কমিটি গঠনে ব্যর্থ ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি

ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৬ মাঘ ১৪২৬

কমিটি গঠনে ব্যর্থ ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ৫:০৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

কমিটি গঠনে ব্যর্থ ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি

দীর্ঘ এক যুগ পর ঝিনাইদহের ৪টি উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করে জেলা কমিটি। কিন্তু এরমধ্যে ৩টি উপজেলা ও পৌর শাখার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়ায় কমিটিগুলো স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর হরিণাকুন্ডু উপজেলা ৪১ সদস্য ও পৌর শাখা ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয় এবং একই তারিখে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট শৈলকুপা উপজেলা ও ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর শাখার আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নভেম্বর মাসের ৭ তারিখে কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপজেলা কমিটি ৪১ সদস্য বিশিষ্ট ও পৌর কমিটি ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ঘোষণা করা হয়।

এ সব কমিটিগুলো অনুমোদন করেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস.এম মসিউর রহমান ও সদস্য সচিব এম এ মজিদ। 

এসব কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিতরা স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। এসব অভিযোগ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে লিখিতভাবে জানালে কেন্দ্রীয় কমিটি এই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে।

পৃথক চিঠিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, এ সব কমিটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কালীগঞ্জ ও শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর শাখার তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা ও পৌর শাখার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর প্রেরণ করতে হবে। এসব অভিযোগগুলো বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে সরেজমিনে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালীগঞ্জ, হরিণাকুন্ডু ও শৈলকুপা উপজেলা ও পৌর কমিটি কোন প্রকার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে পারবে না।

নেতাকর্মীরা জানান, কমিটিতে গত নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করা ব্যক্তিদের স্থান দিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অপমান করা হয়েছে। এছাড়া দলে যারা নিষ্ক্রিয় তারা কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়া দল পুনর্গঠনে স্ব স্ব এলাকায় সভা আহ্বান করার নির্দেশনা থাকলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই নির্দেশনা থাকলেও জেলা কমিটি সেটা করেননি। এছাড়া ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে জৈষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে সুবিধাবাদী নিষ্ক্রিয় এবং ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম তোতা বলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে অধিকাংশই নেতাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাতকারী এবং নিষ্ক্রিয়। এই দুই কমিটি অচিরেই সংস্কার করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, এই আহ্বায়ক কমিটি গুলোর মূলত কাজই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করে সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা। আর সেটা যেহেতু কেন্দ্রীয়ভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ রয়েছে। সেহেতু কমিটির কার্যক্রমই স্থগিত করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, সদ্য ঘোষিত শৈলকুপা উপজেলা কমিটিতে যাদের পদ দেওয়া হয়েছে তারা অধিকাংশই গত নির্বাচনে নিস্ক্রিয় ছিল।

হরিণাকুন্ডু উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করেন, স্বয়ং উপজেলা কমিটির আহ্বায়কই ১০/১২ বছর রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। উনি কিভাবে আহ্বায়ক হলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।

সদ্য ঘোষিত কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবার রহমান বলেন, কেন্দ্র থেকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি কোন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে পারবে না বলে একটি চিঠি পেয়েছি।

ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এম. এ মজিদ বলেন, কমিটি স্থগিত হয়নি কিন্তু উক্ত কমিটিগুলো কোন ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে পারবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরই এ ব্যাপারে বলা যাবে।

এসএএস/এমএইচ

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও