চ্যালেঞ্জ ছিল, ৯৯ ভাগ সফল হয়েছি: তারানা হালিম (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫

চ্যালেঞ্জ ছিল, ৯৯ ভাগ সফল হয়েছি: তারানা হালিম (ভিডিও)

শাহাদৎ স্বপন ৮:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭

print

অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, এম.পি ১৯৬৬ সালে ১৬ আগষ্ট চট্টগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মোঃ আব্দুল হালিম প্রাথমিক অবস্থায় আয়কর কমিশনার ও পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। তারানা হালিম দুই পুত্র সন্তানের জননী।

১৯৮২ সালে আজিমপুর অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনি প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক এবং হলিক্রস কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে প্রথম বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক উভয় পরীক্ষাতেই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় নবম স্থান অধিকার করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে যথাক্রমে এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করেন। 

তারানা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে তিনি একই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

২০০৯ সালে তিনি জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথম নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ‘তথ্য মন্ত্রণালয়’ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

তিনি ১৪/০৭/২০১৫ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গৃহীত মোট পরিকল্পনার ৯৯ ভাগ অর্জিত হয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বিস্তারিত কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের এ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহাদৎ স্বপনের সাথে। 

পাঠকদের জন্য তার সাক্ষাতকারটি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো.. 

পরিবর্তন: আপনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরে সফলতার গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই...

তারানা হালিম: পরিকল্পনার ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছি। এই সেক্টরে সরকার যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করার জন্য। তার পক্ষ থেকে আমাকে খুব দ্রুততার সাথে কাজ করতে বলা হয়েছিলো। 

আমাদের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন একটা চ্যালেঞ্জ ছিলো, সেটা করেছি। ডট বাংলা ডোমেইন বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে আমরা যুক্ত হয়েছি। এটাও আমাদের একটা বড় কাজ। এর জন্য আমরা কুয়াকাটায় ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করেছি সেটা শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। 

এছাড়াও গত বছরের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে বিভিন্ন অপারেটরদের কোয়ালিটি অব সার্ভিস। অনেক সময় ওইসব অপারেটরদের দিয়ে কার্যকর কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বড় অর্জন হলো কল ড্রপ ফেরত। এতে দৈনিক একটি কলও ড্রপ হলে তা ফেরত দিচ্ছে অপারেটররা। শুধু অভিযোগ অভিযোগ করে তো কোনো কাজ হবে না। তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। ইনশাল্লাহ আগামী ২০১৮ সালের মার্চের মধ্যে এই সেবার মান আরো উন্নত হবে। 

এক বছরে দেশের বড় ৩টি মোবাইল অপারেটদের মধ্যে গ্রামীন ফোন ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৩ কল মিনিট, রবি ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কল মিনিট এবং বাংলালিংক ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ কল মিনিট ফেরত দিয়েছে। এই কাজটা অপারেটরদের দিয়ে করানো অনেক কঠিন কাজ ছিলো। তবে আমরা এই কাজটিতে সফল হয়েছি। 

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দুই বছর আগে চুক্তি হয়েছিলো। সেটাকে গত এক বছরে কোম্পানি গঠন করে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গ্রাউন্ড স্টেশন বেতবুনিয়া ও গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুরের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি ফ্লোরিডায় ঘুর্নিঝড়ের কারণে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সময় কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোরিডার স্যাটেলাইট লঞ্চিং প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সকল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সময় রিস্ক্যাজুলিং হয়েছে। আমাদের স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেটা এখন গ্রাউন্ড স্টেশনেও চলে গেছে। 

আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে আমরা শুধু উৎক্ষেপনের অপেক্ষায় আছি। এছাড়াও টেলিকম নীতিমালা মন্ত্রিসভায় এক বছরের মধ্যে অনুমোদন করেছি। 

পরিবর্তন: প্রান্তিক জনগণের কল্যাণে কি ধরণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন?

তারানা হালিম: মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন সার্ভিস অনেকের দাবি ছিল। আগামী বছরের এপ্রিল থেকে মে’র মধ্যে গ্রাহকদের কাছে এ সেবা পৌছে যাবে। একটা সার্ভিস যখন পায় তখন মানুষ শুধু মনে করে সার্ভিসটা এলো। কিন্তু এর পেছনে অনেক কাজ আমাদের করতে হয়। 

এছাড়াও টেলিটকের রি-ব্র্যান্ডিং লোগো পরিবর্তন, রিটেইলারের সংখ্যা বৃদ্ধি, কাস্টমার কেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে একটি প্রকল্প ইনশাল্লাহ্ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে। ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। যার ফলে ১৭০০ টি টুজি বিটিএস ও ১৫০০ টি থ্রিজি নোড বি সংযুক্ত হবে। তাতে নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। 

টেলিটকের একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থ ছাড় হলে উপজেলা পর্যায়ে টেলিটকের ৩জি নেটওয়ার্ক টা আমরা সম্পূর্ণ করতে পারব। 

পরিবর্তন: ইন্টারনেট সেবা নিয়ে বিড়ম্বনা আছে, এ নিয়ে কিছু বলবেন কিনা? 

তারানা হালিম: আমাদের ২০০৮ সালে মোবাইল গ্রাহক ছিলো ৪ কোটি ৬ লাখ। তা বর্তমানে ১৪ কোটি ৭ লাখে উন্নতি হয়েছে। ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে বর্তমানে ৭ কোটি ৭২ লাখে উন্নীত করতে পেরেছি। এছাড়াও  ২৯০ টি উপজেলায়  অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করেছি। ইন্টারনেট ফর অল এটা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ইতিমধ্যে ৭০ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন কাজ সম্পূর্ণ করেছি। এছাড়া ৪জি নেটওয়ার্কের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জনগনকে ৪জি নেটওয়ার্ক সেবা দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সমস্যা থাকবে না। আমরা সামনের বছরেই স্যাটেলাইট জগতে প্রবেশ করব। এছাড়াও আমরা পরপর দু বছর এডিপি বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রথম স্থানে অবস্থান করছি। বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট ফোন কারখানা তার যাত্রা শুরু করেছে। 

পরিবর্তন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সফলতা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? 

তারানা হালিম: ডাক বিভাগ থেকে ই-কমার্স সেবা চালু করেছি, এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেছি। এবং এখন মাত্র ২ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার সফটওয়্যার চালু করেছি। আগামী ৩ মাস পর থেকে ২ টাকা দিয়ে বাংলাদেশে ব্যাংক একাউন্ট সৃষ্টি হবে। এটা প্রান্তিক জনগোষ্টি যারা ব্যাংক সেবার বাইরে ছিলো তাদের জন্য। আমাদের লক্ষ্য ২০১৮ সালের মধ্যে ৩ কোটি আন-ব্যাংক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা। এখানে ক্যাশ লেস ট্রানজেকশন হবে। 

পরিবর্তন: দেশের পোষ্ট অফিসগুলোকে আরও বেশি ফলপ্রসু করতে কী ধরণের উদ্যোগ নিয়েছেন? 

তারানা হালিম: দেশে দুই ধরনের পোষ্ট অফিস আছে। এর মধ্যে যেগুলোর নিজস্ব অবকাঠামোয় আছে সেগুলো অনেক সুন্দর। তবে সাব পোষ্ট অফিস গুলোর সমস্যা আছে। আমরা এখন স্মার্ট যুগে প্রবেশ করেছি। টেলিকমকে যেভাবে ডিজিটালইজড করেছি সেভাবে ডাক বিভাগকেও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করতে চাই। এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা দুটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। যার মধ্যে আমরা ২৬০০ পোষ্ট অফিসকে আধুনিকায়ন করেছি। আরো ৬০০ টি পোষ্ট অফিস আধুনিকায়ন করব। এছাড়াও সাব পোষ্ট অফিসগুলোকে স্মার্ট করা হবে। জরাজীর্ণ পোষ্ট অফিস মেরামত প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করছি সকল পোষ্ট অফিসগুলোকে স্মার্ট করতে পারব। 

পরিবর্তন: কিছুদিন আগে ফেসবুকে সরকারবিরোধী প্রচারণা ঠেকাতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কতটুকু ফল পেয়েছেন? 

তারানা হালিম: আমরা ফেসবুক ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন কিছুটা কাজ হচ্ছে আগে তাও হতো না। আমরা রেগুলার কমিউনিকেশনের জন্য বিটিআরসি থেকে লিংকগুলো পাঠালে তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটি ফেসবুক পেজ বন্ধ করলে আরেকটা খুলে ফেলে। এটা ক্যাট এন্ড মাউস গেমের মতো। এটা সামাজিক প্রচারের যুগ। প্রচার থাকবে অপপ্রচারও থাকবে। তবে আমরা জনগণকে সচেতন করব। যাতে মিথ্যা ও অপপ্রচারে কেউ যেন বিভান্ত না হয়। সবার বাক স্বাধীনতা আছে কাজেই এর মধ্যে থেকেই আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে রাষ্ট্রবিরোধী লিংক পেলে তা ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রিমুভ করার কথা বলা আছে। 

পরিবর্তন: দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কি ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন? 

তারানা হালিম: বায়োমেট্রিক পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বায়োমেট্রিক হওয়ার পর ভিওআইপি কমে গেছে। কাজেই ভিওআইপি যারা করে তাদেও কাছে এটা পছন্দের ছিল না। এটি একটি প্রতিকূল অবস্থা ছিল। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শক্ত অবস্থানের জন্য এটা আমাদের জন্য সহজ হয়েছে। অপরদিকে আমার সঙ্গে ছিল এক সৎ টিম। আমি আপনাকে বলি, এতে সরকারের কোনো টাকা খরচ হয়নি। এ কাজটি আমরা অপারেটরদের দিয়েই করিয়ে নিয়েছি। এখানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমার শ্রম ও আমাদের টিমের শ্রম রয়েছে। 

আরেকটা চ্যালেঞ্জ হলো কোয়ালিটি অব সার্ভিস। এই যে যেকোনো মানুষ কল ড্রপের শিকার হলে সাথে সাথে কল ফেরৎ পাচ্ছে। এটাও সহজ কাজ ছিল না। এখনও আমি অপারেটরদের চিঠি দিয়ে বলি কলড্রপ ফেরত সার্ভিস দিয়েছেন কিনা আমাকে জানান। ফলে এটাও আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমাদের জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ফোর-জি ব্যবস্থা। অপারেটররা যেন সাধারণ মানুষকে ফোর-জি’র মানটা যথাযথভাবে দেন। আমরা আপনাকে বলতে পারি এ বিষয়টি খুব ক্লোজলি মনিটর করবো। এখানে বিটিআরসির রুটিন ওয়ার্কেও বাইরে মিনিষ্ট্রিও মনিটর করবে। আমরা সবসময় অপারেটরদের কাছে জানতে চাইবো ফোর-জি’র কোয়ালিটি সঠিকভাবে দিচ্ছেন কিনা। এ ধরনের বিষয়গুলোতে যেন কোনো শুভংকরের ফাঁকি না থাকে।

পরিবর্তন: আপনাকে ধন্যবাদ।

তারানা হালিম: আপনাকে ও পরিবর্তন ডটকমকেও ধন্যবাদ।

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad