হাবিবুলদের স্বপ্নপূরণ করে চলেছেন মাশরাফিরা

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৭ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

হাবিবুলদের স্বপ্নপূরণ করে চলেছেন মাশরাফিরা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৭

print
হাবিবুলদের স্বপ্নপূরণ করে চলেছেন মাশরাফিরা

ক্রিকেট শুধুই কি একটা খেলার নাম? হতে পারে কোথাও। তবে বাংলাদেশের মানুষের জন্য নয়। লাল-সবুজের এই দেশে ক্রিকেটের ব্যাপ্তি যে অনেক বেশি। ষোল কোটি মানুষের হাসি-কান্নার প্রতীক এখন ক্রিকেট। একটা খেলা গোটা জাতিকে কিভাবে বিনি সুতোর মালায় গাঁথতে পারে বাংলাদেশে ‘ক্রিকেট’ তারই আদর্শ প্রমাণ। অথচ ক্রিকেট সেই খেলা, যা কিনা বলতে গেলে একসময় ছিল নাক উঁচু দেশগুলোর অহামিকা! কিন্তু নানা চড়াই-উতরাই বিবর্তন পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কুলিন ক্রিকেট দেশের কাতারে। আন্ডারডগের ট্যাগ ছিড়ে ফেলে ধারাবাহিক সাফেল্যে বাংলাদেম তো বড় দলই আজ। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া তারই প্রমাণ। বিশ্বের সেরা ৪ দলের একটি তারা এখন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই বড় দল হয়ে উঠের ক্ষেত্রে শুরুর দিকের এক সেনানায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান সময়টাকে যিনি বলছেন, এটি সেই দিন যা আমরা স্বপ্ন দেখতাম।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের গ্রুপ থেকে সেমি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। আইসিসির কোনো আসরে এটিই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। বৃহস্পতিবার শেষ চারের লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। বার্মিংহামের এজবাস্টনে যে ম্যাচ জিতলেই ফাইনালের ভেলায় চড়বে লাল-সবুজের দেশ। হাবিবুল বাশার তাই বলছেন, ‘এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন । এটি সেই দিন আমরা যা স্বপ্নে দেখতাম।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। বর্তমানে বিসিবির নির্বাচক। বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে যার মন্তব্য, ‘সাধারণ মানুষের খাওয়া এবং ঘুমেও ক্রিকেট। তারা ক্রিকেটের জন্য যে কোনো কিছু ছাড়তে পারে। আক্ষরিক অর্থেই যখন একটি ক্রিকেট ম্যাচ হয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তখন অন্য কিছুই থাকে না। আমার মনে হয় কেউ এটি মিস করবে না। সবাই এই খেলা দেখবে।’



দর্শকদের আবেগে শোয়া-বসা-ঘুমে যে ক্রিকেট জড়িয়ে গেছে হাবিবুল বাশার সেই কথাই বোঝাতে চাইছেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে মিস্টার ফিফটি বলে দিচ্ছেন দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর উন্নতির কথাও, ‘বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দিক, প্রত্যেকেই এখন ক্রিকেট খেলতে চায়। দীর্ঘদিন আগে যখন আমি ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, আমার বাবা-মা তখন  কিছুতেই সেটি চাইতেন না। তারা চাইতেন আমি অন্য কিছু করি। কিন্তু এখন দেখি সব বাচ্চারাই ক্রিকেট খেলতে চায় এবং বাবা-মাই তার সন্তানকে ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিয়ে আসেন। আমরা তাই অনেক খেলোয়াড় পাচ্ছি। এবং আমাদের এখন ভালো অবকাঠামো আছে। আমাদের প্রক্রিয়া (ক্রিকেটার তৈরির) দারুণ, আমাদের বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটও এখন চমৎকার। সবাই ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাচ্ছে।’

একটা সময় ছিল যখন ক্রিকেটে ঘোর অনামিশায় দিন পার করেছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টানা ৪৫ ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচ আবার ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। কিন্তু সেই সব দিন এখন পেছনে পড়েছে। নিজেদের চেষ্টা, পরিকল্পনায় এখন উঠে দাড়ানো একটি দল বাংলাদেশ। হাবিবুল এখনকার আনন্দময় দিনে সেই কালোদিনগুলো স্মরণ করে বলেন,‘আমরা আমাদের দর্শকদের অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়েও নিয়ে গেছি। আমি নিজে এটি অনুধাবন করেছি, দেখেছি। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা ঘটছে, সেই দিনগুলোতে আমি এটির  স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু আমি আমার স্বপ্নের পুরোটা পূরণ করতে পারিনি। কিন্তু এখন আমি ছেলেদের নিয়ে গর্বিত যে, আমার দেখা স্বপ্নগুলোই তারা পূরণ করে চলেছে। আমার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তির কিছু নেই।’

টিএআর/ক্যাট

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad