অবশেষে বাড়িভাড়ার টাকা ফেরত দিলেন সেই অধ্যক্ষ

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

অবশেষে বাড়িভাড়ার টাকা ফেরত দিলেন সেই অধ্যক্ষ

যশোর ব্যুরো ৩:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

অবশেষে বাড়িভাড়ার টাকা ফেরত দিলেন সেই অধ্যক্ষ

অবশেষে সরকারি কোষাগারে বাড়িভাড়ার টাকা ফেরত দিলেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে প্রফেসর আবু তালেব মিয়া। গত ২৮ নভেম্বর চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সরকারি বাসভবনে থাকলেও সরকারি কোষাগার থেকে বাড়িভাড়া তুলছিলেন। এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর তিনি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন।

যশোর জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জিএম জিল্লুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া সরকারি বাসভবনে থাকার পরও বাড়ি ভাড়া তুলেছিলেন। তার জন্য বরাদ্দ সরকারি বাসভবন ২০১৮ সালের ৫ মে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ওইদিন পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ উত্তোলিত ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন।

যশোর জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের তথ্য মতে, ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন প্রফেসর আবু তালেব মিয়া। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পূর্বের মাসের বাড়ি ভাড়া বাবদ ২২ হাজার ১৪৮ টাকা উত্তোলন করেছেন। এরপর ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রত্যেক মাসে ২৩ হাজার ৩৭ টাকা উত্তোলন করেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রত্যেক মাসে ২৩ হাজার ৯৬১ টাকা উত্তোলন করেন।

২০১৮ সালের ৪ মার্চ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে কনডেমেশন কমিটির সভায় সরকারি এমএম কলেজ অধ্যক্ষের বাসভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বাসভবন পরিত্যক্ত করায় তিনি মহিলা হোস্টেল সুপারের বাসভবনে থাকছিলেন। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি সরকারি বাসভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা পর্যন্ত উত্তোলিত বাড়ি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া বলেছিলেন, সরকারি বাসভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দুই মাস হলো সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে কিছুদিন থেকেছি। ক্যাম্পাসের অদূরেই থাকি।

মহিলা হোস্টেল সুপারের বাসভবনে থাকেন কতদিন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে থাকি, এক বছর তো হয়নি, দুই তিন মাস হয়েছে। ‘একা মানুষ। শহরের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে থেকেছি। আমি তো মানবেতর জীবনযাপন করছি। যেখানে থাকি, সেখানকার ভাড়া তো ৫’শ টাকার বেশি না। বাসা ভাড়া তো অনেক। তাহলে কেন ভাড়া তুলবো না।

এমএম কলেজের প্রিন্সিপালের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার সুযোগ নেই। মহিলা হোস্টেল সুপারের বাসভবনও পরিত্যক্ত। সেখানে থাকার মত অবস্থা নেই। সেখানে মাঝে মাঝে থাকি।’

আইআর/জেডএস

আরও পড়ুন...
যশোর সরকারি এমএম কলেজ অধ্যক্ষের কাণ্ড

 

খুলনা: আরও পড়ুন

আরও