সংসার সুখময় করতে স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য

ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ | ৪ আষাঢ় ১৪২৫

সংসার সুখময় করতে স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০১৮

print
সংসার সুখময় করতে স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য

দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরিক মিল, হৃদ্যতা একান্ত জরুরি বিষয়। এই মিল ও হৃদ্যতাই একটি সংসারকে মজবুত ভালবাসার বাঁধনে জড়িয়ে রাখতে পারে।

অপরদিকে, এ জিনিসের অভাব হলে সংসার ধ্বংস ও বরবাদও হয়ে যেতে পারে। এ জন্য এ ব্যাপারে সযত্ন চেষ্টা করে যাওয়া উভয়ের কর্তব্য। এক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা বেশি। কেননা পুরুষের তুলনায় নারীকে আল্লাহ তাআলা কোমল করে সৃষ্টি করেছেন। তার মনটাকেও করেছেন কোমল। এ জন্য নারীর সর্বদা কোমলতা অবলম্বন করাই শ্রেয়। অপরপক্ষ থেকে যদি কখনও কঠোরতা আসে তবু মেনে নেয়া উচিত। তাহলে কঠোরতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বরং শিগগিরই তা নম্রতায় এমনকি ভালবাসায় পরিণত হবে।

কিন্তু এই সত্যটা আমরা বুঝতে চাই না। কারণ, আমাদের সঙ্গে সব সময় এমন এক শত্রু ওঁৎ পেতে আছে, যে আমাদের ক্ষতি করতেই পছন্দ করে। তাই সহজ বিষয়গুলোকে আমাদের সামনে কঠিন করে দেখায়। যার ফলে আমরা ধোঁকা খাই এবং ধাঁধায় পড়ে যাই। আর দুশমন নীরবে হাসতে থাকে।

তবে একবার যদি সত্যটাকে আমরা বুঝে নিতে পারি এবং কাঠিন্যের আবরণযুক্ত সহজ বিষয়টাকে আয়ত্ব করতে পারি তাহলে এমন পরিতৃপ্তি হাসিল হবে যার কোনো তুলনা হয় না।

অবশ্য পুরুষকেও মনে রাখতে হবে নারী সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল। এ দুর্বলতার সুযোগে তার সাথে কঠোরতা করা অন্যায়। কারণ তার দুর্বল শরীরের মাঝেও একটি হৃদয় আছে এবং সে হৃদয়ে অনুভব-অনুভূতি আছে। তার ব্যথিত হৃদয়ের আহ! ধ্বনি পৌঁছে যায় সপ্ত আকাশের ওপরে আরশের উচ্চতায়। সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে অন্যরকম শক্তি নিয়ে। তাই আজ যদি তার প্রতি কঠোরতা করা হয় কাল এর বদলা নেমে আসবে আরশ থেকে। কারণ মাজলুমের ফরিয়াদ ও আরশের মালিকের মাঝে কোনো পর্দা থাকে না। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের প্রতি কোমল ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজেও জীবনে তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। তাই নবীর উম্মতের জন্যও জরুরি, নারীর সঙ্গে সদয় আচরণ করা।

মোট কথা, সংসারে শান্তি আনয়নের জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই কর্তব্য পরস্পরের প্রতি সদ্ভাব বজায় রাখা। সচেতন নারী-পুরুষের এ ব্যাপারে অবহেলা করা মোটেই উচিত নয়। কারণ স্বামী-স্ত্রীর এ সম্পর্ক শুধু তাদের দুইজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো একটি গোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব পড়বে। কারণ তাদের থেকে একটি নসল ও বংশধর সৃষ্টি হবে, যারা তাদের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠবে। ফলে এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রভাব সেই নসলের ওপর পড়বে। এভাবে এক একটি পরিবারের সমন্বয়ে যখন একটি সমাজ গড়ে উঠবে সেই সমাজ কতই না সুন্দর আর শান্তিময় হবে!

এফএস/আরপি

 
.




আলোচিত সংবাদ