বাণিজ্য মেলায় পেন্সিলের আঁচড়ে আঁকিবুঁকির ক্যানভাস (ভিডিও)

ঢাকা, সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

বাণিজ্য মেলায় পেন্সিলের আঁচড়ে আঁকিবুঁকির ক্যানভাস (ভিডিও)

কামরুল হিরন ৮:২৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৮

print

রতন মৃধা। সামনেই বসে থাকা একজনের হুবহু মুখচ্ছবি আঁকছেন শুধু পেন্সিলের আঁচড়ে, মাত্র ১৫ মিনিটেই। তারপর কার্টিজ পেপারে আঁকা নিজের ছবি দেখে ওই মানুষটি অবাক আর আনন্দচিত্তে নির্ধারিত সম্মানী তুলে দিচ্ছেন শিল্পীর হাতে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই সামনে বসানো টাওয়ারটির পাদদেশের চিত্র এটি।

এখানে খোলা আকাশের নিচে রতনের মতো আরো সাতজন চিত্রশিল্পী মেলায় আসা আগ্রহী দর্শনার্থীদের পেন্সিল স্কেচ আঁকিয়ে দিচ্ছেন। আগ্রহীদের সংখ্যাও কম নয়। কারণ এসব শিল্পী প্রত্যেকেই প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ জনের ছবি আঁকছেন। এছাড়াও পাচ্ছেন ছবি থেকে ছবি আঁকার অর্ডার।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা স্বাধীনচিত্তের এসব শিল্পীর মনে একটাই আতঙ্ক- ‘এই বুঝি উঠিয়ে দেয় মেলা কর্তৃপক্ষ’

কথা প্রসঙ্গে জানা গেলো, মেলা প্রাঙ্গণে বসে এভাবে ছবি আঁকানোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি তাদের। তাই তাদের ভয়, কখন যে উঠে যেতে বলে। কারণ, গতবারও মেলা প্রাঙ্গণ থেকে তাদের উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল।

কথা হচ্ছিল মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা শিল্পী রতন মৃধার সঙ্গে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বললেন, মেলার দ্বিতীয় দিন থেকে এখানে বসে ছবি আঁকার কাজ করছি। গড়ে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ জন আগ্রহী তো আসেনই তাদের পেন্সিল স্কেচ আঁকিয়ে নিতে। তাৎক্ষণিক পেন্সিলে আঁকা নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে আগ্রহীদের অনেকে বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের ছবিও দিয়ে যাচ্ছেন। সেখান থেকে যেন তার স্বজনের ছবি আঁকিয়ে দিই। কিন্তু আতঙ্ক একটাই...

নিরাপত্তাবেষ্টিত এই মেলা প্রাঙ্গণে আবার কিসের আতঙ্ক জানতে চাইলে এই শিল্পী বলেন, আমরা বইমেলা বা বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে ঢাকায় আসি আগ্রহীদের পেন্সিল স্কেচ আঁকতে। কিন্তু আমাদের উঠিয়ে দেয়া হয়। গতবারও এ মেলা থেকে আমাদের উঠে যেতে বলা হয়েছিল।

এবার এখন (মেলার দশম দিন দুপুর) পর্যন্ত মেলা কর্তৃপক্ষের কেউ কি আপনাদের উঠে যেতে বলেছেন?

জবাবে রতন মৃধা বললেন, না। এখনো কেউ উঠে যেতে বলেননি। তবে যেকোনো সময় বলতে পারেন।

কথার মাঝেই পেছন থেকে একজন (টাওয়ারের নিচে দায়িত্বরত ) বলে উঠলেন, এমন করলে তো আপনাদের বসতে দেয়া যাবে না।

হঠাৎ এমন ধমকের সুর শুনেই দেখা গেলো রতনের ইন্সট্রুমেন্ট ব্যাগটি অজান্তেই পড়ে গেছে টাওয়ারের নিচে সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো ফুল গাছের কাছে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে এই শিল্পী বিনয়ের সঙ্গে বললেন, মামা খেয়াল করিনি। আর এমন হবে না।

এ ব্যাপারে কথা হয় বাণিজ্য মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক অভিজিৎ চৌধুরীর সঙ্গে।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ওনারা তো অনুমতি নিয়ে বসেননি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আসায় বসতে নিষেধও করা হয়নি।

গতবার কেন নিষেধ করা হয়েছিল জানতে চাইলে ইপিবি মহাপরিচালক বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে। কারণ, গতবার অভিযোগ এসেছিল তারা ছবি আঁকিয়ে অতিরিক্ত সম্মানী আদায় করছে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে। তাই নিষেধ করা হয়েছিল।

এ প্রেক্ষিতে চিত্রশিল্পী রতন মৃধা বললেন, এবারের মেলায় আমরা নির্ধারিত সম্মানীটুকুই নিচ্ছি। আগ্রহীরাও তা স্বাচ্ছন্দ্যেই দিচ্ছেন।

তিনি আবেদনের সুরে বলেন, শুধু পরিবর্তন ডটকমের মাধ্যমে মেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ, আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে শুধু আগ্রহীদের পেন্সিল স্কেচ আঁকতেই এসেছি। এখান থেকে উঠে যেতে বলে শিল্পীদের আর অসম্মান করবেন না।

ছবি: ওসমান গণি 

কেএইচ/এএল

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad