‘আড়ালে থাকতে পছন্দ করি’

ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

‘আড়ালে থাকতে পছন্দ করি’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২০, ২০১৭

print
‘আড়ালে থাকতে পছন্দ করি’

মিষ্টি কণ্ঠের গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। সম্প্রতি হাবিবের সঙ্গে নতুন গানে কণ্ঠ দিলেন ‘তোরই জানালায়’। গানের জীবন ও মানুষের জন্য কাজ করা নানা ধরনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে।

আপনি বিজয়ের মাসে গাইলেনধন ধান্যে পুষ্প ভরা গানটি; এতে মডেল হয়েছেন ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন?

আমি ভিডিওর সময় ছিলাম না, গান রেকর্ডিংয়ের সময়ে ছিলাম। কাজের অভিজ্ঞতা খুব ভালো। এই গানটি অনেকেই গেয়েছেন। বহুবার রেকর্ড হয়েছে। আমিও গেয়েছি, এই বিজয়ের মাসে। শুধু গান করা নয়, গানটিতে অন্য একটি ব্যাপার আছেÑএটি এমন গান, কখনো পুরনো হয় না।

বারবার শুনতে ইচ্ছে করে। বিজয় দিবস খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সারা বছর শোনার মতো গান। এতে মডেল হয়েছেন সুমন ভাই, সুন্দর অনুভূতি কাজ করেছে আমার। গানের প্রেজেন্টেশনটা যারা করেছেন, সাধুবাদ জানাই আয়োজকদের। কারণ বাংলাদেশে সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ ব্যাপার ক্রিকেট। আর তিনি তো লিজেন্ড তারকা। আমার খুবই ভালো লেগেছে।

হাবিবের সঙ্গে নতুন গান করলেন তোরই জানালায়; কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাই?

হাবিবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই অন্যরকম থাকে। হাবিবের নিজের বেলায় কেমন অনুভূতি হয়, জানি না। আমি আমার কথা বলতে পারি। আমি যখন নতুন গান করি, আমার আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং আমার চেষ্টার সবটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি। এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গান করার সময় কোনো কিছু ভাবি না। গানের ভেতরে ডুবে যাই।

‘আমি তোমার মনের ভেতর একবার ঘুরে আসতে চাই’আপনার এই গানটি খুবই শ্রোতাপ্রিয়; এই গানে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমার গানের শুরুটাই হাবিবের হাত ধরে। তার সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতাটা সবসময় স্পেশাল। যখন তার সঙ্গে কাজ করি, আমার কনফিডেন্টের জায়গাটা থাকে খুব উঁচুতে। গানটি যখন করি মানুষ পছন্দ করবে কিনা, হিট হবে কিনা, তা মাথায় ছিল না। আমাদের জুটিটা কেউ পছন্দ করলো কিনা, তা নয়; গানটা ভালোভাবে করতে পারছি কিনা ভাবি। আপনি যখন কাউকে ভালোবাসবেন, তখন তার সবকিছুই আপনার ভালো লাগবে। যদি ভালো না লাগে, তার কোনোকিছুই আপনার মনের মতো হবে না। গানের বেলায়ও তেমন।

টেলিভিশন, চলচ্চিত্র বা সরাসরি মঞ্চে গান গাওয়া কোনটি বেশি ভালোলাগে?

আমি সবসময় মঞ্চের পেছনে থাকতে পছন্দ করি। স্টেজে বা টেলিভিশনে গান করি না, তা নয়। কিন্তু নিজেকে পর্দার পেছনের শিল্পী ভাবতে ভালোবাসি। প্লে ব্যাক আমার ভালোলাগে। অডিয়েন্সের সামনে যখন সরাসরি গান করি, সেই অনুভূতিটা তো অন্যরকম। সেটার কোনো তুলনা হয় না। তবুও একটু কোলাহলের বাইরে, আড়ালে থাকতেই ভালোলাগে।

শীতে আপনি গরীবদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন এই ভাবনাটা কীভাবে এলো?

এটা পেয়েছি আমার আম্মার কাছ থেকে। মানুষকে সাহায্য করার বিষয়টি তার মধ্যে ছিল। মা তো চাকরি করতেন না, বাবার কাছে হেল্প নিতেন। ছোটবেলায় এটা দেখে আমার ভালো লাগতো। যখন বড় হয়েছি, আমার আয় শুরু হয়েছে, নিজেই কিছু করার চেষ্টা করি। যখন আমার ইনকাম ও সামর্থ বেড়েছে, আমি আর একটু বড় পরিসরে হেল্প করার চেষ্টা করি। এটা জানাতে চেয়েছি, কারণ আমাদের চারপাশের মানুষের অনেক সমস্যা ও সংকট আছে। মানুষের ইচ্ছাটাই বড়, মন থাকলেই হেল্প করা যায়।

কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সিকে মানুষ যে আলাদা করে চেনে ও পছন্দ করে, এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?

ভালোই লাগে। সবাই চায় যে, তাকে মানুষ চিনুক এবং জানুক। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হয় কী আমি একটু নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করি। মানুষ আমাকে পছন্দ করে, এটা ভাবতেই ভালোলাগে। কিন্তু শোরগোল এড়িয়ে চলতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। এমনটাই আমার ভালোলাগে। আমি এমন একটা প্রফেশনে জড়িয়ে গেছি, আড়ালে থাকাও যায় না। আমি খুব সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ। নিজেকে একটু আড়ালে নিজের মতো করে রাখতে পছন্দ করি।

সাক্ষাৎকার : মাসউদ আহমাদ

 
.



আলোচিত সংবাদ