এজন্যই তো দক্ষিণ আফ্রিকা 'চোকার'!

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

এজন্যই তো দক্ষিণ আফ্রিকা 'চোকার'!

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৭

print
এজন্যই তো দক্ষিণ আফ্রিকা 'চোকার'!

দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নামের সাথে সমার্থ হয়ে আছে একটি শব্দ। 'চোকার'। কেন তা সবার জানা। বিশ্বের বড় আসরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভেঙে পড়ার জন্যই এই নাম। গেলো ১৫ বছরে দাপুটে এই দলটি আইসিসির ৯টি নক আউট ম্যাচে হেরেছে। ভারতের বিপক্ষে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির 'বি' গ্রুপের শেষ ম্যাচটাও ছিল তাদের জন্য একরকম নক আউট। নক আউট ম্যাচ না হয়েও। বাঁচা-মরার সেই ম্যাচেও বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকার অসহায়ত্ব সেই 'চোকার' নামটিকে দিলো স্বার্থকতা। কি নিদারুণ ব্যাপার! ওভালে বড় লক্ষ্যের আশা জাগিয়েও ৭৫ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান গুঁটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে ১২ ওভার হাতে রেখেই ২ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান তুলে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। বিদায় নিয়েছে প্রোটিয়ারা।

এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক এই 'চোকার' নামটা কিভাবে তারা অর্জন (!) করে নিয়েছে তার হাইলাইট।

১৯৯২ বিশ্বকাপ, সেমি-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড :

বৃষ্টি নামার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ১৩ বলে ২২ রান। ডি/এল মেথড অ্যাকশনে আসে। খেলা শুরু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেওয়া হয় ১ বলে ২২ রানের টার্গেট। টেকিনক্যালি দক্ষিণ আফ্রিকার দোষ এখানে ছিল না। কিন্তু 'চোক' এর শুরুটা এখানেই।

১৯৯৫ বিশ্বকাপ, কোয়ার্টার-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ :

৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ২৬৫ রান। দারুণ শুরু। ৩ উইকেটে উঠে আসে ১৮৬। কিন্তু এরপর? শেষ ৭ উইকেট ৫৯ রানের মধ্যে হারিয়ে ম্যাচটা হেরে বসলো অসম্ভব উপায়ে! এই ম্যাচের আগে টানা ১০ ম্যাচ জিতেছিল প্রোটিয়ারা। তাদের ফর্মের কাছে লক্ষ্যের রানটা কোনো ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু 'চোক' করে তারা।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ, সেমি-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া :

শেষ ওভারে ৯ রান করলেই ফাইনাল! প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি। শেষ চার বলে ১ রান দরকার। এ আর এমন কি! কিন্তু আসলে এমন কি নয়। 'চোকার' দক্ষিণ আফ্রিকা ভৌতিক কাণ্ডের শিকার ওখানে। রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝির শিকার দুই ব্যাটসম্যান, তাতে রান আউট। ম্যাচ টাই। পেছনের হিসেবে এগিয়ে থাকায় অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে।

২০০৩ বিশ্বকাপ, গ্রুপর্বের ম্যাচ, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা :

আবার দক্ষিণ আফ্রিকার কপাল পোড়ে বৃষ্টিতে। তাতে অবশ্য হিসেবের গড়মিলও ছিল। আর ছিল স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান মার্ক বাউচারকে দেওয়া ভুল বার্তা। মুত্তিয়া মুরালিধরন বোলার। ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে বাউচার ভাবলেন তার কাজ শেষ। জয়োৎসব সেরে নেন। ধরে নেন দল সুপার সিক্সে। শেষ বলটা আলস্যে খেলেন। রান নেন না। ওখানে খেলা থামে। ডি/এল মেথডে ম্যাচ টাই। লিগ পর্বের অপেক্ষাকৃত ভালো পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কা পরের পর্বে। নিজের দেশের আসরে কান্নাই সঙ্গী প্রোটিয়াদের।

২০০৭ বিশ্বকাপ, সেমি-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া :

দারুণ দলটা মাত্র ১৪৯ রানেই অল আউট এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার সেটি জয় করতে কষ্ট হয়নি মোটে।

২০১১ বিশ্বকাপ, কোয়ার্টার-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড :

২২২ রান তাড়া করে ২ উইকেটে ১০৮ রান। ভালো। খুবই ভালো। কিন্তু চোকার দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্যে এমন ম্যাচে ভেঙে পড়াই ছিল। ৬৪ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে শেষ তারা।

২০১৫ বিশ্বকাপ, সেমি-ফাইনাল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড :

৪৩ ওভারে লড়ার মতো ২৮১ রানের পুঁজি দক্ষিণ আফ্রিকার। ওটা আবারও বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ। ডি/এল তত্ত্বে ৪৩ ওভারেই নিউজিল্যান্ডের টার্গেট দাঁড়ায় ২৯৮। শেষ ওভার পর্যন্ত যায় সে ম্যাচ। শেষ ২ বলে ৬ রান দরকার নিউজিল্যান্ডের। ডেল স্টেইনকে ছক্কা হাঁকিয়ে আবার দক্ষিণ আফ্রিকানদের চোকার বানিয়ে দেন গ্র্যান্ট ইলিয়ট।

ক্যাট

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





আলোচিত সংবাদ