শঠতা করে কোনো অনুষ্ঠান দর্শকের মন জয় করতে পারে না

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

শঠতা করে কোনো অনুষ্ঠান দর্শকের মন জয় করতে পারে না

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

শঠতা করে কোনো অনুষ্ঠান দর্শকের মন জয় করতে পারে না

কাজী জেসিন। টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কাজ করছেন প্রায় পনেরো বছর। চ্যানেল ওয়ানে কালকথার মধ্য দিয়ে ২০০৬ সালে টেলিভিশন টকশো শুরু করেন তিনি। এরপর বিভিন্ন টেলিভিশনে একাধিক পলিটিক্যাল টকশো উপস্থাপনা ও পরিচালনা করেছেন তিনি।

কাজী জেসিনের জনপ্রিয় শোগুলোর মধ্যে এটিএনে প্রচারিত একটেল প্রতিদিন, একুশে টিভিতে প্রচারিত ইনভেস্টিগেটিভ শো ‘এক্সপ্লোসিভ’, ‘একুশে সংকেত’, বাংলাভিশনে প্রচারিত লাইভ শো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’, যমুনা টিভিতে প্রচারিত লাইভ শো ‘চব্বিশ ঘণ্টা’ অন্যতম।

কাজ করেছেন প্রিন্ট মিডিয়ায় ও টেলিভিশনের সংবাদ বিভাগে। এর পাশাপাশি কবি হিসেবেও রয়েছে তার সুখ্যাতি। বর্তমানের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন কাজী জেসিন।

আপনার কোনো শো এখন টিভিতে যাচ্ছে না। কি নিয়ে ব্যস্ত এখন?

-ঠিক এই মুহূর্তে আমি দেশের বাইরে। নেক্সট প্রোগ্রাম কোথায় করবো তা ঠিক এই মুহূর্তেই আপনাদের জানাতে পারছি না।

আপনি তো দীর্ঘদিন হলো মিডিয়ায় কাজ করছেন। আমরা আপনার অনেক জনপ্রিয় টিভি প্রোগ্রাম বিভিন্ন চ্যানেলে দেখেছি। বর্তমান টিভি অনুষ্ঠানগুলো সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

-টিভিতে কিছু ভালো অনুষ্ঠান হচ্ছে তবে তার প্রায় সবগুলোই বিনোদনভিত্তিক। সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোর প্রধান শর্ত হলো নিরপেক্ষতা ও সততা। দর্শকদের সাথে শঠতা করে কোনো অনুষ্ঠান দর্শকদের মন জয় করতে পারে না। দর্শকরা বোকা না। টিভি শোগুলোতে এখন নিরপেক্ষতা আর দেখা যায় না। বায়াস্ডনেস এখন প্রকটভাবে প্রকাশিত। যে কারণে মানুষ এখন টিভি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

আপনার কি মনে হয় কেন এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে? যারা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে ইনভেস্ট করছেন তারা তো ব্যবসা সফল হওযার জন্যই আসছেন, তাই না?

-দুই রকম বিষয় ঘটছে এখানে। এক. যারা ইনভেস্ট করেছেন বা করছেন তাদের অন্যান্য আরো অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তারা টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে ইনভেস্ট করছেন। সেক্ষেত্রে টিভি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে তাদের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সফলভাবে চালিয়ে নিতে সেক্ষেত্রে তারা কোনো রকম পলিটিক্যাল প্রেসার না নিয়ে কম্প্রোমাইজ করে টিভি চ্যানেল চালিয়ে যাচ্ছেন।

আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সরাসরি রাজনীতির সাথে যারা সম্পৃক্ত তারাই টিভি ওন করছেন। সেক্ষেত্রে টিভি তাদের রাজনীতির একটা মাধ্যম। দর্শকতো কারো রাজনৈতিক কৌশল দেখার জন্য টিভি দেখবে না। সঠিক তথ্য, সঠিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ জানবার জন্য দর্শক টিভি দেখেন। রাজনীতি আর সাংবাদিকতা একসাথে হয় না। উন্নত বিশ্বে সেটা সম্ভব হলেও সেখানে সবার জন্য অর্থাৎ সব দলের সমর্থক সাংবাদিকদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত থাকে সুতরাং টিভিতে দর্শকরা সবরকম ওপিনিয়ন, তথ্য পায়।

নতুন যারা পলিটিক্যাল টকশো উপস্থাপনা করছেন, তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কি?

-স্বাধীনভাবে, রাজনীতি এবং প্রভাবশালীদের প্রভাবমুক্ত থেকে সাহসের সাথে কাজ করা এবং প্রচুর স্টাডি করা।
আপনিতো অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বিভিন্ন সময় সেরা এনকোর হিসেবে । সিযেএফবি, বিসিআরএ, সাঁকো টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, স্বাধীনতা পরিষদ অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি। টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে আপনার সবচেয়ে প্রাপ্তির জায়গাটা কোথায়?

সবচেয়ে প্রাপ্তির জায়গা মানুষের ভালোবাসা। তবে আমার ভেতর প্রচণ্ড অতৃপ্তিও আছে। আমি যা করতে পারতাম তা এখনও করতে পারি নি, স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দরকার।

আপনিতো কবিতা লেখেন। আপনার প্রকাশিত দুইটা বই আছে। আগামী বই মেলায় কি বই আসছে?

-জি। আগামী বই মেলায় আমার নেক্সট বই প্রকাশিত হবে।

ধন্যবাদ আপনাকে

-আপনাকেও অশেষ ধন্যবাদ।

 

সাক্ষাৎকার: আরও পড়ুন

আরও