যশোরে ১১ দিনে চোর সন্দেহে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

যশোরে ১১ দিনে চোর সন্দেহে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

যশোরে ১১ দিনে চোর সন্দেহে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা

চলতি মাসে ১১ দিনে যশোরের দুই উপজেলায় চুরির অভিযোগে পাঁচজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। কৃষকের গোয়ালের গরু ও ভ্যান চুরির অভিযোগে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে অভয়নগরে ভ্যান চোর সন্দেহে ইলিয়াস শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে।

জনগণ আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ায় চুরি ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

শুক্রবার ভোরে যশোরের অভয়নগরে ভ্যান চোর সন্দেহে ইলিয়াস শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। নিহত ইলয়াস শেখ শুভরাড়া গ্রামের হাকিম শেখের ছেলে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোর চারটার দিকে অভয়নগর থানার শুভরাড়া মাঠপাড়ায় হাজী আছাদ ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে ভ্যান চোর সন্দেহে ইলিয়াস শেখকে উত্তেজিত জনতা পিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইলিয়াসের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ইনসান আলীর বাড়ির গোয়ালের তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল ইলিয়াস ও আব্দুল। চুরির বিষয়টি টের পেয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী দুই গরু চোরকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলু মিস্ত্রির ছেলে ইলিয়াস (৩৫) নিহত হন।

গত ১৩ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের গাইদগাছি গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে খোরশেদ আলমের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি করে। গ্রামবাসী মাইকে ঘোষণা দিয়ে চোরদেরকে দেড় কিলোমিটার ধাওয়া করে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামের মজুমদারপাড়ায় পিটিয়ে হত্যা করে।

নিহত চোরেরা হলো খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার রেলগেট এলাকার সোহেল (২৭) ও একই এলাকার সৈকত (৩০), অজ্ঞাত (৩০)।

এই ঘটনায় পুলিশ ৩টি গরু ও চোরদের ব্যবহৃত নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ উদ্ধার করে। এসময় বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার কাটাখালি লকপুর গ্রামের ওহাব শেখের ছেলে জনি শেখকে আটক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৯ সালে অভনগরের প্রেমবাগ গ্রামের প্রায় ৪৩টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গরু চুরির ঘটনা মাঝে-মধ্যেই ঘটে থাকে। যাদের গোয়ালে গরু থাকে তাদের চোখে শান্তির ঘুম আসে না। গণপিটুনিতে চোর নিহত হওয়ায় কৃষক অন্তত ৬ মাস মানুষ একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। অনেকের গরু চুরি হওয়ার কারণে পথের ফকির হয়ে গেছেন। অনেকে ধারদেনা করে গরু কিনেছিল। কিন্তু চুরি হওয়ার কারণে মান-সম্মান বাঁচাতে এলাকা ছাড়া। মানুষ গরু চোরের জন্য অতিষ্ঠ ছিল।

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিনা বিচারে মানুষ হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই। চুরি ও গণপিটুনির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনত হয়েছে। বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।’

জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘চুরি ও গণপিটুনি বন্ধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। স্থানীয় থানা, ফাঁড়ির মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করছি। তারপরও দু-একটি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। উত্তেজিত জনতা চোরকে পিটিয়ে হত্যা করছে। চুরি ও গণপিটুনির ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়।’

এইচআর

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও