যশোরে আবারও পুলিশের ভুলে নিরপরাধ কারাগারে!

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

যশোরে আবারও পুলিশের ভুলে নিরপরাধ কারাগারে!

ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ৩:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

যশোরে আবারও পুলিশের ভুলে নিরপরাধ কারাগারে!

যশোরে নিজের ও বাবার নামের মিল থাকায় মিজান নামে এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে কোতয়ালি থানার এএসআই আল মিরাজ সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের বাড়ি থেকে মিজানকে গ্রেফতার করে। তিনি ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে স্বজনরা দাবি করেছেন, নাম ও বাবার নামের মিলের কারণে নিরাপরাধ মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার মিজানের স্বজনরা জানান, সুজলপুর সরদার পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে মিজান ওরফে পাগলা মিজান। তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। আর প্রকৃত আসামি মিজানের বাড়ি সুজলপুর হঠাৎপাড়া। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম হাওলাদার। তার নামে মামলা আছে। নাম আর বাবার নামে মিল থাকায় পুলিশ নিরাপরাধ মিজানকে গ্রেফতার করেছে।

এ প্রসঙ্গে কোতয়ালি থানার এএসআই আল মিরাজ জানান, এলাকায় গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে যাচাই বাছাই করে মামলার প্রকৃত আসামি মিজানকে সনাক্ত করা হবে। গ্রেফতারকৃত মিজান নির্দোষ হলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ভুল করে নিরাপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা যাচাই বাছাই করে দেখা হবে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ মার্চ পুলিশ আসামির বদলে নিরপরাধ রেখা খাতুনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। আসল আসামি বিদেশ থাকলেও স্বামীর নামের মিলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ৪ এপ্রিল মুক্তি পান তিনি।

রেখা খাতুনের মতো পুলিশের ভুলে তিন মাস কারাভোগ করেন যশোরের আরেক যুবক সবুজ। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের ভুল ভাঙ্গে। ২০১৯ সালের ২২ মে কারাগার থেকে মুক্তি পান নিরাপরাধ সবুজ।

রেখা খাতুন ও সবুজের মতো যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ দফাদার (৬১) বিনা অপরাধে ৮ দিন কারাবাস করেন। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি।

এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও