বাবার দেখানো পথেই হাঁটতে চান ইশরাক (ভিডিও)
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৯ চৈত্র ১৪২৬

বাবার দেখানো পথেই হাঁটতে চান ইশরাক (ভিডিও)

মাহমুদুল হাসান ১:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৬, ২০২০

ঢাকা সিটিতে বইছে ভোটের হাওয়া। দেশের বৃহৎ দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।

এই দুই দলের বাইরে আরও অনেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে আছেন। নির্বাচনী বিধি-নিষেধের কারণে প্রার্থীরা এখন ঘরোয়া বৈঠকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন।

ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে। বাবার দেখানো পথেই ইশরাক ঢাকা সিটির উন্নয়ন, বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে এবং ‘নগর সরকার’ গড়ে তুলতে চান।

বয়সে তরুণ এই প্রকৌশলী সম্প্রতি সিটি নির্বাচন এবং নির্বাচনে জয়ী হলে কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন- সেসব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন পরিবর্তন ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসানের সাথে।

পরিবর্তন ডটকমের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো—

দক্ষিণের মেয়র নির্বাচনে আপনার প্রস্ততি কেমন?

ইশরাক: সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছি। দল থেকে আমাকে আরও কয়েক মাস আগে বলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নিয়েছি।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কি সন্তুষ্ট?

ইশরাক: দেখেন, গত বৃহস্পতিবার রিটার্নিং অফিসেও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আমাদের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী তাইজুদ্দিন আহম্মেদ তাজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে মনে হচ্ছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই। এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতেও পারে না। তাজুলকে গ্রেফতার তারই প্রথম পদক্ষেপ। হয়রানি বন্ধে আমি নির্বাচন কমিশনে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছি। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ দিবো।

এর বাইরে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে জমায়েত হতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের ঘরোয়া বৈঠকও করতে দেয়া হচ্ছে না।

পুলিশ প্রশসানের পক্ষ থেকেও প্রার্থীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে; তাদের এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তারা যেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। এটা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসন ও সরকারদলীয় লোক মিলে একাকার হয়ে করছে।

সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিভিন্ন থানার পরিচিত কর্মকর্তাদের ব্যবহার করছে। সকলকে আমি দোষ দিবো না। কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন তাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে।   

শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকা, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সুরক্ষা এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যাপারে আপনার কী পরিকল্পনা?

ইশরাক: অবশ্যই জাতীয়তাবাদী বিএনপি একটি বৃহৎ দল। এখানে আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতির কোনো অভাব নেই। সবাইকে নিয়ে আমরা প্রস্ততি গ্রহণ করেছি। পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচনী প্রচারণায় কারা অংশ নিবেন, নির্বাহী কমিটির কারা কোথায় কাজ করবেন এটা নিয়ে আলোচনা চলছে (পরবর্তীতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে)। দলের স্থায়ী কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্টিয়ারিং কমিটি করা হবে। এগুলো নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। 

মাঠের থাকার বিষয়ে বলছি, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকা। উনি ১৯ বছর বয়সে জীবন নিয়ে ফিরে আসবেন কি-না সেই চিন্তা করেননি। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। উনার পরিচালনায় অনেক গেরিলা অপারেশন হয়েছে। আমি সেই বাবার সন্তান। আমি জনগণের অধিকার রক্ষায়, ভোটাধিকার রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাব। আমাকে মাঠ থেকে সরানোর কোনো অপচেষ্টাই সফল হবে না। 

প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন- নাকি নগরবাসীর জন্য কোনো নতুন বার্তা নিয়ে আসবেন?

ইশরাক: প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার প্রশ্নই আসে না। আজকে ঢাকা শহর বিশ্বের মধ্যে একটি অবাসযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে কারো জবাবদিহিতা ছিল না। ছিল না কোনো কমিটমেন্ট। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেননি।

আমি যদি নির্বাচিত হই, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বিশেষে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়- সেই দিকে নজর দিবো। সেটিই হবে আমার মূল দায়িত্ব। প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবো না। আমি কাজে বিশ্বাসী।

ভোটাররা কেন আপনাকে বেছে নেবেন?

ইশরাক: আমার বিপরীতে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। মানুষ চাচ্ছে একটা পরিবর্তন হোক। এর বাইরে বিএনপির বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। এ ছাড়া আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত একটা ইমেজ রয়েছে- এই পুরান ঢাকায়। দীর্ষ ৪০ বছর এখানে তিনি রাজনীতি করেছেন। ৯১ সাল থেকে তিনি বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অবিভক্ত ঢাকার দীর্ঘ সময় মেয়র ছিলেন। উনি যতদিন দায়িত্বে ছিলেন, উনার সাথে আমি সেই সময়ে নগরী তথা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতাম। তাই নগরের সমস্যা, উন্নয়নে কী কী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন সেগুলো ছোট বেলা থেকে জানতে পেরেছি। সুতরাং নগর নিয়ে পরিকল্পনা আমার সব সময়ই ছিল। জনগণ এ সকল কারণে আমাকে ভোট দিবে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবো।

নগর উন্নয়ন নিয়ে বাবার দেখানো পথে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি?

ইশরাক: অবশ্যই আছে। অনেক কথাই বলতেন। এখানে সমন্বয়ের  অভাব রয়েছে। বাবা যখন নগরীর দায়িত্বে ছিলেন। ৩২ থেকে ৩৫টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সেবা দিত স্বাধীনভাবে। উনি সব সময় নগর সরকারের কথা বলেছেন। বিগত দিনের মেয়র হানিফ সাহেবও কিন্তু বলেছেন ঢাকা শহরকে যদি বাসযোগ্য ও আধুনিক করতে হয় তাহলে নগর সরকারের কোনো বিকল্প নেই। আমার বাবা মেয়র থাকাকালীন বিএনপি সরকারের আমলে ৬ সিটির মেয়রকে নিয়ে একটি সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে দুই জন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছেও সম্মিলিত নগর সরকারের দাবি করেছিলেন। 

বিকেন্দ্রীকরণ করে নগর সরকারের ধারণাটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি বাসযোগ্য ঢাকা শহর করতে হয়। শুধু ঢাকা নয়, বাকি সিটিগুলোও করতে হবে। একটি মাস্টারপ্লান রয়েছে।  যেকোনো উন্নত শহরে ১০০ বছরের প্লান থাকে...। একটি টেকনিক্যাল ড্রয়িং থাকে জনপথ সম্প্রসারণের সাথে সাথে শহর কীভাবে গড়ে ওঠবে। সেগুলো মাথায় রেখেই কিন্তু আমার বাবা সেই (নগর সরকার) কাজটি শুরু করেছিলেন। উনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন ওয়ার্ড পর্যায়ে যে ম্যাপ থাকা দরকার সেটা ছিল না। এখন সেটা রয়েছে। এর বাইরেও ঢাকা সিটির ৬০০ কোটি টাকা দেনা ছিল। তিনি যখন দায়িত্ব ছেড়ে দেন তখন একটি রিজার্ভ ফান্ড রেখে এসেছিলেন।

আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে তিনি আলাপ-আলোচনা করতেন- যাতে নগর সরকারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়।

এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

এমএইচ/এসবি/আরপি

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও