বিনামূল্যে সেহেরি খাওয়ান নূর নাহার

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

বিনামূল্যে সেহেরি খাওয়ান নূর নাহার

আবু আক্তার করন, মেহেরপুর ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ, মে ২১, ২০১৮

print
বিনামূল্যে সেহেরি খাওয়ান নূর নাহার

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটক। রোববার রাত তিনটা। নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। তাদের প্রত্যেকের হাতে ভ্যান থেকে তুলে দেয়া হচ্ছে খাবার। মধ্যবয়সী এক নারী নিজ হাতে বিনামূল্যে এই খাবার সরবরাহ করছেন। টানা তিন রমজান তিনি এভাবে শেষরাতে সেহেরি দিচ্ছেন। তার হাতের রান্না করা ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম খাবার পেয়ে খুশি হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনেরা।

মধ্যবয়সী ওই নারীর নাম নূর নাহার। মেহেরপুর শহরের ওয়াপদা পাড়ার বাসিন্দা। তিন বছর আগে ছেলে মারা যান। এরপর তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় তিনি ব্যতিক্রমী এই কাজ বেছে নেন।

সন্তানের জন্য দোয়া নিতে নূর নাহার রমজান এলেই প্রতিদিন গভীর রাতে খাবার নিয়ে ২৫০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান।

সেহেরি খেতে তিনি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর নিজের হাতে খাবার দেন। খাবারের মেন্যুতে সাদা ভাতের কোনো দিন ডাল, ডিম, সবজি, কোনো দিন মাছ কিংবা মাংস থাকে।

হাসপাতলের রোগী ও তাদের স্বজনেরা জানান, প্রতিদিন বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে নূর নাহার সেহেরি খাওয়ান। সন্ধ্যা রাতেই হাসপাতাল খাবার দিয়ে যায়। শেষ রাত পর্যন্ত সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। তাই রমজানে বেশিরভাগ রোগী ও তাদের স্বজনদের ভরসা নূর নাহারের সেহেরি।

নূর নাহারের এই উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন বিভিন্নভাবে সহযোগী করে থাকেন বলে জানা গেছে।

তিন দিন ধরে দুই ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে আছেন সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের গৃহবধূ রুবিনা খাতুন। নূর নাহারের সেহেরি নিয়ে ফেরার সময় পরিবর্তন ডটকমকে তিনি জানান, প্রথম রোজা থেকে নূর নাহার নামের এক নারী তাদের সেহেরি খাওয়াচ্ছেন। এতে করে তারা ভালোভাবে রোজা রাখতে পারছেন।

রোগীর স্বজনদের মাঝে সেহেরি বিতরণে নূর নাহারকে সহযোগিতা করেন সাইফুল ইসলাম ও তারিকুল ইসলাম নামের দু’জন।

তারা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিন বছর ধরে তারা নূর নাহারের সঙ্গে সেহেরি বিতরণ করছেন। এই কাজ করতে পেরে তারা নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন।

সাইফুল ও তারিকুল আরও জানান, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০ জনের মাঝে সেহেরি বিতরণ করা হয়। ভাত, মাছ, মাংস ও ডিম তরকারির এই সেহেরি বিনামূল্যে দেয়া হয়।

রোগীর স্বজনদের সেহেরি খাওয়ানোর উদ্যোক্তা নূর নাহার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমার ছেলে মারা গেছে। ওর জন্যই আমি তিন বছর ধরে মানুষকে সেহেরি খাওয়াচ্ছি। যতদিন বাঁচব, এটি করে যাব। সবাই দোয়া করলে আল্লাহ আমার ছেলেকে মাফ করে দিবেন।’

এএকে/আইএম

 
.




আলোচিত সংবাদ