বিএনপি নেতা শামসুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

১৫৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাত

বিএনপি নেতা শামসুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো ৩:১২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print
বিএনপি নেতা শামসুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামের খাদ্যপণ্য আমদানিকারক ও শিল্প গ্রুপ‘মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্সে’র বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রয়াত্ব অগ্রণী ব্যাংকের ১‘শ ৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই মামলায় ওই ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৬ মে) দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম বাদি হয়ে সিএমপির ডবলমুরিং থানায় মামলাটি দায়ের করেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের দায়েরকৃত এই মামলার আইও দুদক নিয়োগ করেছে।

মামলার বিবাদিরা হলেন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্সে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও নগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম (৫০), প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছার (৪৯) ও পরিচালক মো.নুরুল আলম (৪২), পরিচালক জয়নাব বেগম (৬৪) পরিচালক কামরুন্নাহার বেগম (৪২), পরিচালক তাহমিনা বেগম (৩৪), অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, কর্পোরেট বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ শাখার সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আমিন (৫৬), সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. জোনায়েদ বোগদাদী (৬১) সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার উদয় কুমার বিশ্বাস (৬৩), প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শাহজাদুল আলম (৪৯) ও সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক ইয়াসিন ফারুকী(৫৬)।

অর্থ আত্মসাৎ করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামালায় আসামিদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রাঃ) লিমিটেডের পরিচালকরা ব্যাংকের অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়া থেকে অপরিশোধিত (ক্রুড) পাম অয়েল আমদানি করে। সেই আমদানিকৃত পণ্য বিক্রয় করার পরও ব্যাংকের অর্থ পরিশোধ না করে ৩ টিটিআর ঋণ বাবদ যথাক্রমে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ৪৬ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং ৬৩ কোটি ৩৬লাখ ২৫ হাজার টাকা (অর্থাৎ সর্বোমোট ১‘শ ৫৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা) আত্মসাৎ করেছে। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছে ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তারা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা আমদানিকৃত মালামালের ওপর নিবিড় তদারকি ও স্টক পরিদর্শন করেনি। ঋণ মঞ্জুরির শর্তানুযায়ী ঋণের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শাখা ব্যবস্থাপক ও শাখার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থাকা ছিল। তা সত্ত্বেও ব্যাংক বিধি অনুযায়ী উল্লিখিত ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ আদায় করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তারা ঋণ মঞ্জুরি/ ক্রেডিট কমিটির শর্তানুযায়ী ঋণপত্র খোলা, ঋণ বিতরণ, আমদানিকৃত মালামাল/পণ্যের বিক্রিত মূল্য থেকে যথাসময়ে টিআর ঋণ সমন্বয় নিশ্চিত না করার অভিযোগ করা হয়েছে দুদকের দায়েরকৃত এই মামলায়।

জেএইচ/এএস

 
.




আলোচিত সংবাদ