নিয়তিই হোক বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের নির্ধারক!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ২ কার্তিক ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

নিয়তিই হোক বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের নির্ধারক!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৭

print
নিয়তিই হোক বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের নির্ধারক!

এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে বৃষ্টি আসবে কি? বৃষ্টির সঙ্গে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির যা সখ্য তাতে বিরাট কোহলি কিংবা মাশরাফি বিন মুর্তজাদের নিয়ে আলোচনায় মেঘ-বৃষ্টি ঢুকে যাচ্ছে অবলীলায়। এজবাস্টনের ম্যাচের টিকিট কেটে রাখা দর্শকরা বৃষ্টি যাতে না হয় এর জন্য নিশ্চয়ই আলাদা করে প্রার্থনায় মগ্ন থাকছেন। কিন্তু ওপারে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি তাতে মুচকি হাসছেন? বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ মানেই তো অবধারিতভাবে রবী ঠাকুরের ঢুকে পড়া। ম্যাচের আগে দুই দলের জাতীয় সঙ্গীতেই মিশে থাকে যার নাম, সেই রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ‘বৃষ্টি’ এজবাস্টনের ম্যাচে না হয় একটু এলোই। কিন্তু এই বৃষ্টিই তো কেড়ে নিতে পারে দুই দলের ম্যাচ নিয়ে আকর্ষণের সবটা! বৃহস্পতিবার এজবাস্টনের আকাশ জুড়ে তাই শুধু রোদই খেলা করুক এটাই সব ক্রিকেটপ্রেমীর চাওয়া।

একটা ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কিংবা আকর্ষণ কতোটা শিখরে উঠতে পারে এই সময়ে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচই তার আদর্শ উদাহরণ। অ্যাশেজে এখন আর সেই উত্তাপ নেই। ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথও ঠিক আগের মতো নেই।  এবারের আসরের গ্রুপপর্বে দুই দলের লড়াইটা তার প্রমাণ। একটা সময় গরীবের অ্যাশেজ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বৈরথকে আকর্ষণীয় লাগছিল অনেকের। কিন্তু বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে উঠে সেই লড়াইকে একতরফা বানিয়ে ফেলেছে বেশ আগে। ক্রিকেটে দুই দলের উত্তেজনা মাখা শত্রু শত্রুভাবটা তাই হঠাৎই এসে পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ লড়াইয়ের উপর। যার উৎপত্তি খুব বেশি আগে নয়। খোলা চোখে দেখলে তা ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের গল্প।

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সেই ম্যাচেও একপশলা বৃষ্টি এসেছিল। অবশ্য ম্যাচকে তা কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারেনি। কিন্তু ওই খেলার আম্পায়ারদের পক্ষপাতিত্বে কলঙ্কের গল্প রচিত হয়েছিল ক্রিকেটে। বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল ১০৯ রানে। সেই ম্যাচ হারলেও তখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে সেটিই ছিল সেরা সাফল্য। দুই বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে উঠে আগের সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। যদিও বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাঝে মর্যাদার ফারাক বেশ। কিন্তু তারপরও কি আশ্চর্য নিয়তি দেখুন, বাংলাদেশের সেরা সাফল্যের মঞ্চে সে তো প্রতিপক্ষ হিসেবে টেনে এনেছে ভারতকেই! সেই ভারত, যে দল মানেই মেলবোর্নে নিষ্ঠুরভাবে টাইগারদের হৃদয়ভঙ্গের গল্প।



মাঝে দুই দলের আরো কয়েকটি লড়াই ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট ম্যাচকে দিয়েছে অন্যরকম আকর্ষণ। নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ ভারতকে সিরিজ হারিয়ে ২০১৫ সালেই মেলবোর্ন পরাজয়ের শোধ তুলেছে। ভারতের হৃদয়ে হয়েছে রক্তক্ষরণ। যা থামার নয়। ২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গোটা ভারত কাঁপিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। শেষে ৩ বলে ২ রান করতে না পারার বিয়োগান্ত নাটকে হারতে হয় বাংলাদেশকে। ২ রানের হারের সেই ম্যাচ দুই দলের লড়াইয়ে নিয়েছে আরো উচ্চতায়।

বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে পুরোনো এই গল্পগুলোই আসছে ঘুরেফিরে। কারো চোখে ভাসছে মেলবোর্ন আলিম দারের 'নো' ডাকার দৃশ্যটি। কারো চোখে মিরপুরে মোস্তাফিজুর রহমানকে এমএস ধোনির ধাক্কা মারার চিত্র। আর সবকিছুর পর বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ বীরোচিত জয়টি। যে জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের কঠোর সমালোচকরাও প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছে। এই সবই নিশ্চয়ই নিয়তির খেলা! যার রচয়িতা ক্রিকেট বিধাতা।

ক্রিকেটকে অনেক সময়ই জীবনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। খেলাটার মহিমা, বোধ, জীবনের চিত্রনাট্যের মতোই অজানা সব রোমাঞ্চ বাঁকে বাঁকে। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটাই যেমন বারবার দেখেছে তা। ২০১৫ বিশ্বকাপে যে ভারতের বিপক্ষে হেরে সেমি-ফাইনালে উঠা হয়নি বাংলাদেশের, আরো একটি বৈশ্বিক আসরে এসে সেই সেমিতেই কিনা ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ভারত দেখছে, বাংলাদেশ পারে বারবার নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে। যে ইংল্যান্ডের কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে বাংলাদেশে আসতে চান না, সেই দেশেই সন্ত্রাসী হামলার মাঝেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চলে। যে অস্ট্রেলিয়া নিরপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ সফরই স্থগিত করে দেয়, সেই দলটিই কিনা সন্ত্রাসী হামলার পর ওখানে খেলতে নামে বাংলাদেশের সঙ্গে। জীবনের গল্পে অন্যায়ের দায় মোচন তো এমনই হয়। তা ক্রিকেট নামক গল্পে আরেকটা বাঁক লেখা হোক না জীবনের মতো! এজবাস্টনে নিয়তিই লিখে দিক মেলবোর্নের অন্যায়ের বদলা!

টিএআর/ক্যাট

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad