শিশু জয়নাব ধর্ষণ ও হত্যা: ক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

ঢাকা, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮ | ১২ বৈশাখ ১৪২৫

শিশু জয়নাব ধর্ষণ ও হত্যা: ক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

print
শিশু জয়নাব ধর্ষণ ও হত্যা:  ক্ষুব্ধ পাক ক্রিকেটাররাও

পাকিস্তানে শিশু জয়নাব ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনগণ। মানবাধিকার কর্মী ও সুশীল সমাজ থেকেও জয়নাব হত্যার বিচার চেয়ে দাবী উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। জাস্টিস টু জয়নাব হ্যাশট্যাগ দিয়ে ফেসবুক, টুইটারে সবাই এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর গত মঙ্গলবার আবর্জনার স্তূপ থেকে ছয় বছর বয়সী জয়নাবের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তাকে। জয়নাবের দেহ ক্ষতবিক্ষত ছিল বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তার চেহারা ও দেহের অন্যান্য অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার ঘাড়ের এক একটি হাড়েও ফাটল দেখা গেছে।  

এ ঘটনা সংবাদ ও সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিশুর নিরাপত্তা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সাবেক ক্রিকেট তারকা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইমরান খান টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন- শিশু জয়নাবকে হত্যা ও ধর্ষণের মত ভয়ঙ্কর ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল আমাদের সমাজে শিশুরা কী রকম অনিরাপদ অবস্থায় আছে। এ ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনা এ প্রথম না, আগেও ঘটেছে। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতে আইনের যথাযত ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির পদক্ষেপ নিতে হবে।



জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ হাফিজও টুইটারে বলেন,  সন্তানের পিতা হয়েও এ ঘটনার পর তার (জয়নাবের) পিতা-মাতার বেদনার কথা ভাবতেই পারছি না। তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। সমাজের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরকারের উচিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং জয়নাবের প্রতি ন্যায় বিচার দাবী করছি।

পাক ক্রিকেট দলের আরেক খেলোয়াড় ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির বলেন, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। এ কেমন ঘৃণ্য সমাজে বাস করছি আমরা। জয়নাবের পিতা-মাতার প্রতি সমবেদনা জানাই।

এদিকে জয়নাবের লাশ পাওয়ার পর কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। শেষমেষ বিক্ষুব্ধ হয়ে দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়। অবহেলার অভিযোগ এনে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে হামলা চালালে পুলিশ প্রতিবাদী জনগণের ওপর গুলি চালায়। এতে দুই জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এতে সহিংসতা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবারেও জনগণের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। তারা সরকারি অফিস, গাড়ী ও স্থানীয় রাজনীতিবিদের অফিসে পাথর ছুঁড়ে মারে ও আগুন লাগিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে আনসারি বলেন, পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব যথাযতভাবে পালন করত তাহলে জয়নাবকে সহজে উদ্ধার করা যেত কারণ তাদের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ ছিল। তবে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জয়নাবের পরিবারের সাথে দেখা করেছেন এবং হত্যাকারীকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে বুধবার এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানা যায়, জয়নাবের হত্যাকারীকে গ্রেফতারে যে তার সন্ধান দিতে পারবে তার জন্য ১০ মিলিয়ন রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার। এ ছাড়া পুলিশের গুলিতে নিহত দুইজনকে তিন মিলিয়ন রুপি করে দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়।

সূত্র: এবিসি নিউজ, বিবিসি।

আরজি/

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad