চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘হাসান আলি’ বিস্ময়

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘হাসান আলি’ বিস্ময়

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৭

print
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘হাসান আলি’ বিস্ময়

যুগে যুগে কিংবদন্তি সব ফাস্ট বোলারের জন্ম দিয়েছে পাকিস্তান। বিশ্ব ক্রিকেটে তাই একটা প্রবাদ চালু আছে। পাকিস্তানের মাটি নামেই ফাস্ট বোলারের খনি। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া মানেই জন্মগতভাবেই শরীরে ফাস্ট বোলারের জিন পাওয়া! সেই পাকিস্তানের একজন তরুণ ফাস্ট বোলার প্রতিভার ঝলকানিতে বিশ্বকে বিস্মিয়ের ঘোরে বাঁধবেন, সেটা স্বাভাবিকই। তবে হাসান আলির উত্থান গল্পটা একটু ভিন্নই।

গতি খুব বেশি নয়। শরীরটাও ঠিক বিধ্বংসী ফাস্ট বোলারের সঙ্গে যায় না! হালকা-পাতলা গড়ন। উচ্চতা মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। বোলিং ডেলিভারিও খুব সাধারণ। তবে লাইন-লেন্থ চমৎকার। হাসান আলির সবচেয়ে বড় গুণ, বোলিংয়ে আছে বৈচিত্র্য। এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই বৈচিত্র্যের প্রদর্শনীতেই হাসান আলি প্রায় জিরো থেকে বনে গেছেন নায়ক।

বিশ্ব তো বটেই; টুর্নামেন্টের শুরুতে খোদ পাকিস্তান দলেরই বোলিং আক্রমণে হাসান আলি ছিলেন পেছনের দিকেই। মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজদের উপরই আলোটা ছিল বেশি। হাসান আলির টুর্নামেন্টের শুরুটাও হয়েছিল বাজেভাবে। ৪ জুন, এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২৩ বছর বয়সী তরুণ ১০ ওভারে ৭০ রান দিয়ে নিয়েছিলেন মাত্র ১টি উইকেট। তখন কেই-বা ভাবতে পেরেছিল, এই হাসান আলিই হবেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।

শেষ পর্যন্ত তিনিই এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকার থাকবেন কিনা, বলবে সময়। তবে এখনো পর্যন্ত তিনিই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। ৪ ম্যাচে নিয়েছেন ১০ উইকেট। ভারত ম্যাচের পরের তিন ম্যাচেই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। ভারতের বিপক্ষে লজ্জাজনক হার দিয়ে শুরুর পরও যে পাকিস্তান বীরদর্পে প্রথম বারের মতো জায়গা করে নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা হাসান আলির। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ের ম্যাচে ২৪ রান খরচায় নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ফ্যাফ ডু প্রেসি, জেপি ডুমিনি ও ওয়েইন পারনেলকে। হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। এক ম্যাচ পর হাসান আলি ম্যাচসেরা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও। মাঝে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও ৪৩ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড যে কার্ডিফের সেমিফেইনালে মাত্র ২১১ রানেই গুটিয়ে যায়, তার পেছনের প্রধান কারিগর হাসান আলি। নিখুঁত বোলিংয়ে ১০ ওভারে ৩৫ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। সেই উইকেট ৩টিও ছিল মহামূল্যবান। বল হাতে নিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই হাসান আলি ফিরিয়ে দেন বিপদের কারণ হয়ে ওঠা জনি বেয়ারস্টোকে। এরপর আউট করেছেন ইংল্যান্ডের সবচেয়ে দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যান অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও বেন স্টোকসকে। ক্রিকেট বোদ্ধাদের অভিমত, ফেভারিট ইংল্যান্ডের বিদায় ঘণ্টাটা বাজিয়ে দিয়েছেন আসলে হাসান আলিই।

সঙ্গে গড়েছেন অনন্য দুটি কীর্তিও। এই নিয়ে ২০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে অষ্টম বারের মতো ম্যাচে ৩ বা তার বেশি উইকেট নিলেন হাসান আলি। পাকিস্তানের  ইতিহাসে আর কোনো বোলারই ক্যারিয়ারের প্রথম ২০ ম্যাচে ৮ বার ৩ উইকেট নিতে পারেননি! শুধু তাই নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেও এক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানিদের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এখন পাঞ্জাবের এই তরুণই। এর আগে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট নিয়েছিলেন সাঈদ আজমল, ২০০৯ আসরে।

২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হাসান আলির। এই ওয়ানডে দিয়েই। তবে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকটা একদমই ভালো ছিল না। দল ২৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতলেও বল হাতে হাসান আলি ৫ ওভারে ২১ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ২০১৬ সালেল ২৭ আগস্ট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে নেন ১ উইকেট। ৩০ আগস্ট পরের ম্যাচে দুটি। হাসান আলি নিজের জাতটা  প্রথম চেনান এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, কার্ডিফে। ১০ ওভারে ৬০ রন দিয়ে নেন ৪ উইকেট। সাড়ে ৯ মাসের ব্যবধানে সেই কার্ডিফে সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবার নায়ক হাসান আলি।

এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন। ১৮ জুন স্বপ্নের ফাইনালেও নিশ্চয় বল হাতে দারুণ কিছু করে তারকাখ্যাতিটাকে আরও রাঙিয়ে তুলতে চাইবেন হাসান আলি। ওভালের ফাইনালে বাংলাদেশ কিংবা ভারত, প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, পাকিস্তানও তাকিয়ে থাকবে এই হাসান আলির দিকেই। ফাইনাল স্বপ্ন পূরণের পর অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ তো বলেই দিয়েছেন, ‘সে খুবই পরিশ্রমী এবং উদ্দীপক বোলার। যখনই বল করতে আসে, উইকেট পায়। আশা করি ফাইনালেও সে দারুণ বোলিং করবে এবং উইকেট নেবে।’

হাসান আলি পারবেন ফাইনালে অধিনায়কের প্রত্যাশা পূরণ করতে?

কেআর

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad