চীনে হুই মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ | ১০ আষাঢ় ১৪২৫

চীনে হুই মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৮

print
চীনে হুই মুসলিমদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা

সম্প্রতি চীনের হুই মুসলিম অধ্যুষিত গানসু প্রদেশের লিনশিয়া জেলার মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে।

গানসু প্রদেশের লিনশিয়া শহরের বাসিন্দা লি বলেন, ‘গত কয়েক বছর যাবত এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা শোনা গেলেও তা প্রয়োগে শিথিলতা ছিল। বর্তমানে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা প্রচার এবং এর প্রয়োগে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।’

এর আগে চীনের শিক্ষা অধিদপ্তর গুয়ানগি জেলার মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলামি শিক্ষা গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

এই নিষেধাজ্ঞা কি সাময়িকভাবে না স্থায়ীভাবে আরোপ করা হয়েছে, চীনা কর্তৃপক্ষ এখনো বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন একটি আইন জারি করেছে।

রয়টার্সকে পাঠানো লিনশিয়ার পাবলিসিটি ডিপার্টমেন্টের এক ফ্যাক্স বার্তায় বলা হয়, ‘ধর্মীয় ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য হচ্ছে, চীনের একতাকে সংহত করা এবং সকল প্রকার ধর্মীয় উগ্রপন্থা থেকে চীনকে সুরক্ষিত রাখা।’

ফ্যাক্স বার্তায় আরো বলা হয়,‘আইনগত ব্যবস্থাপনা ধর্মীয় সহিষ্ণুতা রক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম।’

চীন সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্ত দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়সমূহের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি আজানের জন্য মাইক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরপরই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

লিনশিয়া শহরের নিউ চায়না মসজিদের একজন মুসল্লী বলেন, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের নীতিসমূহের অপপ্রয়োগ করছে। মুসলিম পরিবারগুলোকে হয়রানির ভয় নিয়ে নিজেদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করতে হচ্ছে।’ 

চীনা গণমাধ্যমে দেওয়া ২০১২ সালের তথ্য মতে, দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। চীনের নানা স্থানে মসুলমান রয়েছে। তারা প্রধানত জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, কানসু প্রদেশ, নিংসিয়া হু জাতির স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ও ছিংহাই প্রদেশে রয়েছে। চীনের দশটি সংখ্যালঘুজাতির মানুষ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করে। এ ছাড়া আরো ৭ বা ৮টি জাতির কোনো কোনো মানুষ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করে।

এফএস/আরপি

 
.




আলোচিত সংবাদ