নেভি ছেড়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের চোখের মণি ফখর জামান!

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

নেভি ছেড়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের চোখের মণি ফখর জামান!

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

print
নেভি ছেড়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটের চোখের মণি ফখর জামান!

এই তো কিছুদিন আগেও বিশ্ব ক্রিকেটে অচেনা একজন ছিলেন ফখর জামান। কিন্তু আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরটি বদলে দিয়েছে পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যানের জগৎ। পাকিস্তান নেভির সাবেক নাবিককে নিয়ে মেতে আছে এখন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব! ক্রিকেটের টানেই নৌবাহিনী ছেড়েছিলেন ফখর। সেই তিনি ভারতের বিপক্ষে ওভালের ফাইনালে হাঁকিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তাতে উড়ে গেছে প্রতিপক্ষের বোলিং। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। ১০৬ বলে ১১৪ রানের নান্দনিক ইনিংসে ফখর জিতে নিয়েছেন ক্রিকেটের রথী-মহারথীদের মন। ফখর ঝুলিতে পুরেছেন ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কারটা। ম্যাচশেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ তো বলেই দিলেন, ফখর চ্যাম্পিয়ন ব্যাটসম্যান।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে ফখরের। ২৭ বছর বয়সে। যে বয়সে ক্রিকেটারদের নামের সঙ্গে জুড়ে থাকে তারকাখ্যাতি। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকটা মাস তিনেক আগে। মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফখর ওপেনিংয়ে 'অটোমেটিক চয়েজ' ছিলেন না। খেলার সুযোগটা মিলেছে আহমেদ শেহজাদের বাজে ফর্মের কারণে। ভারতের বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে হারের পর। সেই সুযোগেই বাজিমাত। টুর্নামেন্টে ৪ ম্যাচে ৬৩ গড়ে ২৫২ রান করেছেন ফখর। হাফসেঞ্চুরি দুইটি আর ফাইনালে সেঞ্চুরি। তবে ফখরের পাকিস্তানের নয়নের মণি হয়ে ওঠার পথটা সহজ ছিল না। কাঠখড় পুড়িয়ে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কেমন ছিল পাকিস্তান দলে ফখরের উঠে আসার স্বপ্নযাত্রাটা?

এক. ২০০৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে জন্মস্থান মার্দান থেকে করাচিতে যান ফখর। যোগ দেন পাকিস্তান নেভিতে। তবে মন টেকেনি। সেখানেই ক্রিকেটার হওয়ার শৈশবের স্বপ্নটা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। নেভিতে থাকতে আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেট ম্যাচগুলোতে খেলতেন। কিন্তু তাতে কি আর সাধ মেটে? পুরোদস্তুর পেশাদার ক্রিকেটার হতে ২০১৩ সালে ছেড়েই দেন নেভির চাকরি।

দুই. ২০১৩ সালে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ইউনিস খানের সঙ্গে পরিচয় হয় ফখরের। তার মতো ইউনিসের জন্ম মার্দানে। ২৩ বছর বয়সী তরুণ ফখরে মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। উপদেশ দিয়েছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোযোগী হতে। সে বছর মুলতানের হয়ে ঘরোয়া ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ফখরের।

তিন. ফখর লাইমলাইটে আসেন ২০১৬ সালের পাকিস্তান কাপে। সেই লিস্ট 'এ' টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ৫৯.৪ গড়ে ২৯৭ রান করেছিলেন তিনি। হাঁকিয়েছিলেন দুটি হাফসেঞ্চুরি আর একটি সেঞ্চুরি। হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এরপরই দ্রুত বদলাতে শুরু করে ফখরের ক্রিকেট ভাগ্য।

চার. একই মৌসুমের কায়েদ-এ-আজম ট্রফিতে রানের বন্যা বইয়ে দেন ফখর। পাকিস্তানের ঘরোয়া ফার্স্ট-ক্লাস আসরে ৫১ গড়ে ৬৬৩ রান করেছিলেন তিনি। দলকে তুলেছিলেন ফাইনালে। সে ম্যাচে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। খেলেছিলেন ১৭০ রানের ইনিংস।

পাঁচ. ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেটে ফখরের গড় ৪২.০১ আর লিস্ট 'এ' ক্যারিয়ারে ৫১.৪৮। চলতি বছরে ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি আসর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ডাক পান তিনি। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ পারফর্ম করেন তিনি। তবে সেরাটা দেখিয়েছিলেন করাচি কিংসের বিপক্ষে। ৩৩ বলে করেছিলেন ৫৬ রান। প্রতিভা, পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতা সব মিলিয়ে এরপর ফখরের জন্য খুলে যায় জাতীয় দলের দরজা। সুযোগ পান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। আর বাকিটা তো ইতিহাস।

সূত্র: স্পোর্টসক্রীড়া

এসএইচ/ক্যাট

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad