওয়া কঠিন। তাই চাহিদাও ব্যাপক। বেশি দামে গোলাপ বিক্রি করতে পেরে খুশি। চাষীর কাছে ভালোবাসা দিবস মানে চড়া দামে ফুল বিক্রিতে খুশির ঝিলিক।

গদখালি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরুত্বে যশোর শহরে ভ্যালেন্টাইন ডে’তে প্রতি পিস গোলাপ বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। দাম বেশি হলেও ক্রেতারা পিছিয়ে যায়নি। দামি গোলাপ কিনেছেন প্রিয়জনের জন্য। আর তাই শহরের মোড়ে মোড়ে ফুলের পসরা সাজিয়ে ফায়দা লুটেছেন মৌসুমী ফুল ব্যবসায়ীরাও।

শুক্রবার বিকালে যশোর শহরের গাড়িখানা রোডের সেন্ট্রাল ফুলঘরের বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, আজ গোলাপ ফুল প্রতি পিস সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। ভাল মানের ফুলের দাম একটু বেশি। সর্বনিম্ন ১৫ টাকায় গোলাপ বিক্রি হয়েছে। পাশ থেকে আরেকজন বিক্রেতা বলেন, এবার চাষীরা বেশি লাভবান হয়েছে।

ভালবাসা দিবসে রক্তদান :

ভালোবাসা দিবসে “ভালোবাসা দিবসের আহবান, নিঃস্বার্থে করবো রক্তদান’’ এই প্রতিপাদ্যে যশোরে স্বেচ্ছায় রক্তদান উৎসব হয়েছে।

শুক্রবার যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চত্ত্বরে রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যশোর জেলা ইউনিট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সকাল ১০টার দিকে রক্তদান উৎসবের উদ্বোধন করেন যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু।

জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রোগ্রাম অর্গানাইজার গোপাল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আক্তারুল আলম বাবলু।

ভালবাসা দিবসে বিক্ষোভ সমাবেশ:

‘প্রেম কে না বলুন; উন্নত ও মহৎ জীবন গড়ুন’, ‘ছাত্র জীবনে প্রেম নয় পড়াশুনায় মন চাই’,  ‘প্রেম করুন কিন্তু মানুষকে ভালোবাসুন’, ‘বিয়ের আগে প্রেম নয়;পড়াশুনায় মন চাই’ । বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুনে এমনই স্লোগান নিয়ে যশোরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে প্রেম বঞ্চিত তরুণ-তরুণীরা। এতে শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। 

শুক্রবার দুপুরে যশোরের এন্টি লাভ অর্গানাইজেশন নামে এক সংগঠন এই বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পৌর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান, সদস্য আজিজুল ইসলাম, ফাহাদ ফারদিন, সুমন হোসেন, সুমনা ইসলাম প্রমুখ।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান বলেন, কিছু কিছু ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে একাধিক প্রেম করছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ও প্রতারণায় পড়ছে প্রেমিক প্রেমিকা। এজন্য প্রেমের বাজারে প্রকৃত প্রেমিক-প্রেমিকার সংকট দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রেমে প্রতারণার শিকার হয়ে আমাদের এক মেধাবী বন্ধুর অকাল মৃত্যুর কারণে ২০১৫ সাল থেকে ভালোবাসা দিবসে এন্টি লাভ অর্গানাইজেশনের ব্যানারে আমরা এই প্রেমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছি।

এ সময় প্রেমের নামে অশ্লীলতা বন্ধের দাবি পেশ করে সংগঠনটি। সেইসঙ্গে প্রেমিক যুগলদের প্রতারণা নষ্টামির প্রেম ছেড়ে আদর্শভিত্তিক জীবন গড়ার আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শতাধিক তরুণ-তরুণী বিয়ের আগে প্রেম না করার শপথ গ্রহণ করেন।

পিএসএস

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও