যে পাঁচ কারণে ফাইনালে ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

যে পাঁচ কারণে ফাইনালে ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৭

print
যে পাঁচ কারণে ফাইনালে ভারতকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

ইংল্যান্ডে মাত্রই শেষ হওয়া আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে 'হট ফেভারিট' ছিল ভারত। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের হাতছানি ছিল তাদের সামনে। তবে কেনিংটন ওভালে রোববারের ফাইনালে বিরাট কোহলিদের নিয়ে একেবারে ছেলেখেলা করেছে পাকিস্তান। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের আটে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে গিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদরা। তারাই কি না ফাইনালে ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই ধরাশায়ী করেছে ভারতকে। ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে দলটি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের উল্লাস করেছে পাকিস্তান।

.

গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছেই বৃষ্টি আইনে ১২৪ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। ফাইনালে যখন দুদল আবার মুখোমুখি হয় তখন ভারতের জয়ের পাল্লাটাই ভারী ছিল। তবে সব হিসেব-নিকেশ আমূল পাল্টে দেয় পাকিস্তান। ভারতকে পুড়িয়ে ছাই করে জিতে নেয় শিরোপা। পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পেছনে ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সেগুলো কি? চলুন জেনে নেয়া যাক।

এক. সরফরাজের টসে হার

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এর আগের ছয় ফাইনালে মাত্র একবারই প্রথমে ব্যাট করা দল জিতেছে। তাছাড়া কোহলির ভারত রান তাড়া করায় বিশ্বের সেরা। ইতিহাস আর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দুটোই ছিল ভারতের পক্ষে। তাই টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্ত ভাবতে হয়নি কোহলিকে। তবে টসে হারাটাই যেন সৌভাগ্য হয়ে এসেছিল সরফরাজের পাকিস্তানের জন্য।  ভারতকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় তারা। ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ৩৩৮ বিশাল স্কোর গড়ে। যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে ফাইনালের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

দুই. আউট হয়েও 'নো' বলে বেঁচে যান ফখর

পাকিস্তানের ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আউট হতে পারতেন ড্যাশিং ওপেনার ফখর জামান। ব্যক্তিগত ৩ রানে।  জসপ্রিত বুমরাহর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী নবাগত তারকা। কিন্তু থার্ড আম্পায়ার সিদ্ধান্ত জানান, 'নো' বল করেছেন বুমরাহ। জীবন পেয়ে ভারতীয় বোলারদের কচুকাটা করেন ফখর। হাঁকান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তার ১১৪ রানের ঝলমলে ইনিংসটিই বদলে দেয় পুরো পাকিস্তান দলের ব্যাটিং মেজাজ। ফখর ব্যাটিং দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পরের ব্যাটাররা উইকেটে এসে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন ভারতীয় বোলারদের।

তিন. দ্বিতীয় জীবন কাজে লাগাতে ব্যর্থ কোহলি

ফখরের মতো কোহলিও দ্বিতীয় জীবন পেয়েছিলেন। তবে সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারেননি। মোহাম্মদ আমিরের করা ভারতের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে স্লিপে আজহার আলিকে ক্যাচ দিয়েছিলেন ভারত নেতা। তবে আজহার সে ক্যাচটা লুফে নিতে পারেননি। তবে পরের বলেই পাকিস্তানকে উল্লাসে মাতান আমির। পয়েন্টে কোহলির ক্যাচটা মুঠোবন্দী করতে ভুল করেননি শাদাব খান। আগের ৪ ইনিংসে ২৫৩ করা ডানহাতি ব্যাটার ফিরেছেন মাত্র ৫ রানে। তাতে শুরুতেই বেশ চাপে পড়ে যায় ভারত।

চার. গতিমানব আমিরের বোলিং তোপ

ভারতের ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কাটা দেন মোহাম্মদ আমির। চোটের কারণে সেমি-ফাইনালে খেলেননি তিনি। তবে ফাইনালে নেমেই জ্বলে উঠেছিলেন বাঁহাতি গতিমানব। ভারতের দলীয় ৩৩ রানের মধ্যে রোহিত-কোহলি-শিখরের উইকেট তুলে নেন তিনি। সেরা তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করাটা একরকম অসম্ভবই হয়ে পড়েছিল তাদের জন্য। এরপর হাসান আলি, শাদাব খান, জুনাইদ খানরা মিলে ধসিয়ে দেন ভারতকে। ১৫৮ রানে অলআউট হয় দলটি। সবমিলিয়ে ৬ ওভারে ২টি মেডেনসহ মাত্র ১৯ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন আমির।

পাঁচ. দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হার্দিক

ভারত ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার ব্যাটে চড়েই অসম্ভব কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখছিল ভারত। অন্য ব্যাটাররা যখন পাকিস্তানের বোলারদের আক্রমণে দিশেহারা, তখন হার্দিক খেললেন একাই। শাদাবকে টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। মাত্র ৩২ বলে। কিন্তু ৪৩ বলে ৭৬ রান করে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে যান তিনি। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে দুজনে চলে আসেন উইকেটের একই প্রান্তে। স্টাম্প ভেঙে দেন হাসান।

হার্দিকের বিদায়ের পর বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে ভারত যোগ করতে পারে মাত্র ৬ রান। মাত্র ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা। তাতে ১৮০ রানের বিশাল জয় পায় পাকিস্তান।

সূত্র: ডন

এসএইচ

print
 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad