মিনায় ২৫ লাখ মুসল্লি, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মিনায় ২৫ লাখ মুসল্লি, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০১৯

মিনায় ২৫ লাখ মুসল্লি, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মক্কার মিনায় হাজিদের জড়ো হওয়ার মধ্যদিয়ে ধর্মীয় এই অনুষঙ্গ শুরু হয়।

এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৫ লাখ মুসলিম হজ করতে সৌদি আরবে গেছেন।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র বাসাম আতিয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হাজিদের সেবায় রাষ্ট্রের সব বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আল্লাহর মেহমানদের সেবা করতে পেরে তারা গর্বিত।

হজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাতিম বিন হাসান কাদি জানান, কোনো ধরনের মধ্যস্থাকারী ছাড়াই এবার তারা সফলভাবে ১৮ লাখ ভিসা অনলাইনে দিতে পেরেছেন।

মিনায় সমবেত ৪০ বছর বয়সী মিশরের হাজি মোহাম্মদ জাফর বলেন, ‘হজ পালনের মাধ্যমে আমরা নিষ্পাপ হওয়ার চেষ্টা করি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমের সঙ্গে এখানে দেখা হওয়া সত্যিই দারুণ।’

আলজেরিয়ার ৫০ বছর বয়সী এক নারী প্রথম হজ করতে এসেছেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্ণনা করে বোঝানো যাবে না। হজ করার পরই কেবল এটি বোঝা যাবে।’

এ সময় তার সঙ্গী নারী বলেন, ‘এটি সত্যিই জীবনের স্বর্ণালী সুযোগ এবং সেরা মুহূর্ত।’

সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে নারী ও পুরুষেরা পৃথকভাবে হেঁটে অথবা বাসে করে মিনায় সমবেত হন। মিনা মক্কা জেলার ছোট্ট একটি উপত্যকা, যা পাহাড় বেষ্টিত। প্রত্যেক বছর এটি হজযাত্রীদের আগমনে বিশাল শিবিরে পরিণত হয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, মিনায় হাজিদের অবস্থানের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার শীততাপ নিয়ন্ত্রিত তাবু তৈরি করা হয়েছে। এখানে রাত্রিযাপন করে হাজিরা শনিবার ‘ক্ষমার পাহাড়’ বলে পরিচিত আরাফাতের ময়দানে যাবেন। সেখানে তারা নামায আদায় ও কোরআন তেলাওয়াত করবেন।

হাজিরা মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আরাফাত ময়দানের দীর্ঘ পথ হেঁটে, হুইল চেয়ার, বাসে এবং যে যেভাবে পারেন পৌঁছবেন। এ সময় সবার শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকবে। হাজিদের মুখে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

শনিবার (১০ আগস্ট) আরাফাতের ময়দান থেকে মুসল্লিরা মাগরিবের নামায আদায় না করেই রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামায একসঙ্গে আদায় করবেন। এখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

রোববার (১১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামায শেষে হাজিরা আবার মিনায় আসবেন। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন।

এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি, তারা সেখানে যাবেন। সেখানে অবস্থানের পরই হাজিদের দেশে ফেরা শুরু হয়।

এমএফ/

 

: আরও পড়ুন

আরও