হত্যার পর গৃহবধূর লাশ রেখে পালালো স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়ি

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

হত্যার পর গৃহবধূর লাশ রেখে পালালো স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়ি

নড়াইল প্রতিনিধি ৩:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

হত্যার পর গৃহবধূর লাশ রেখে পালালো স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়ি

অমানুষিক নির্যাতনে গৃহবধু তামান্না খাতুনকে হত্যার পর লাশ লেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী শিপান শেখসহ শ্বশুর-শাশুড়ি ও পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের পার-বিষ্ণুপুর গ্রামে। তামান্না খাতুনের (২০) পিতার অভিযোগ তার কন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে। তামান্নার এক বছর ৩ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিকসূত্রে জানাগেছে, কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের পারবিষ্ণুপুর গ্রামের রব্বেল শেখের ছেলে দিনমজুর শিপানের সঙ্গে পিরোলী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের আকতার মোল্যার মেয়ে তামান্না খাতুনের তিন বছর আগে বিয়ে হয়।

তামান্নার পিতা ইটভাটা শ্রমিক আকতার মোল্যা জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী শিপানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়ে তামান্নাকে প্রায়ই মারধর ও নির্যাতন করত। স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে তামান্না কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এ নিয়ে পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একবার সালিশ করেও কোন সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর তামান্নাকে আর নির্যাতন করবে না-এমন অঙ্গীকার করে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রতিবেশি লিটন ও আনোয়ার এসে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও নির্যাতন থেমে থাকেনি। গত একমাসের কম সময়ের মধ্যে তিনবার নির্যাতন করা হয়েছে তাকে।

তামান্নার পিতা অভিযোগ করেন, ‘সর্বশেষ শুক্রবার (৬ডিসেম্বর) সকালে মাছকাটাকে কেন্দ্র করে তামান্নাকে তার শ্বাশুড়ি মারধর করে। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে আমার মেয়ে মোবাইল ফোনে এ মারধরের কথা আমাকে জানায়।

রাত ১২টার দিকে শিপানের প্রতিবেশি আনোয়ার তার মোবাইল ফোনে আমার মেয়ে তামান্নার অসুস্থতার খবর জানিয়ে ওই বাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি) আমাদের আসতে বলেন। মেয়ের অসুসস্থার খবরে উদ্বিগ্ন  হয়ে পড়ি।

এক পর্যায়ে আনোয়ার আমাকে বলেন, তামান্না মারা গেছে। আমাদের পরিবারের লোকজন ওইবাড়িতে গিয়ে দেখতে পায়, তামান্নাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের মধ্যে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। তামান্নার স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়িসহ পরিবারের সাত সদস্য সবাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তামান্নার মুখের বাম পাশে আঘাতের চিহৃ আছে। তাকে বালিশ চাপা দেয়া হয়েছে বলেও মনে হচ্ছে।

পুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মনি বলেন, তামান্নাকে নির্যাতনের ঘটনায় সালিশ করেও তাদের দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি। অবশেষে মেয়েটিকে লাশ হতে হলো।’

কালিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার সকালে গৃহবধু তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় তামান্নার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।’

এএস/এফএ

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও