বিমানের কাছে বকেয়া ১৬৫০ কোটি টাকা

ঢাকা, শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

বিমানের কাছে বকেয়া ১৬৫০ কোটি টাকা

তোফাজ্জল হোসেন ৩:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৮

print
বিমানের কাছে বকেয়া ১৬৫০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের বকেয়া বিল নিয়মিত পরিশোধ না করলে বিমানকে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিপিসির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। এ টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা না হলে বিমানকে জ্বালানি দেবে না পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

জানা গেছে, দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ‘জেট এ ওয়ান’ জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। বিশেষ বিবেচনায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ বিমানকে বাকিতে তেল সরবরাহ করে থাকে। তবে নিয়মিত তেলের মূল্য পরিশোধ না করায় বিমানের কাছে বিপিসির বকেয়ার পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ কারণে  বকেয়া টাকার অংশ বাড়ার ফলে প্রতিষ্ঠানটি বাকিতে আর জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে না মর্মে বিমানকে জানিয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, ২০১০-১১ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৭ বছরের বকেয়া পড়ে আছে। এর মধ্যে শুধু ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দিতে সক্ষম হয় বিমান। এখনো ৬ বছরের বকেয়া পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজের যে পরিমাণ ‘জেট এ ওয়ান’ জ্বালানি ব্যবহার করেছে তার চেয়ে অনেক কম অর্থ পরিশোধ করায় বর্তমানে সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বকেয়া অছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নগদ মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে জ্বালানি ও খনিজ বিভাগ। এ ছাড়া আগামী ৫ বছরের মধ্যে বিপিসির বকেয়া পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা নিয়মিত পরিশোধের কথাও বলেছে বিপিসি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২০০৮-৯ অর্থবছর থেকে বিমান নগদ অর্থ সংকটে পড়ে। বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১০টি নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকার থেকে কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। যা বিমানের নিজস্ব তহবিল থেকে সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছর ছাড়া প্রতিবছরই ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসছে বিমান। বর্তমানে বিমানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪৬ কোটি টাকা। আবার, পদ্মা অয়েল কোম্পানির ফুয়েলের গড় মূল্য অন্য বিদেশি স্টেশনের তুলনায় প্রায় ৩৭% বেশি হওয়ায় বিমানকে প্রতিবছর অতিরিক্ত মূল্য বাবদ প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডকে।

এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, বকেয়া বিল নিয়মিত পরিশোধ না করলে বিমানকে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হবে না। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমানের খামখেয়ালির জন্য বিপিসির বকেয়া টানতে হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই পরিবহন চালিয়ে লাভ করছে। আর বিমান গত কয়েক বছর লোকসানের ঘানি টানছে। বিমানকে নতুন করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সম্প্রতি বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে জ্বালানি খরচের বকেয়া পরিশোধ করতে প্রচেষ্টা চালাবে বিমান। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি এ কর্মকর্তা।

জিজাক/

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ