প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে থাকবে একগুচ্ছ চমক: ছাত্রলীগ সভাপতি

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে থাকবে একগুচ্ছ চমক: ছাত্রলীগ সভাপতি

সালাহ উদ্দিন জসিম ৬:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৭

print
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে থাকবে একগুচ্ছ চমক: ছাত্রলীগ সভাপতি

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধীসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামে এ সংগঠনটির ভূমিকা প্রশংসনীয়। নেতৃত্ব তৈরির কারখানাখ্যাত সংগঠনটির সম্মেলন নিয়ে বেশ কৌতূহল অনেকের। ক্ষমতার স্বাদভোগসহ ইতোমধ্যে নানা কারণে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে মিডিয়ার খোরাক এ সংগঠনটি।

এসব বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সঙ্গে কথা হয়। আলাপচারিতায় নিজেদের সীমাবদ্ধতা, ছাত্ররাজনীতির চ্যালেঞ্জ, ছাত্রনেতাদের গুণাবলি, ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনসহ নানা বিষয়ে পরিবর্তন ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সালাহ উদ্দিন জসিমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। আলোকচিত্রী ছিলেন রাফিয়া আহমেদ।

সাইফুর রহমান সোহাগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের ২৮তম নির্বাচিত সভাপতি। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ৩ হাজার ১৩৮ ভোটের মধ্যে ২ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এর আগে সোহাগ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোহাগ মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি, ২০০৪ সালে সরকারি নাজিমুদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান থেকে সম্মান শেষ করেন ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

সাইফুর রহমান সোহাগের জন্ম মাদারীপুর জেলায়। তার বাবা এইচ এম আবদুর রহমান পেশায় একজন শিক্ষক। মা মর্জিনা খানম অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

৪ জানুয়ারি সাত দশক পূর্ণ হচ্ছে ছাত্রলীগের। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সম্পর্কে কিছু বলুন-

৪ জানুয়ারি ২০১৮ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটি একটু ভিন্নভাবে পালন করতে চাই। এজন্য ৪ জানুয়ারিতে এই প্রথম আমরা কনসার্টের আয়োজন করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এটি হবে। জেমস, মমতাজসহ বাংলাদেশের নামিদামি শিল্পীরা এতে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের জন্মের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বয়স ছাত্রলীগের। এ সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই নেতৃত্বকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

নিশ্চয়, এটি ভালো লাগার। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠা করা এই সংগঠন। ৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বেই ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমি বলব- ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ একক ভূমিকা পালন করেছে। সেই সংগঠনের এখন দেখার দায়িত্ব তারই কন্যা শেখ হাসিনার হাতে। আমরা তার নির্দেশনা মতেই এ সংগঠনটি পরিচালনা করি। তার নেতৃত্বে কাজ করা আমার জন্য সৌভাগ্যের।

এত বড় সংগঠন পরিচালনা করতে গিয়ে কী কী বাধার সম্মুখীন হন? কোন কোন বিষয়গুলোকে চ্যালেঞ্জ মনে করেন, যেগুলো অতিক্রম করা দরকার?

আসলে ছাত্রলীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুগত। সবাই অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, কর্তব্যপরায়ণ। এ কারণে আমাদের সংগঠন পরিচালনায় বড় ধরনের বেগ পেতে হয় না। অনেক সময় দেখা যায়, একেকটি শাখায় অনেক প্রার্থী। তখন প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম খাই। তবে আমরা শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রার্থীই বাছাই করে নিয়ে আসি।

রাজনীতি কিভাবে আপনাকে আকৃষ্ট করল? আওয়ামী রাজনীতিতেই কেন আসলেন, অন্য প্ল্যাটফর্মও তো ছিল?

আসলে আমার রাজনীতিতে আসা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসা থেকে। ছোটবেলায় বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের কথা শুনে তার প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছর সংগ্রাম ও তার নেতৃত্বে নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়। আমরা এগুলো পড়েছি। তাকে ভালোবেসে ও আদর্শ মেনেই আসছি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বগুণে মুগ্ধ হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হওয়া। আমি মনে করি, একজন সুনাগরিক যদি দেশকে ভালোবাসে কাজ করতে চায়, তার জন্য সঠিক নেতৃত্ব ও একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার। আমরা জন্মের পরই আদর্শ পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর। নেত্রী হিসেবে পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে আর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আওয়ামী পরিবারকে।

লাখ লাখ ছাত্রদের ও ছাত্রনেতাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, গাইড করছেন। আপনার অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে একজন ছাত্রনেতার মধ্যে কোন কোন গুণ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

ছাত্রনেতা হতে হলে প্রথমত ভালো ছাত্র হতে হবে। নিয়মিত পড়াশুনা করতে হবে। দেশপ্রেমিক হতে হবে। সঠিক গাইডলাইন থাকতে হবে। আমরা সঠিক গাইডলাইন পাই নেত্রীর কাছ থেকে।

ছাত্রলীগ মাঝে মাঝে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য নিউজের খোরাক হয়, সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এসব নিয়ন্ত্রণে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

আমাদের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রলীগও নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যায়ের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান মেনে চলছে। কোনো ধরনের ছাড় আমরা দিচ্ছি না। ইতোমধ্যে আপনারা দেখছেন, ছাত্রলীগে এখন আর নিজেদের মধ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, মারামারি নেই। অনেক ক্ষেত্রে অন্যের অপরাধও আমাদের ওপর চাপানো হয়। সারাদেশের ছাত্র সমাজসহ মানুষ ছাত্রলীগকে ভালোবাসে। কিন্তু, সবাই ছাত্রলীগ করে না। অনেক সময় অন্য কেউ অপরাধ করলেও আমাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। ঢালাওভাবে না জেনেই বলে দেয়া হয় এটা ছাত্রলীগ করেছে। এ বিষয়টা আপনাদেরও (মিডিয়া) খেয়াল রাখতে হবে।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপনাদের কমিটির মেয়াদ শেষ। আপনাদের সাবেক সভাপতি বর্তমান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অনেক সময় এ নিয়ে কথা বলেছেন। সম্মেলন নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আসলে সম্মেলন ছাত্রলীগের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের ১০৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ হলে আমরা নেত্রীর কাছে জমা দেই। এরপর তিনিই তারিখ দিয়ে দেন। এটা নিয়ে মনে হয় আমাদের কথা বলার সুযোগ কম। আমাদের নেত্রী যে কাজ দিয়েছেন, আমাদের গঠনতন্ত্রে যে কাজ আছে, সেটা শেষ হলে সম্মেলন হবে।

৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাধারণ ছাত্রদের প্রতি আপনার আহ্বান কী?

সবার প্রতি আমাদের আহ্বান- ছাত্রলীগের পতাকা তলে আসুন। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই ছাত্রলীগে আসুন। আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে মাদক, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করতে পারব।

এসইউজে/এমএসআই/আইএম

আরও পড়ুন...
কর্মীদের মাঝেই নিজেকে খুঁজে পাই: ছাত্রলীগ সম্পাদক

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad