বাণিজ্য মেলায় ওরা সরকারি কর্মচারী!

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪

বাণিজ্য মেলায় ওরা সরকারি কর্মচারী!

কামরুল হিরন ১০:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৪, ২০১৮

print
বাণিজ্য মেলায় ওরা সরকারি কর্মচারী!

বাণিজ্য মেলার প্রাঙ্গণ ঘুরে ক্লান্ত জিয়াউল হক। ক্লান্তি দূর করতে বন্ধুকে নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের একটি রেস্টুরেন্টে বসে কোল্ড ড্রিংসের অর্ডার দিলেন এবং তা পান করলেন। বিল দেয়ার সময় তার হাতে একটি রশিদ ধরিয়ে দেয়া হলো। তা অনুযায়ী টাকাও পরিশোধ করলেন তিনি। কিন্তু মনে হলো বিলটা একটু বেশিই রাখা হচ্ছে। তাই ড্রিংসের খালি বোতলটি সঙ্গে নিয়েই জিয়াউল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলেন।

চলে এলেন মেলা প্রাঙ্গণের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়ে। এ ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক তাকে লিখিতভাবে অভিযোগের একটি ফরম এগিয়ে দিলেন। জিয়াউল তা পূরণও করলেন। ঘটনাটি মেলার তৃতীয় সন্ধ্যায়।

এবার শুরু হলো অভিযান। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেলার নিরপত্তারক্ষী পুলিশ সদস্যসহ ওই অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলেন অভিযুক্ত রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে।

বেশি দাম রাখার কারণ জানতে চাইলে রেস্টুরেন্টটির বিক্রয় কর্মীরা তাদের মালিককে ডাকলেন, ‍যিনি ওই সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।

এক পর্যায়ে কোমল পানীয়ের দাম মেলা আয়োজক(ইপিবি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২ টাকা বেশি রাখার দায়ে রেস্টুরেন্টটিকে মৌখিকভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কিন্তু কিছুতেই এতো টাকা দিতে রাজি নয় ওই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ।

(ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য অনূর্ধ ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেয়ার কথা বলা হয়েছে)

এতে উভয়ের মধ্যে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। দুজনেই সরকারি চাকুরে, পাশেই দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। চলতে থাকে ফোন চালাচালিও। একে অপরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন ‘আপনারাও সরাকারি কর্মচারী, আমরাও সরকারি কর্মচারী’।

এসময় জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে কেবিনেট পর্যন্ত ক্যাটারিং সার্ভিস দিয়ে থাকে ওই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান।

অবশেষে জরিমানা ঘোষণাকারী বিষয়টি সমাধানের জন্য রেস্টুরেন্টটি সাময়িক বন্ধ রেখে কর্তৃপক্ষকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়ে যেতে বললেন। তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। সারা দিনের তুলনায় দর্শনার্থী বেড়ে চলেছে মেলা প্রাঙ্গণে।

রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরের অস্থায়ী কার্যালয়ের একটি কক্ষে প্রবেশ করলেন। এসময় সংবাদকর্মীদের সেখানে উপস্থিত না থাকার অনুরোধ জানানো হলো।

দফারফা শেষে ঘোষিত ২৫ হাজার নেমে আসে লিখিত ১০ হাজার টাকার জরিমানায়। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সেই টাকা পরিশোধ করে চলে যাবার সময় নিজ প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি আপনারা দয়া করে কেউ পত্রিকায় লিখবেন না।”

কেএইচ/এএল

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad