আমার মুসলিমাহ বোনদের প্রতি...

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

আমার মুসলিমাহ বোনদের প্রতি...

মাজিদা রিফা ৬:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১৩, ২০১৮

print
আমার মুসলিমাহ বোনদের প্রতি...

ডিয়ার সিস্টার,
মানুষের জীবনে খুব কষ্ট তাই না? বলুন তো, কেন এত কষ্ট? মানুষের জীবন কেন পাখিদের মতো হয় না? উড়ে বেড়ানোর, ঘুরে বেড়ানোর! মানুষ বলে?

জানেন, ওয়ানস আপন এ টাইম... আই ওয়াজ এ বাটারফ্লাই! ইয়েস, বিলিভ ইট অর নট, আই ওয়াজ! অন্য প্রতিটি মেয়ের মতো। প্রতিটি কন্যাশিশুর মতো আমিও ছিলাম প্রজাপতি। কিন্তু একদিন আমার বিয়ে হয়। আমি আবিস্কার করি আমার ডানা নেই। বিয়ে মানে বন্ধন, আমি বন্ধনে আটকা পড়ি। নতুন সব মানুষ, নতুন নিয়ম-রীতি; এক অদ্ভুত জগত। স্বপ্নের মতো তো একদমই নয়! এমনকি কৈশোরে বাচ্চাদের দেখলে যে পুতুল বলে মনে হতো, দেখা গেল বাচ্চাগুলোও পুতুলের মতো নয়। নিজের বাচ্চা, কিন্তু একেকটা হয় সাক্ষাৎ বিচ্ছু! সুতরাং অদ্ভুত এ জগতে নানাবিষয়ে আমি ভীত হয়ে পড়ি।

আব্বা সবসময় আমার বন্ধু। তিনি সন্তানদের তেমন একটা উপদেশ কখনোই দেন না। কিন্তু একদিন ফোনে তিনি আমাকে তাকওয়ার কথা শোনালেন। বললেন— 'শোনো মা, কে কী বললো, কে কী করলো তাতে কিছু যায় আসে না, তুমি নিজে জীবনে যা-ই করো না কেন, কাজটা করার আগে শুধু একটা কথা ভাববে যে, এই কাজ করলে আল্লাহ কী ভাববেন, আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক কেমন হবে! ব্যস আর কিচ্ছু লাগবে না।'

আব্বার এই কথাটা আমার বেশিরভাগ সময় যদিও মনে থাকে না, কিন্তু সত্যি বলছি এই কথাটা আমার জীবনের জন্য ম্যাজিক ছিল এবং আমি খুঁজে পেয়েছি বিভিন্ন বিষয় শুদ্ধ করার অসংখ্য সুন্দর পথ।

আমরা জানি যে— শ্বশুর-শাশুড়ি বা শ্বশুরবাড়ির খেদমত দীনের ফরয বিধান নয় বরং ব্যাপারটা 'সুলূক' এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। সবর, শোকর, তাকওয়া, ইখলাস, অহংকার, ক্ষোভ, লোভ, ইত্যাদির সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুন্দর আখলাকের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর সুন্দর আখলাক গঠনের নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দিয়েছেন। ধীরে ধীরে শিখলাম এবং বুঝতে পারলাম— তাযকিয়া অর্থাৎ আত্মশুদ্ধিই হচ্ছে সুখ ও সফলতার চাবিকাঠি। আর এ চিন্তাই খুঁজে বের করলো সুন্দর ও শান্তির জন্য কিছু পথ। কথাগুলো দীর্ঘ। হয়তো জীবনের মতো দীর্ঘ। কিন্তু তারপরও আপনাকে আমি পড়তে অনুরোধ করবো।

আমার প্রথম পাঠ হলো—
১. 'ইখলাস' আল্লাহর জন্য।
আমি যা করি আল্লাহর জন্য করবো। এমনিতে বিয়ে যখন হয়েছে, সংসার যখন শুরু করেছি কাজ তো করতেই হবে। সে আলাদা সংসারে হোক, অথবা যৌথ সংসারে। আগে মায়ের সংসারে ছিলাম, মা খাইয়ে দিয়েছেন। এখন নিজের সংসারে আছি, নিজের খাওয়ার কাজ তো করতেই হবে। কিন্তু নিজের কাজ ছাড়া বাকি যা কাজ তা সম্ভব হলে করবো। শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমতের মতো নফল ইবাদত আমি আল্লাহর জন্য করবো, কিন্তু করতে গিয়ে যদি এমন হয় যে, নিজের শরীরের উপর জুলুম করে সারাদিন কাজ করে, তারপর ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে তাদের গীবত করি তাহলে আমার পরিশ্রমও গেল, গোনাহও কামাই করলাম। অথচ শ্বশুর শাশুড়ির খেদমত না করা অন্যায় নয়। কিন্তু তাদের গীবত করা অন্যায়। তাদেরকে কথার দ্বারা কষ্ট দেয়া, দুর্ব্যবহার করা অন্যায়। সুতরাং নফল ইবাদত করে পাপ করার কোনো মানে হয় না। তাই শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য যতটুকু সম্ভব করবো, সম্ভব না হলে করবো না। মানুষ তাতে আমাকে 'খারাপ বউ' বললে আমার কিছু যায় আসে না! আল্লাহ আমাকে ভালো জানলে আল্লাহই সম্মান ফিরিয়ে দিবেন।

'আল্লাহকে খুশি করার জন্য' কথাটা মাথায় রাখলে এবং এ কথা মাথায় রেখে যতটুকু সম্ভব করলে একদিকে যেমন নিজের মনের উপর চাপ পড়ে না, অন্যদিকে কাজ করার জন্যও কোনো কষ্ট হয় না।

২.যুহুদ
শান্তির মূলমন্ত্র সর্বদা 'দুনিয়াবিমুখতা।'
ঘরের বউদের সবচেয়ে বড় দুঃখের কথা হলো— কাজ করে সম্মান পাওয়া যায় না। এটা আসলে তাদের দোষ না আমাদেরই দ্বীনী দীনতা- তা আমরা দেখি না। আমরা কাজ করি দুনিয়ার জন্য, মানুষ বাহবা দিবে এজন্য! মানুষ কি দেয়ার মালিক?
একটা জিনিস তো আমরা জানি— কাজের বিনিময় দেয়ার মালিক আল্লাহ। মানুষ কিছুই দিতে পারে না, দেন আল্লাহ। অথচ আমরা কাজ করে এক্সেপ্ট করি মানুষের কাছে। মানুষ বাহবা দিবে, সম্মান দিবে। অথচ মানুষ তো সবসময় অন্যকে দেওয়ার বেলায় কিপ্টুস, তাই বেশি তো দেয় না, প্রাপ্যটুকুও দেয় না। তখন আমরা কষ্ট পাই, ঘৃণা করি। অথচ আমরা কোনো কাজ করে যদি আল্লাহর কাছে বিনিময় পাওয়ার আশা রাখি তখন আল্লাহ শতগুণ বেশি দিবেন। আর আল্লাহ না দিলে আমরা প্রশ্ন করবো না যে, আল্লাহ কেন এসব কাজের বিনিময়ে আমাদের সম্মান দিচ্ছেন না! কারণ আমরা জানি আল্লাহ কখনো বান্দার প্রতি যুলুম করেন না। তিনি প্রজ্ঞা অনুযায়ী একদিকে না দিলে অন্যদিকে বেশি করে দিয়ে দিবেন- যেখানে সত্যিই প্রয়োজন ছিল। তাই তারা আমাদের সম্মান দিচ্ছে না ভেবে কষ্ট পাওয়ার কোনো মানেই হয় না!

৩.ক্ষমা
আমাদের সমাজে সাধারণত স্বামীর আর্থিক অসুবিধার কারণে অথবা হয়তো দেশীয় ঐতিহ্যের রীতি মেনে আমরা মিলেমিশে যৌথ ফ্যামিলিতে থাকি। সুতরাং চাই আর না চাই, বাধ্য হয়ে থাকতে হয় শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-দেবরের সাথে। সবাই যেহেতু মানুষ, দোষ তো সকলেরই থাকবে। আবার অনেক সময় প্রিয়জনের অনেক গুণও আমাদের পছন্দ হয় না। এটা স্বাভাবিক যে মানুষের সবকিছু আমাদের পছন্দ হবে না। কিন্তু অন্যের শুধু দোষটা দেখা স্বাভাবিক নয়। নিজের দোষগুলো নিয়ে যেভাবে আমরা বেঁচে থাকি, সেভাবে যাদের সাথে থাকি তাদের দোষগুলো নিয়েও বাঁচতে হবে। কৌশলে দোষ শোধরানোর চেষ্টা করা যায়, কিন্তু একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে, কটুকথা বলে সংসারে অশান্তি বাড়ানোর মানে হয় না। অন্যের দোষ দেখা এবং কটুকথা বলা সংসারে অশান্তির বড় কারণগুলোর একটি। চুপ থাকা শিখলে একসময় চুপচাপ সমাধানও হয়ে যায়। নিজের যেমন সুবিধা আপনি তেমনই চলবেন, কিন্তু তাতে যদি অন্যরা দোষ দেখে আর তারা কটুকথা শোনায়, তখনও চুপ থাকবেন। আবার বলছি— নিরব থাকলে নিরবে সমাধান হয়ে যায়। হাদিসেও বলা আছে ‘যে চুপ থাকল, সে নাজাত পেয়ে গেলো’।

আল্লাহ আমাদের একটাই জীবন দিয়েছেন, ফিরে গিয়ে যখন ওখান থেকে দেখব নিজের জীবনটা তখন দেখতে কেমন দেখাবে? এই আমার পরিবার, আমারই পরিবার, মাত্র কিছুদিনের আমারই ছোট্ট জীবন, কেমন ছিল জীবনটা? হিংসা, বিদ্বেষ, ঝগড়া- এসবে ভর্তি প্রতিদিনের রোজনামচা?
কিন্তু যদি দেখা যায় জীবনের আমলনামা ভর্তি ভালোবাসার আশ্চর্য আলো, কেমন হবে?

একটা ফ্যামিলিতে ভালোবাসার চাষ কি কখনোই রাগ-ক্ষোভ দিয়ে হয়? ভালোবাসার চাষ করতে হয় ক্ষমা দিয়ে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার সাথে অন্যায় করলে তারা আমার উপর জুলুম করলো, আমার হক নষ্ট করলো। আল্লাহ জালিমকে অপছন্দ করেন। বান্দাহর হক আল্লাহ ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ না বান্দাহ ক্ষমা না করে। তো আমি যদি তাদের ক্ষমা না করি তার মানে আল্লাহও তাদের ক্ষমা করছেন না। তো আল্লাহ যার উপর নারাজ থাকেন তারা কি কখনো ভালো কাজ করতে পারে? তারা তো খারাপ কাজ করতেই থাকবে। আর যেহেতু আমিও তাদের আশেপাশে থাকি, তো ঘুরেফিরে তাদের খারাপ কাজে কষ্ট আমারই হবে! অথচ আমি তাদের ক্ষমা করে দিলে আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবেন, আমাকেও ক্ষমা করবেন। এবং আমার ক্ষমার বিনিময়ে আল্লাহ অবশ্যই আমার সুখের ব্যবস্থা করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ নিজে বলেছেন— যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহতায়ালা এমন মুহসিন লোকদের ভালোবাসেন। সুরা আল-ইমরানে : ১৩৪। এখন দেখুন, আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে বারবার কষ্ট দেয় সাধ্য কার! আর সহিহ মুসলিমের হাদিসে আছে— যে ব্যক্তি ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনীত হলে তিনি তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। সুতরাং ক্ষমা করলে আমি আরো সম্মানিত হচ্ছি। আল্লাহর কাছে, ফেরেশতাদের কাছে এবং মানুষের কাছে।

৪.দোয়া পাওয়ার চেষ্টা করা।
একজন পুরুষের দায়িত্ব রোজগার করা। সে সারাদিন কাজ করে আসার পর আমি তার কাছে রান্নাবান্নায় হেল্প করার আশা করতে পারি না। সে যখন কাজে থাকে বড় কাজগুলো আমি করে রাখব। আর বাকি টুকটাক কাজ দুজনে মিলে করা যায়। কিন্তু পিতামাতার খেদমত করার দায়িত্ব ছেলের। অনেক বউদের দেখা যায় বাবা-মাকে সময় দিলে স্বামী তাকে সময় দিচ্ছে না বলে উল্টো কমপ্লেইন করতে! আপনি নিজে খেদমত করবেন না, স্বামীকেও করতে দিবেন না, এটা কোনো কথা হলো! পিতামাতার দোয়া অনেক বিশাল একটা বিষয়। আমার হাজব্যান্ড যদি তার বাবা-মার খেদমত না করে, আমার উচিত তাকে মনে করিয়ে দেয়া। যদি বাবা-মা উপযুক্ত কারণে মনোকষ্ট থেকে বদদোয়া দেয় তবে স্বামীর 'আর্থিক ক্ষতি, শারিরীক ক্ষতি'— যে কোনো ধরনের ক্ষতি হলে লস কিন্তু আমারই, আমার জীবনটাই দুর্বিষহ হবে আর কারো নয়।

৫.স্বামী-স্ত্রীর বন্ধুত্ব।
স্বামীকে বন্ধু বানিয়ে নিলে অনেক কষ্টের সহজ সমাধান হয়ে যায়। আমি তার অর্ধাঙ্গিনী, আমি খুব বেশি কষ্ট পেলে দশজনকে না বলে তাকেই তো বলবো। কিন্তু তাকে বলে দিতে হবে— সে আমার কষ্টের কথা শুনলে, আমাকে সাপোর্ট করলে আমার জখমে প্রলেপ পড়বে এটা ঠিক, তারমানে এই না যে আমি নির্দোষ। প্রত্যেকটা ঘটনা হাজারটা দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করা যায়। তাই আমার কথা শোনে অন্যদের বিচার করা, তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা ঠিক নয়। আর স্বামীকে এটা আগেই বুঝিয়ে দিলে হয় যে— কষ্টের সময় আপনাকে সে দোষী সাব্যস্ত করলে হিতে বিপরীত হবে। আপনি হয়তো রেগে যাবেন। তারচেয়ে কষ্টের সময়টায় সে যেন আপনাকে সাপোর্ট করে। তখন শুধু সবর আর আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা মনে করিয়ে দিলেই হবে। এতে ভুল থাকলে স্ত্রী নিজেই নিজেকে একসময় শুধরে নেবে আর কষ্ট পেলে পাশে একজন মানুষ আছে ভেবে কষ্টটাও হালকা মনে হবে।

৬. দোয়া করা।
আল্লাহই একজন পুরুষকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন যে, সে তার স্ত্রীকে খাওয়াবে। এটা তার জন্য ফরয বিধান। এখন সে যদি এক্সেপ্ট করে এর বিনিময়ে তার স্ত্রী নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার বাবা-মার কাজের বুয়ায় পরিণত হবে, তবে সে অন্যায় চিন্তা করলো, সে এমন বললে অন্যায় করলো। আর যদি সে রোজগার করে আনে বলে খোঁটা দেয়, তাহলে প্রথমত সে স্ত্রীর উপর জুলুম করলো, দুই. আল্লাহর বিধানের অবাধ্যতা করলো, তিন. সে খাওয়াচ্ছে পরাচ্ছে মনে করে আল্লাহর নাফরমানি করলো। এমন জালিম স্বামী আপনার ভাগ্যে পড়লে কী করবেন?

অথবা বিয়ের পর বেশিরভাগ মেয়েই গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার প্রয়োজন আদর-আহ্লাদ। কিন্তু অনেক পরিবারে দেখা যায় শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচারে ঠিকমতো খেতেই পায় না। অথচ বুখারী শরীফের হাদিসে আছে—'যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।' সুতরাং একজন অসুস্থ নারীর সাথে যারা দয়ার আচরণ করেনা তারা যে আল্লাহর কাছে কতটা নিকৃষ্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন অবস্থায় যদি আপনার উপর তার বাবা-মার অত্যাচার দেখেও স্বামী তা নিরসনের জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা না নেয়, তো সে এক তো কাপুরুষ, অন্যদিকে বাবা-মার জুলুমের সাপোর্টার হওয়ায় সেও জালিম। কিন্তু তাই বলে স্বামীকে তো ফেলে চলে আসতে পারেন না, কী করবেন তখন?

অথবা বিষয় এটা যে, আপনার বাবা-মার খেদমত করা আপনার দায়িত্ব। আপনার উচিত যেভাবে সম্ভব নিয়মিত বাবা-মার খোঁজ নেয়া, খেদমত করা। ভালো স্বামী হলে নিজেই সহযোগিতা করবে, কিন্তু কোনো স্বামী যদি বাঁধা দেয় তাহলে সে আপনার বাবা-মার হক আদায়ে বাধা দিয়ে তাদের উপর জুলুম করলো। তখন এমন বে-রহম স্বামীকে নিয়ে আপনি কীভাবে বাঁচবেন?

এ অবস্থায় যা করার তা হলো— সবসময় স্বামীর সাথে, পরিবারের সকলের সাথে বেশি বেশি দ্বীনের আলোচনা ও চর্চা করা। যে পরিবারের সদস্যদের অন্তরে খোদাভীতি আছে সে পরিবারে জুলুম-অন্যায় কমই হয়। আপনি তাদের মাফ করবেন, তাদের সবর-শোকর আর ক্ষমার গল্প শোনাবেন, তাদের দীন কী তা বুঝাবেন। আর তাদের জন্য দোয়া করবেন। অনেক অনেক দোয়া। হেদায়েত ও সঠিক পথের উপর টিকে থাকার দোয়া শুধু নিজের জন্য নয়, পরিবারের সদস্যদের জন্যও করা উচিত। দোয়ায় কী না হয়!

৭. প্রতিফলের ভয়-আনন্দ।
এটা আমার কাছে চমৎকার একটা ম্যাজিক মনে হয়। যা আমি করছি, যা দিচ্ছি মানুষকে; তারচেয়ে বেশি না পেলেও অন্তত সমমানের প্রতিদান নিশ্চয়ই আমি একদিন না একদিন পাবো। সুতরাং আমি আমার ভাইয়ের বউয়ের সাথে যদি সে আচরণ করি যা আমি নিজের জন্য চিন্তা করি, এবং আমার ভাই-মাকে তেমন আচরণ করতে বলি তাহলেই সমাজের বেশিরভাগ বউ-শাশুড়ির যুদ্ধে সন্ধি হয়ে যায়। একটা মেয়ের জীবন সুখী করার চেষ্টা আমি করলাম, আমার জীবনও কেউ না কেউ সুখী করে দিবে।

আর 'আল্লাহ মহান দাতা' কথাটা মনে রাখলেই হয়। কষ্টের প্রতিদান নিশ্চয়ই মিলবে। তবে— আল্লাহর কাছে নেয়ামতের জন্য যতবেশি ইচ্ছা চাওয়া গেলেও পরিশ্রমের বিনিময়ে সাধনার চেয়ে বেশি বিনিময় চাওয়াটা অন্যায়। অথচ আমরা সবসময় পরিশ্রমের চেয়ে বেশি মানুষের কাছে চাই, আল্লাহর কাছেও চাই, এবং শেষপর্যন্ত নিরাশ হই, কষ্ট পাই। আমাদের এসব কষ্ট তো নিজেদেরই তৈরি!

তাই ওই যে বললাম—'আত্মশুদ্ধি'।
এত এত কথা আর এই বউ-শাশুড়ির কষ্টসহ সকল কষ্ট ও সকল সমস্যা দূর করার একটাই উপায়, আর তা ওই একটা শব্দেই বলা যায়— 'আত্মশুদ্ধি।'

বিশ্বাস করুন, নিজের আত্মাকে হিংসা, ক্ষোভ, লোভ, লৌকিকতা থেকে মুক্ত করলেই ইনশাআল্লাহ উই উইল বি এ বাটারফ্লাই এগেইন...!

এমএফ/

লেখকদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে মুক্তকথা বিভাগটি। পরিবর্তনের সম্পাদকীয় নীতি এ লেখাগুলোতে সরাসরি প্রতিফলিত হয় না।
 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad